প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: আগামী আর কয়েকদিনের মধ্যেই রাজ্যে শুরু হতে চলেছে বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026)। তাই সময় নস্ট না করে এখন থেকেই ভোট প্রচারের ময়দানে নেমে পড়েছে শাসকদল থেকে শুরু করে বিরোধীরা। এদিকে ভোটের প্রচারে আজ, মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গে গেলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি (Mamata Banerjee)। কিন্তু তার আগেই কলকাতা বিমানবন্দরে এক চাঞ্চল্যকর নথি নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে (Election Commission Of India) রীতিমত বিঁধলেন নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কমিশনকে ফের বিঁধলেন মমতা
রিপোর্ট মোতাবেক, আজ মঙ্গলবার কলকাতা বিমানবন্দরে রীতিমতো বিস্ফোরক দাবি তুলে ধরলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ নয়। কমিশনের নোটিফিকেশনে বিজেপির সিম্বল রয়েছে। কমিশনের লেটারহেডে রয়েছে বিজেপির স্ট্যাম্প।’ এর সঙ্গে তিনি তাঁর কথার স্বপক্ষে প্রমাণস্বরূপ একটি কাগজ দেখান। মমতা বলেন, ‘‘কমিশনের কাগজে বিজেপি পার্টির স্ট্যাম্প। বিজেপির চিহ্ন। পিছন থেকে খেলছেন কেন? সামনে এসে খেলুন। আর এটা ক্লারিক্যাল মিস্টেক, না রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত?’’
In a shocking revelation that lays bare the deep nexus between @BJP4India and @ecisveep, the Commission’s official notification has brazenly featured the Bharatiya Janata Party’s electoral symbol. The question that now echoes across the nation is clear: whose order is the… pic.twitter.com/pUaamQh3Yv
— All India Trinamool Congress (@AITCofficial) March 24, 2026
বিজেপির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক মমতার
সোমবার বেশি রাতে কেন এসআইআরের তালিকা প্রকাশ হল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘‘তালিকা বার করতে এত ভয় কেন? তা হলে কি তালিকায় স্বচ্ছতা নেই? কেন মধ্যরাতে তালিকা প্রকাশ করা হল? বিচারকেরা তো ছ’দিন আগে কাজ শেষ করে দিয়েছিলেন। তার পরেও দেরি কেন? এক তরফা কোনও পার্টির নাম ঢুকিয়েছেন?’’ এরপরই তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে সমস্ত দলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘বাম-ডান ভুলে যান। যাঁরা এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে, তাঁরা সবাই এক জোট হোন। আমার পাশে থাকার দরকার নেই। মানুষের পাশে থাকুন।’’
আরও পড়ুন: ইডির এক্তিয়ার নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে বিতর্ক! তীব্র সওয়াল কপিল সিব্বলের
প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশনের চিঠিতে বিজেপির সিল নিয়ে এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে কমিশনকে নিশানা করেছিলেন তৃণমূলের ‘সেনাপতি’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বিষয়টি প্রথম সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ্যে আনে সিপিএমের কেরল শাখা। কেরলের শাসক দলের অভিযোগ, ‘সিল প্রকাশ্যেই বদলে ফেলা হচ্ছে’। এদিকে এই অভিযোগকে সমর্থন করেছে কংগ্রেস এবং তৃণমূল। বাংলার শাসক দলের সাংসদ মহুয়া মৈত্র কটাক্ষ করে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন অবশেষে বিজেপির সিল-সহ সরকারি চিঠি জারি করার সাহস পেয়েছে।’ যদিও বিতর্ক সামনে আসার পর নির্বাচন কমিশন জানায়, চিঠিতে বিজেপির সিল থাকা ছিল সম্পূর্ণভাবে একটি ‘ক্লারিকাল এরর’। তাই এক সহকারী সেকশন অফিসারকে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সাসপেন্ড করা হয়েছে।












