প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ভোটের আবহে ফের খবরের শিরোনামে উঠে এল সন্দেশখালির বাদশা শেখ শাহজাহানের (Sheikh Shahjahan) নাম! তাঁর বিরুদ্ধে করা জমি দখল, ভেরি দখল এবং মাছের আমদানি রপ্তানি সংক্রান্ত আর্থিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে ইডির মামলা নিয়ে চার্জশিট গঠনে নয়া মোড়। সামনেই ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন, এই অবস্থায় বঙ্গ রাজনীতিতে একের পর এক উত্তাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ভোট প্রচারে জোর টক্কর লেগেছে বিজেপি এবং তৃণমূলের। আর এই অবস্থায় আপাতত কয়েকদিনের স্বস্তি মিলল সন্দেশখালির বাদশা শেখ শাহজাহানের।
হল না শেখ শাহজাহানের চার্জগঠন
রিপোর্ট মোতাবেক, আগেই সন্দেশখালির বাদশা শেখ শাহজাহান এবং তাঁর অনুগামীরা বিস্তীর্ণ কৃষি জমি এলাকা জোর করে দখল করার অভিযোগ তুলেছিল। শুধু তাই নয় মাছের আমদানি রপ্তানি সংক্রান্ত আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে মামলা করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ED। দাবি করা হয়েছিল শেখ আলমগীর, সিরাজুদ্দিন শেখ, শিবপ্রসাদ হাজরা এবং দিদার বাক্স মোল্লা এই ঘটনায় যুক্ত। এবার তাঁদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের দাবি তুলেছিল ED। কিন্তু আজ অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সেই চার্জ গঠন হল না আদালতে। জানানো হয়েছে আগামী ৯ মার্চ এই মামলা পরবর্তী শুনানির দিনই সম্ভাব্য চার্জগঠন হবে বলে। যার দরুন খানিক স্বস্তি বোধ করল শেখ শাহজাহান।
দুর্নীতি মূলক কাজে নাম উঠেছিল শাহজাহানের
২০২৪ সালের শুরু থেকেই টানা সংবাদ শিরোনামে রয়েছে সন্দেশখালি। দীর্ঘদিন গা ঢাকা দিয়ে থাকার পর অবশেষে ধরা পড়েছেন শেখ শাহজাহান। তারপর থেকে বহু জল বয়ে গিয়েছে সন্দেশখালির উপর দিয়ে। মুখ খুলেছেন সন্দেশখালির মানুষরা। জানিয়েছেন তাঁদের অভিযোগের কথা। উঠে এসেছে জমি দখল সংক্রান্ত বিস্তর অভিযোগ। জমি দখল সংক্রান্ত ওই অভিযোগগুলির তদন্ত শুরু করেছিল ইডি। ২০১৩ সালে শেখ শাজাহান তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করে আগরহাটি গ্রাম পঞ্চায়েত সরবেরিয়ায় উপ-প্রধান হয়েছিলেন। পরে তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের সমর্থনে শেখ শাহজাহান প্রায় ১০০ জনের বেশি দুষ্কৃতীকে নিয়োগ করেছিলেন বিভিন্ন দুর্নীতি মূলক কাজে।
আরও পড়ুন: বিজেপির প্রার্থী হতে চান রিঙ্কু মজুমদার! স্ত্রীর আবেদন নিয়ে মুখ খুললেন দিলীপ ঘোষ
জমি দখল, ভেরি দখল এবং মাছের আমদানি রপ্তানি সংক্রান্ত আর্থিক দুর্নীতি মামলায় শেখ শাহজাহান যে সকল দুষ্কৃতীদের নিয়োগ করেছিলেন, তাঁরা সকলেই শাহজাহানের ঘেরাটোপে থাকতেন। এবং সাধারণ মানুষদের সঙ্গে জোর করে চাঁদাবাজি করত এবং জোর করে তাদের শেখ শাজাহানের আদেশ মেনে চলতে বাধ্য করত। যারা এর বিরোধীতা করেছিল তাদের শারিরিক নির্যাতন, গুরুতর পরিণতি এবং হুমকির সম্মুখীন হতে হয়েছিল। এদিকে দিন যত বাড়ছে পরবর্তীতে শেখ শাহাজাহানের বিরুদ্ধে একাধিক বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ্যে আসছে। যার ফলে তাঁর জামিন পাওয়ার রাস্তা আরও কঠিন হয়ে যাচ্ছে।












