কমিশনকে ‘তুঘলকি’ বলে কটাক্ষ! নবান্ন থেকে একের পর এক তোপ মমতার

Published:

Mamata Banerjee
Follow

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে SIR বা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন কর্মসূচিকে ঘিরে একের পর এক বিতর্ক উঠে আসছে। শুরু থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে এনেছেন। শুধু তাই নয়, মমতার দায়ের করা SIR মামলার জল গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। যা এখনও বিচারাধীন। এমতাবস্থায় নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠকে নির্বাচন কমিশনকে ফের একবার তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সঙ্গে আক্রমণ শানালেন বিজেপিকেও।

সাংবাদিক বৈঠকে মমতা

রিপোর্ট মোতাবেক, আজ অর্থাৎ মঙ্গলবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে প্রথম থেকেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কমিশনকে ‘তুঘলকি কমিশন’ বলেও কটাক্ষ করেন তিনি। তার পরেই সাসপেন্ড হওয়া সাত আধিকারিকদের নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে দিলেন মমতা। তিনি বলেন, ‘‘সাত এইআরও কে সাসপেন্ড করে দিলেন। কারণ কী? তাঁদের কাছে অপরাধ একবারও জানতে চেয়েছেন? এই তুঘলকি কমিশন কতগুলো হোয়াটস অ্যাপ দিয়েছে? ব্রেকফাস্ট-লাঞ্চ-ডিনারে খালি হোয়াটস অ্যাপ। পুরোটাই বেআইনি। অনেকগুলো কমিশন দেখেছি। এরকম তুঘলকি কমিশন দেখিনি।” তিনি স্পষ্ট জানান, তাঁরা চাকরিচ্যুত হচ্ছেন না। নির্বাচনের কাজে থাকবেন না। তবে জেলায় ভাল কাজ করবেন।

সাসপেন্ড করা হল সাত আধিকারিককে

উল্লেখ্য, গতকাল, সোমবার, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং পূর্বের দুই এইআরও সত্যজিৎ দাস এবং জয়দীপ কুন্ডু, জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়ির এইআরও ডালিয়া রায়চৌধুরী, মুর্শিদাবাদের সমশেরগঞ্জের এইআরও শেফাউর রহমান, ফরাক্কার এইআরও নীতীশ‌ দাস, সুতির এইআরও শেখ মুর্শিদ আলম এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরার এইআরও দেবাশিস বিশ্বাসকে সাসপেন্ড করে দেয় কমিশন। পাশাপাশি, এইআরও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে তাঁদের। এই ঘটনায় তাই স্পষ্ট জবাব দেন মমতা। এছাড়াও নির্বাচন কমিশনকে টার্গেট করে বলেন যে, “একজন বিজেপি কন‍্যা AI করে ৫৮ লক্ষ ভোটারকে বাতিল করে দিলেন। অনেক আসল ভোটারআছে। দু’নম্বরি চলছে। কোন ভোটার জোচ্চুরি করার কাজ চলছে।

আরও পড়ুন: অভিষেকের হাত ধরেই তৃণমূলে যোগ দেবেন প্রতীকউর রহমান? তুঙ্গে জল্পনা

বিজেপিকে নিশানা মমতার

SIR হিয়ারিং প্রসঙ্গে কমিশনকে তোপ দেগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “কমিশন জানিয়েছিল যে বিহারে যদি SIR শুনানি হয় তাহলে এখানেও হিয়ারিং হবে। যদি এটাই হয় তাহলে ১৪ তারিখও শুনানি হওয়ার কথা ছিল। ওই দিন তিনটে নাগাদা কেন ব্লক করে দিলেন? লক্ষ মানুষের নাম আটকে গেল। ১৪ তারিখে কেউ মারা গেলে তাহলে ১৬ তারিখে এসে চিকিৎসক কী দেখবে ? জ্যান্ত মানুষ না চিতা? ওরা সুপ্রিম কোর্টের অর্ডারও মানেনি।” অন্যদিকে বিজেপিকে নিশানা করে মমতা বলেন, “উত্তরবঙ্গকে ভাগ করতে পাঠিয়েছিলেন তো। ভাবেন কী আমরা খোঁজ রাখি না? আমরা পেগাসাস করি না। বেটি বাঁচাওয়ের টাকা কোথায় গেল? অত্যাচার বাড়তে বাড়তে সব সীমা লঙ্ঘণ করেছে। সোজা আঙুলে ঘি না ওঠে, ব্যাকা আঙুলে ঘি তুলতে হবে।”

গুরুত্বপূর্ণ খবর পড়তে জয়েন করুন Join Now