প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: দোরগোড়ায় ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026), তাই জনসংযোগ বৃদ্ধিতে উঠে পড়ে লেগেছে সকল রাজনৈতিক দল। তার উপর বিজেপি ভবানীপুর (Bhowanipore) এবং নন্দীগ্রাম, এই দুই কেন্দ্রের প্রার্থী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীকে দাঁড় করিয়েছে তাই ভোটের আগে প্রচারে ব্যস্ত সময় কাটছে তাঁর। এমতাবস্থায় বুধবার গভীর রাতে হঠাৎই ভবানীপুরে ছুটে যেতে হল বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীকে (Suvendu Adhikari)। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর ছিল যে বাধ্য হয়ে শুভেন্দু অধিকারী ঘটনাস্থল থেকেই কলকাতা পুলিশের কমিশনারকে ফোন করেছিল।
ঠিক কী ঘটেছিল?
রিপোর্ট মোতাবেক, ঘটনাটি ঘটেছে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের আলিপুর থানার অন্তর্গত অরফানগঞ্জ রোড সংলগ্ন এলাকায়। জানা গিয়েছে, ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর নির্বাচনী ক্যাম্প তৈরির কাজ চলছিল সেখানে। তাই বুধবার রাতে ক্যাম্প তৈরির জন্য একটি বাঁশ বোঝাই গাড়ি নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। অভিযোগ তখনই অরফানগঞ্জ রোডের মুখে গাড়িটিকে আটক করে পুলিশ। কেন এই গাড়িটি আটক করে পুলিশ এই নিয়ে ওই রাতেই স্থানীয় বিজেপি সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের বচসা শুরু হয়ে যায়। যার ফলে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শেষে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে হাজির হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী।
পুলিশ কমিশনারকে ফোন শুভেন্দুর
আলিপুরে স্থানীয় বিজেপি এবং পুলিশের বচসার খবর পেয়ে প্রায় মধ্যরাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান বিরোধী দলনেতা তথা আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। মধ্যরাতেই তিনি সরাসরি ঘটনাস্থল থেকেই কলকাতা পুলিশের পুলিশ কমিশনারকে ফোন করেন এবং বিষয়টি Chief Electoral Officer West Bengal দফতরেও জানান। এরপর দুই পক্ষের তরফে ইতিবাচক আশ্বাস পাওয়ার পর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করেন বিজেপি নেতা। অবশেষে পুলিশ বাঁশ বোঝাই গাড়িটিকে ছেড়ে দেয়। এবং ঘটনাস্থল ছেড়ে বেরিয়ে যান শুভেন্দু অধিকারী।
আরও পড়ুন: Truecaller অতীত! ফ্রড কল ধরতে বিশেষ পরিষেবা চালু করছে BSNL
গতকাল, নন্দীগ্রামে ভোট প্রচারে সময় সেখানকার ভোটারদেরকেই নন্দীগ্রামের দায়িত্ব নিতে বললেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে ভবানীপুর নিয়ে মু্খ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হুঁশিয়ারি দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “আমি ভবানীপুর সামলাচ্ছি। আপনারা নন্দীগ্রাম দেখে নিন। মাঝে মাঝে দেখা হবে। ভবানীপুরে কেমনভাবে চড়কি কাটাতে হয়… আমার নাম শুভেন্দু অধিকারী। মেদিনীপুরের ছেলে, ৪৭ সালে স্বাধীনতা পাইনি, ৪২-এই সতীশবাবু বলে দিয়েছিলেন আমরা স্বাধীন তাম্রলিপ্ত সরকার, ঝুকনেওয়ালা নেহি হ্যায়। কালীঘাটের মায়ের আশীর্বাদ নিয়ে নিয়েছি।”
প্রসঙ্গত, এবার রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হতে চলেছে আগামী ২৩ এপ্রিল ও ২৯ এপ্রিল। অর্থাৎ প্রথম দফার ভোটের আর একমাসও বাকি নেই। ইতিমধ্যেই তৃণমূল ২৯১টি আসনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে দিয়েছে। বিজেপিও ধীরে ধীরে তাঁদের প্রার্থী তালিকার নাম ঘোষণা করছে। বামেরাও বেশিরভাগ আসনে প্রার্থীর নাম জানিয়েছে। সবমিলিয়ে রাজনৈতিক দলগুলি জোরকদমে প্রচার শুরু করেছে। এই অবস্থায় আলিপুরে বিজেপির সঙ্গে পুলিশের বচসা ভোটের রাজনীতিতে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে গিয়েছে।












