৬০০ দিন হাসপাতালে থেকে জীবন যুদ্ধে হার, প্রয়াত রাজনীতির চাণক্য মুকুল রায়

Published:

Mukul Roy Passes Away
Follow

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: নির্বাচনের আবহে প্রয়াত বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মুকুল রায় (Mukul Roy Passes Away)। জানা গিয়েছে, আজ অর্থাৎ সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি রাত দেড়টা নাগাদ কলকাতার অ্যাপোলো হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। খবর প্রকাশ্যে আসা মাত্রই শোকের ছায়া রাজনৈতিক মহলে। তাঁর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন নেতা মন্ত্রীরা।

প্রয়াত মুকুল রায়

বিগত বেশ কয়েক মাস ধরেই অসুস্থ ছিলেন মুকুল রায়। পুত্র শুভ্রাংশু রায় জানান যে, মুকুল্বাবু টানা ৬০০ দিন হাসপাতালে ছিলেন। শেষ পর্যন্ত সব চেষ্টাই বৃথা হয়ে যায়। গতকাল রাত দেড়টা নাগাদ প্রয়াত হন মুকুল রায়। তাঁর পুত্র শুভ্রাংশু রায়ের তরফেই এই খবর জানানো হয়েছে। পরিবার সূত্রে খবর, অ্যাপোলো হাসপাতাল থেকে মুকুল রায়ের মৃতদেহ নিয়ে আসা হবে তাঁর কাঁচড়াপাড়ার বাড়িতে।

তৃণমূলের চাণক্য থেকে বিজেপি বিধায়ক মুকুল

মুকুল রায়ের রাজনৈতিক জীবন ছিল বড়ই বিচিত্র। একসময়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড বলেই পরিচিত ছিলেন তিনি। তৃণমূল প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই নেপথ্যে থেকে নীতি নির্ধারণ করতেন মুকুল রায়, তাইতো দলের তাঁকে চাণক্যও বলতেন। কিন্তু দলের সঙ্গে বেশিদিন নিজেকে জড়িয়ে রাখতে পারেননি। তৃণমূল তৈরির দু’দশকের মাথায় দল ছাড়েন। জোড়াফুল শিবির ছাড়ার ঘোষণা করে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেন মুকুল রায়। এরপর ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে বিজেপি তাঁকে কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্রে প্রার্থী করলে তিনি বিপুল ভোট অধিগ্রহণ করে বিধায়ক পদে বসেন। কিন্তু জেতার মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই ২০২১ সালের ১১ জুন ফের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে তৃণমূলের অফিসে দেখা যায় মুকুল রায়কে।

কৃষ্ণনগর উত্তরের বিধায়ক পদেই ছিলেন শেষে

শেষের দিকে মুকুল রায়ের রাজনৈতিক জীবন নিয়ে নানা চর্চা শুরু হতে থাকে। কখনও তৃণমূল কখনও বিজেপি কোনো ঠিক ঠিকানা ছিল না। এমনকি শেষে মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজের দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন শুভেন্দু অধিকারী। গত বছরের ১৩ নভেম্বর, মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজ করে দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। শেষে এই রায়কে মুকুল পুত্র শুভ্রাংশু রায় চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে গেলে সেখানে এই রায় স্থগিত করে দেওয়া হয়েছিল। ফলে জীবনের শেষদিন পর্যন্ত কৃষ্ণনগর উত্তরের বিধায়ক পদেই ছিলেন মুকুল রায়।

আরও পড়ুন: বছরে ১৭০ বিলিয়নের বেশি ট্রানজেকশন, বিশ্বরেকর্ড ভারতের UPI-র

বাবার প্রয়াণে মুকুল পুত্র শুভ্রাংশু রায় বলেন, “প্রচুর লড়াই করেছিলেন বাবা। কিন্তু শেষ যুদ্ধটা আর জিতে উঠতে পারলেন না। বড্ড কষ্ট পাচ্ছিলেন। আমার বাবা আমার মায়ের কাছে চলে গেলেন।” এছাড়াও শুভ্রাংশু রায় জানিয়েছেন, বাবার মধ্যরাতে প্রয়াণের খবর পাওয়ায় সঙ্গে সঙ্গে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হয়নি। তবে আজ সকালে দলের নেতা ও ঘনিষ্ঠ মহলে খবর দেওয়া হয়েছে। সকলের সঙ্গে আলোচনা করে এবং দলীয় পরামর্শ মেনেই তাঁর অন্তিম যাত্রার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

গুরুত্বপূর্ণ খবর পড়তে জয়েন করুন Join Now