প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: দীর্ঘ রোগভোগের পর অবশেষে না ফেরার দেশে চলে গেলেন রাজ্যের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মুকুল রায় (Mukul Roy Death)। রাত প্রায় দেড়টা নাগাদ সল্টলেকের এক বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ছেলে শুভ্রাংশু বাবার মৃত্যু সংবাদ নিশ্চিত করেছেন। মুকুল রায়ের প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বাবাকে শেষবার বিদায় জানাতে গিয়ে কার্যত ভেঙে পড়েন মুকুল পুত্র, ধরে রাখতে পারেননি আবেগ। জানালেন কিছু হৃদয়বিদারক কথা।
মুকুলের মৃত্যুতে শোকের ছায়া রাজনীতিতে
গত কয়েক বছর ধরে কিডনি-সহ নানা শারীরিক সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ ছিলেন মুকুল রায়। প্রায়ই হাসপাতালে ভর্তি করাতে হত তাঁকে। স্বাস্থ্যের কারণে তাই বহুদিন রাজনীতি থেকে ছিলেন দূরে। কিন্তু আলোচনায় ছিলেন তিনি সব সময়। বেশ কিছুদিন ধরে কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন বঙ্গ রাজনীতির একদা চাণক্য। কোমায় ছিলেন, লড়াই চলছিল প্রতিনিয়তই। কিন্তু আজ অর্থাৎ সোমবার গভীর রাতে সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর। মুকুলের মৃত্যুতে শোকের ছায়া রাজ্য রাজনীতিতে।
বাবার মৃত্যুতে আবেগী শুভ্রাংশু
বাবা মুকুল রায়ের মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত ছেলে শুভ্রাংশু রায়। তিনি জানিয়েছেন, “বাবা ছিলেন রাজনৈতিক অভিভাবক। রাজনৈতিক বন্ধুর মতো। যেটুকু যা শিখেছি সব বাবার কাছেই। জীবনের সব কঠিন সময়ে পাশে পেয়েছি বাবাকে। বড় বড় সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করেছেন বার বার। এ যেন এক অদ্ভুত শূন্যতা।” মৃত্যুর খবর সামনে আসতেই মুকুলের বাড়ির সামনে ভিড় জমাতে শুরু করেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। জানা যাচ্ছে, হাসপাতাল থেকে দেহ বাড়িতে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কাঁচড়াপাড়ার ঘটক রোডের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে দেহ। সেখান থেকে শেষকৃত্যের জন্য নেওয়া হবে হালিশহর শ্মশানে।
আরও পড়ুন: রাস্তা নির্মাণে গাফিলতি! প্রতিবাদ করতেই হাত-পা বেঁধে মহিলাকে মারধর পটাশপুরে
সকালে হাসপাতাল পৌঁছে সাংবাদিকদের সঙ্গে মুখোমুখি হন শুভ্রাংশু রায়। সেখানে তিনি জানান, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ফোন করেছিলেন। তিনিই সব ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। দলের শীর্ষ নেতৃত্বরা খোঁজ নিয়েছেন। আশা করি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ফোন করেছেন। বারোটার সময় বিধানসভায় নিয়ে যাওয়া হবে বাবার দেহ, আর সেখান থেকে কাঁচরাপাড়ার বাড়িতে নিয়ে আসা হবে। তবে এখনও পর্যন্ত বিজেপির তরফ থেকে কেউ যোগাযোগ করেননি।”












