প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাজ্যে এখনও বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়নি। কে কাকে কোন আসনে প্রার্থী করবে, তা নিয়েও কিছু প্রকাশ্যে আসেনি, এই অবস্থায় এখন থেকেই ভোট প্রচারের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত শাসকদল থেকে শুরু করে বিরোধীরা। এই অবস্থায় আজ ভোরে উত্তর হাওড়ায় ঘটে গেল এক ভয়ংকর ঘটনা। রাস্তায় এক প্রোমোটারকে (Promoter Shootout In Howrah) গুলি করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে পিলখানায়। ভোটের আবহে এই ঘটনায় ঝড় উঠেছে রাজ্য রাজনীতিতে। অভিযোগ উঠছে ঘটনায় অভিযুক্তের সঙ্গে নাকি রয়েছে তৃণমূলের যোগ।
অভিযুক্তের সঙ্গে রয়েছে তৃণমূলের যোগ
পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, আজ অর্থাৎ বুধবার, ভোর ৪টে ১০ নাগাদ হাওড়ার গোলাবাড়ির পিলখানায় ২৭ বছরের বাসিন্দা প্রোমোটার সফিক খানকে ২ আততায়ী পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে ৪ রাউন্ড গুলি করে। প্রকাশ্যে এসেছে সেই সিসিটিভি ফুটেজ, আর সেখানেই অভিযুক্তদের শনাক্ত করেছে প্রত্যক্ষদর্শীরা। জানা গিয়েছে, ওই দুই অভিযুক্ত হলেন মহম্মদ হারুন খান ও রোহিত। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন হারুনের সঙ্গে তৃণমূলের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে, শুধু তাই নয় তাঁর বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন দুষ্কর্মের অভিযোগ উঠেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে যে, উত্তর হাওড়ার তৃণমূল বিধায়ক গৌতম চৌধুরীর বিভিন্ন প্রচারের তাঁর সঙ্গেই ছিলেন হারুন খান। একই অভিযোগ তুলছে বিজেপি।
কী বলছেন বিধায়ক গৌতম চৌধুরী?
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যখন উত্তেজনার পারদ চড়ছে উত্তর হাওড়ায়। তখ। এই প্রসঙ্গে তৃণমূল বিধায়ক গৌতম চৌধুরী বলেন, “আমরা জনপ্রতিনিধি। আমাদের সামাজিক কাজ করতে বিভিন্ন জায়গায় যেতে হয়। কিন্তু দায়িত্ব নিয়ে বলছি, এ মাটি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাটি। যারা ক্রিমিনাল, যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তারা জেলে যাবে। সময়ের অপেক্ষায় রয়েছি আমরা। আমি এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি।” অভিযুক্তকে প্রচারের সময় বিধায়কের সঙ্গে দেখতে পাওয়ায় প্রশ্ন উঠতেই গৌতম বাবু জানান, “ আমরা জনপ্রতিনিধি। এলাকায় ঘুরে বেড়াই। প্রচুর মানুষ আমাদের কাছে আসে। ছবি তোলে। আপনার কাছে কেউ গেল। তারপর বেরিয়ে কোনও দুর্ঘটনা ঘটাল, তাহলে কি আপনি যুক্ত হবেন?”
আরও পড়ুন: রাজ্য সরকারের কর্মকর্তার বাড়ি থেকে উদ্ধার নগদ ৪ কোটি সহ প্রচুর সোনা
প্রসঙ্গত, খুনের ঘটনায় অভিযুক্তের তৃণমূল যোগকে উড়িয়ে দিয়ে বিধায়ক গৌতম চৌধুরী নানা যুক্তি দিলেও শাসকদলকেই টার্গেট করল গেরুয়া শিবির। বিজেপি মুখপাত্র জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “এখন পশ্চিমবঙ্গে যা কিছু অপকর্ম, তার সঙ্গে তৃণমূল যুক্ত। আপনারা হারুন শেখের কথা বলছেন, একটু তদন্তে করে দেখবেন, এর পিছনে পুলিশেরও মদত আছে। তবে ৬০ দিন পর পরিস্থিতি বদলাবে। কারণ, রাজ্যের মানুষ এই সরকারকে বিদায় করবে।””












