প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনকে (West Bengal Election 2026) ঘিরে যুদ্ধের আবহ তৈরি হয়েছে রাজ্য জুড়ে। একদিকে বিজেপি প্রচারে নেমে তৃণমূলকে কটাক্ষ করছে। অন্যদিকে তৃণমূলও পাল্টা কেন্দ্রকে টার্গেট করছে। এমতাবস্থায় আজ, মঙ্গলবার, হাবড়ার (Habra) বাণীপুরে ড. বি. আর. আম্বেদকর মাঠের জনসভা থেকে সেখানকার দলীয় প্রার্থী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের (Jyotipriya Mallick) সমর্থনে এলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। আর সেখানেই রেশন দুর্নীতি কাণ্ডে বালুকে গ্রেপ্তার করা নিয়ে মুখ খোলেন মমতা।
রেশন কাণ্ডে গ্রেফতার হয়েছিলেন জ্যোতিপ্রিয়
উল্লেখ্য, রেশন দুর্নীতি মামলায় ২০২৩ সালের ২৭ অক্টোবর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। একাধিক জিজ্ঞাসাবাদ, তদন্ত এসবের মাঝে এক বছর দু’মাস জেলে থাকার পর জামিনে মুক্তি পান তিনি। এদিকে জেলযাত্রার কারণে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর নিজের বিধানসভা কেন্দ্র হাবড়ায় পরিষেবা দেওয়ার পাশাপাশি বিধানসভার অধিবেশনে নিয়মিত যোগদান করতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। সবশেষে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে হাবড়া বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করানো হয় জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে। এবার সেই নিয়ে মুখ খুললেন মমতা।
ক্ষোভ প্রকাশ মমতার
রিপোর্ট মোতাবেক, আজ, হাবড়ায় সভার শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের গ্রেপ্তারি প্রসঙ্গে গর্জে উঠেছিলেন। তিনি বলেন, “বালুর নামে বদনাম করা হচ্ছে। জেনে রাখুন, আমার গভর্নমেন্টে বালু যত ভালো কাজ করেছে, তা কেউ করতে পারেনি। ওকে হিংসে করে গ্রেপ্তার করানো হয়েছিল। কোনও প্রমাণ ওর বিরুদ্ধে পাওয়া যায়নি।” মমতার আরও সংযোজন, “বাম আমলে আগে রেশনের পণ্য পাচার হত এবং প্রায় দেড় লক্ষ ভুয়ো রেশন কার্ড ছিল। বালু সেই চুরি ধরেছিলেন বলে এবং ডিজিটাল রেশন কার্ডের মতো কঠিন কাজ সম্পন্ন করেছিলেন বলেই কেন্দ্রীয় এজেন্সি তাঁকে ‘ভুয়ো’ মামলায় ফাঁসিয়েছিল।”
হাবড়ার জনসভা থেকে যে শুধু বিপক্ষীয় রাজনৈতিক দলগুলিকে টার্গেট করেছিলেন মমতা তা নয় এর সঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন বা SIR নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সমালোচনা করেন তিনি। বদলা নেওয়ার ডাক দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যারা আজ সিপিএম করে, তারা আজ বিজেপি করে। কংগ্রেস, বিজেপি, সিপিএম—এই তিন দলই এখন এক হয়ে গিয়েছে। কারও কথা শুনে, কুৎসা-অপপ্রচার শুনে ভোট দেবেন না। বালুর নামে কুৎসা করছে শুনছি। এর জবাব দিতে হবে আপনাদের। তাই উত্তর ২৪ পরগনার মানুষকে অপমানের যোগ্য জবাব দিতে তৃণমূল প্রার্থীকে জয়ী করতেই হবে আপনাদের।”












