মনোনয়নেই মেগা শো মমতার, এবার ভবানীপুরে শক্তি প্রদর্শনের পালা তৃণমূলের

Published:

Mamata Banerjee

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: হাতে আর মাত্র কয়েকটা দিন, এরপরেই রাজ্যে দুই দফায় শুরু হতে চলেছে বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026)। একে একে প্রতিটি কেন্দ্রে প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দিচ্ছেন। বঙ্গ বিজেপিও বাংলা দখলের লড়াইয়ে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তাইতো প্রার্থীদের সাহস জোগাতে রীতিমত দিল্লি থেকে হেভিওয়েট নেতারা আসছেন নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে। এদিকে কম যাচ্ছে না তৃণমূল (Trinamool Congress)। প্রার্থীদের জন্য উত্তর থেকে দক্ষিণে ছুটে চলেছেন মমতা এবং অভিষেক। এমতাবস্থায় আজ ভবানীপুরে তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) মনোনয়ন জমা দিতে চলেছেন। আর তাতেই তুঙ্গে চর্চা রাজ্য জুড়ে।

মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী

গত সপ্তাহেই ভবানীপুরে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। সেই সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। হুঙ্কার দিয়ে সেখানকার বাসিন্দাদের জানিয়েছিলেন, “আমাদের ১৭০টি আসন জেতার দরকার নেই, শুধু শুভেন্দু বাবু যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভবানীপুরে হারিয়ে দেন, তবে পরিবর্তন নিজে থেকেই আসবে।” তাই সেই হিসেবে সকলের নজরে এখন ভবানীপুর সবথেকে বড় ‘মর্যাদার লড়াই’-এ পরিণত হয়েছে তৃণমূলের তরফে। খবর সূত্রে জানা গিয়েছে, আজ ভবানীপুরের বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র জমা দেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বর্ণাঢ্য মিছিল করে মনোনয়ন জমা

রিপোর্ট অনুযায়ী, আজ, বুধবার, সকাল ১০:৩০ নাগাদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়ি থেকে রওনা দিলেন আলিপুরের সার্ভে বিল্ডিং-এর উদ্দেশে। বর্ণাঢ্য মিছিল হবে। উপস্থিত রয়েছেন ভবানীপুর বিধানসভার অন্তর্ভুক্ত সব কাউন্সিলররা। এছাড়াও মনোনয়ন জমা দেওয়ার জন্য হাজির হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক শীর্ষ নেতা। লক্ষ্য একটাই বিজেপির ‘উগ্র হিন্দুত্বের’ রাজনীতির পাল্টা বাংলার ‘ধর্মনিরপেক্ষ ও মিশ্র সংস্কৃতির’ শক্তি প্রদর্শন করা। এবারের নির্বাচনে ভবানীপুরের প্রার্থীর জন্য তৃণমূলের স্লোগান, ‘উন্নয়ন আজ ঘরে ঘরে, ঘরের মেয়ে ভবানীপুরে’।

আরও পড়ুন: নাম বাদ পড়লে কীভাবে করবেন ট্রাইবুনালে আবেদন? জানালেন নদিয়ার জেলাশাসক

তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, ভবানীপুর আসলে একটি ‘মিনি ইন্ডিয়া’। বাংলা যে কেবল বাঙালির নয়, বরং সর্বভারতীয় ও সর্বধর্মসমন্বয়ের এক অনন্য মিলনস্থল, সেই বার্তাই গোটা দেশের কাছে পৌঁছে দিতে চাইছে তৃণমূল নেতৃত্ব। মূলত বিজেপির বিভাজনের রাজনীতির পাল্টা হিসেবেই ভবানীপুরের এই মিশ্র সংস্কৃতিকে ঢাল করতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উল্লেখ্য, এই কেন্দ্রের মোট ভোটারের ৪২ শতাংশ বাঙালি হিন্দু, ৩৪ শতাংশ অবাঙালি এবং ২৪ শতাংশ মুসলিম। এখন দেখার দীর্ঘ তিন দশকের রাজনৈতিক গড় রক্ষায় মমতার এই ‘মিনি ইন্ডিয়া’ মডেল কতটা সফল হয়।

google button