কীভাবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের জন্ম? জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা

Published:

Mamata Banerjee

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: চতুর্থবার সরকার গঠনের লক্ষ্যে উঠে পড়ে লাগল শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। বিধানসভা নির্বাচনকে (West Bengal Election 2026) কেন্দ্র করে উত্তর থেকে দক্ষিণ চারদিকে প্রার্থীদের সমর্থন করার জন্য জেলায় জেলায় সভা করে চলেছেন মমতা অভিষেক। আজও বড়ঞার প্রার্থী সমর্থনে জনসভা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। আর সেখানেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প চালুর নেপথ্যের কারণ তুলে ধরলেন সকলের সামনে।

বড়ঞায় এলেন মমতা

রিপোর্ট মোতাবেক, আজ অর্থাৎ বুধবার, বড়ঞার তৃণমূল প্রার্থী প্রতিমা রজককের সমর্থনে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সভা করতে আসেন ডাকবাংলা কিষান মান্ডি মাঠে। সেখানে মুর্শিদাবাদের জন্য তাঁর বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ তুলে ধরেন। শুধু তাই নয়, ভাগীরথীর ভাঙন নিয়ে কেন্দ্রকে নিশানা করেন মমতা। এবং সাধারণ জনগণদের প্রতিশ্রুতি দেন যে রাজ্যের তরফে ড্রেজিং-সহ সংস্কারের কাজ হবে বলে ভোটের পরেই। এছাড়াও এদিন জনসভায় বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের কথা বলতে গিয়ে কেন তিনি লক্ষ্মীর ভান্ডারের মতো প্রকল্প মহিলাদের জন্য নিয়ে এসেছে সেই নিয়ে বড় তথ্য ফাঁস করলেন সকলের সামনে।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে কী বললেন মমতা?

মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “২০১৬-তে নোটবন্দির সময় লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের কথা মনে এসেছিল। কারণ, সংসার চালাতে গৃহকর্ত্রীরা সেই সময় প্রচণ্ড অসুবিধার মধ্যে পড়েছে।” এরপরই নিজের পরিবারের উদাহরণ টানেন মুখ্যমন্ত্রী, বলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ। তিনি জানান, “নোটবন্দির সময় বিরোধিতা করেছিলাম। বলেছিলাম, এতে মানুষের ক্ষতি হবে। আমার কাছে সেই সময় একদিন অভিষেকের মা ছুটে এল। ও আমার কাছেই থাকে। আমাকে বলল, ‘দিদি, দিদি! ৫০০ টাকা দেবে?’ আমি বললাম কেন? ও বলল, ‘সব টাকা তো জমা করে দিতে হবে। এ টাকা তো চলবে না। তা হলে আমি বাজার করব কী করে?’’

কেন চালু করেছিলেন এই প্রকল্প?

সভায় দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে বলেন যে, ‘‘মা-বোনেদের দুঃসময়ের পুঁজি কেড়ে নেওয়া হয়েছে। একটি মেয়ে সে বেঙ্গালুরুতে থাকে। তার বাড়ির একজন আমাদের কাছে থাকে। সে-ও বলেছিল, ১০০টা টাকা দেবে? আমি সে দিনই ঠিক করেছিলাম লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের কথা। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার মা বোনেদের উপহার। আমার নিজেরও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার আছে। তাতে পাঁচ টাকা, দশ টাকা করে জমা করি প্রতিদিন। কালীপুজোর সময় হলে একটা কিছু মাকে দিই।’’ আসলে তিনি এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিরোধীদের একতরফা ভাবে বুঝিয়ে দিলেন যে, সাধারণ ঘরের বেকার মেয়েদের কাছে মাসিক পাঁচশো-হাজার টাকার সঞ্চয় ঠিক কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন: এপ্রিলে মিলবে না লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা? প্রকাশ্যে এল বড় আপডেট

বড়ঞার সভায় আলুচাষিদের উদ্দেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘মিড ডে মিলের জন্য আমরা আলু কিনে নেব। আপনারা অন্যত্র বিক্রি করতে পারেন। ক্ষতির অর্থ সরকার দেবে।’’ বিজেপিকে নিশানা করেন সাম্প্রতিক হিংসার জন্য। এমনকি অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতেও বিজেপিকে নিশানা করেন তিনি। মমতা বলেন, “আমরা ধর্মের নাম করে হানাহানির কথা বলি না। আর অনুপ্রবেশ তুমি চুপি চুপি ছুপারুস্তমের মতো লোক ঢোকাও নিজের স্বার্থে। এই জোড়াফুলটাকে মনে রাখবেন। জোড়াফুল জিতলে আমাদের সরকার আসবে। আপনার লক্ষ্মীর ভান্ডার চলবে। কন্যাশ্রী চলবে। ঐক্যশ্রী চলবে। শিক্ষাশ্রী চলবে। কৃষক বন্ধু চলবে। সমস্ত উন্নয়ন চলবে।”

google button