প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: লক্ষ্মীর ভাণ্ডার (Lakshmir Bhandar) নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা উঠতেই নড়ে চড়ে বসল প্রশাসন! অবশেষে বিজেপির দখলে থাকা গ্রাম পঞ্চায়েতের মহিলাদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা চালু করল মমতা সরকার। জানা গিয়েছে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না বিধানসভার অন্তর্গত ময়না ব্লকের বাকচা গ্রাম পঞ্চায়েত ও গোজিনা গ্রাম পঞ্চায়েত বিজেপির দখলে রয়েছে। এই অবস্থায় নিহত ৬ মাস ধরে এলাকার মহিলারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাচ্ছে না। হাইকোর্টে এই মামলা উঠল রাজ্যের আইনজীবী জানান, তাঁদের অ্যাকাউন্টে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাঠানো হয়েছে ৷
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে হাইকোর্টে মামলা
উল্লেখ্য, রাজ্যের মহিলাদেরকে যাতে অন্যের কাছে হাত খরচের জন্য টাকা চাইতে না হয়, সেই কারণে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মহিলাদের জন্য চালু করেছিলেন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প। কিন্তু সেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না বিধানসভার অন্তর্গত বাগচা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় উঠে এসেছিল এক গুরুতর অভিযোগ। অভিযোগ ৬ মাস ধরে বন্ধ লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাচ্ছেন না সাত হাজারের বেশি উপভোক্তা। তাই সেই অভিযোগ নিয়ে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছিলেন পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যা সুনিতা মণ্ডল সাহু ৷
মামলাকারীর গুরুতর অভিযোগ
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে দায়ের করা জনস্বার্থ মামলা প্রসঙ্গে মামলাকারী সুনীতা মণ্ডল সাহুর অভিযোগ রাজ্যের সর্বত্র মহিলারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছেন। কিন্তু যেহেতু বাগচা গ্রাম পঞ্চায়েত ও গোজিনা গ্রাম পঞ্চায়েত বিজেপির দখলে তাই সেখানকার মহিলা নাগরিকরা পাচ্ছে না কোনো সরকারি প্রকল্পের টাকা। আর এই দ্বিচারিতার কারণে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের এজলাসে মামলা করা হয়। আর সেই মামলায় এবার হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ দায়ের করা জনস্বার্থ মামলার কারনে যেন আইননানুযায়ী এই প্রকল্পের টাকা দেওয়া বন্ধ না হয়।
রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের
লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের এই বঞ্চনার অভিযোগ উঠতেই রাজ্য সরকার যে অবগত, তা এজলাসে জানিয়েছেন সরকার পক্ষের আইনজীবী অমল সেন। তিনি জানিয়েছিলেন, ‘নারী ও শিশু কল্যাণ দফতর এই টাকা দিয়ে থাকে। সেখানে কিছু অভিযোগ জমা পড়েছে, অনুসন্ধানও শুরু হয়েছে। আদালতেও রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে। কিন্তু একটু সময় প্রয়োজন।’ এরপরেই কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি চৈতালি চট্টোপাধ্যায় দাসের ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্যকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল, ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হাইকোর্টে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বঞ্চনা সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার। এবং এই বলা হয়েছিল যে এই মামলার জন্য যেন কোনও ভাবেই প্রকল্পের টাকা বন্ধ রাখা না হয়।
আরও পড়ুন: ‘এলাহি’ আয়োজন ভোটকর্মীদের জন্য! ৪৯ পদের মেনুতে টেন্ডার ডাকা হল পূর্ব বর্ধমানে
নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, গত কয়েকমাস কেন টাকা বন্ধ রাখা হয়েছিল, তা তিন সপ্তাহের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিয়ে আদালতকে জানাতে তাই গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার রাজ্য রিপোর্ট দিয়েছে আদালতে। এবং এর পরেই বিজেপির দখলে থাকা গ্রাম পঞ্চায়েতের মহিলাদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা চালু করল প্রশাসন। প্রসঙ্গত, শাসকদলের কাছে ভোটে জেতার তুরুপের তাস হয়ে উঠেছে, এই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। অথচ, ভোটের মুখে সেই প্রকল্পেই বহু মহিলার অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকেনি বলে অভিযোগ। অবশেষে স্বস্তি পেল মামলাকারীরা।












