পক্ষে ১২৮, বিপক্ষে ৯৫! মধ্যরাতে রাজ্যসভায় পাস ওয়াকফ বিল, কবে লাগু আইন?

Published on:

waqf bill

প্রীতি পোদ্দার, নয়া দিল্লি: বুধবার লোকসভায় বিল পাশের পর গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা নাগাদ রাজ্যসভায় ওয়াকফ বিল (Waqf Amendment Bill) নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এদিনেও কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে স্থির করেছিল যে, রাজ্যসভায় ওয়াকফ বিলের উপরে সবমিলিয়ে ৮ ঘণ্টা আলোচনা চলবে। তাই সেই সময়সীমা অনুসারে রাত ৯ টায় আলোচনা শেষ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু লোকসভার মতই এদিন রাজ্যসভার আলোচনা চলল মধ্যরাত পর্যন্ত। সরকার ও বিরোধী পক্ষের অনেক সাংসদই এই আলোচনায় অংশ নেওয়ার সময় বাড়িয়ে দেয় এবং রাত ১টা ১১ মিনিট পর্যন্ত চলে এই আলোচনা। অবশেষে দীর্ঘ ১২ ঘণ্টার বিতর্ক শেষে সংসদীয় ও সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বিলটি পেশ করেন। এবং ভোটাভুটির পর মধ্যরাতেই ভোটের ফল ঘোষণা করা হয়।

গুরুত্বপূর্ণ খবর পড়তে জয়েন করুন Join Now

জানা গিয়েছে এদিন সংসদীয় বিষয়ক এবং সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর প্রথম রাজ্যসভায় এই আলোচনা তথা বিতর্কের সূত্রপাত করেন। তিনি এদিন রাজ্যসভায় দাবি করেন, ওয়াকফ সম্পত্তির অন্যতম লক্ষ্য হল সেই সম্পত্তির মাধ্যমে মুসলিম সমাজের গরিব, মহিলা ও অনাথ শিশুদের উন্নয়ন করা। তুলে ধরেছিলেন সাচার কমিটির রিপোর্ট। যেখানে বলা হয়েছিল, ২০০৬ সালে দেশে ৪.৯ লক্ষ ওয়াকফ সম্পত্তি ছিল, যেখান থেকে বছরে ১২ হাজার কোটি টাকা আয়ের সম্ভাবনা থাকলেও আদতে মিলত মাত্র ১৬৩ কোটি। এরপর ২০১৩ সালে আইনে কিছু পরিবর্তন আনা হলেও আয় খুব একটা বাড়েনি। তবে এই বিল পাশ হলে বিপুল রাজস্ব আদায় হবে বলে দাবি করা হয়েছে।

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর সমর্থন

এদিন রাজ্যসভায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচডি দেবেগৌড়া। দীর্ঘ দিন পরে সংসদে ভাষণ দিতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। তিনিও ওয়াকফ বিল-বিতর্কে অংশ নেন। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর আসনে বসেই ভাষণ দেওয়ার অনুমতি দেন চেয়ারম্যান জগদীপ ধনখড়। সেই সময় দেবেগৌড়া ওয়াকফ বিলকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, ‘‘এই বিল গরিব মুসলিমদের রক্ষা করবে তাঁদেরই ধনী অংশের হাত থেকে। ন্যায়ের স্বার্থে এই নতুন বিল আমাদের সংবিধানের বুনিয়াদি নীতিগুলির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।’’ তিনি আরও বলেন যে, ‘‘ নতুন ওয়াকফ বিল মুসলিমদের ধর্মাচরণে কোনও ভাবেই হস্তক্ষেপ করছে না।’’ অর্থাৎ এদিন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছেন যে দেশে যে বিপুল পরিমাণ ওয়াকফ সম্পত্তি রয়েছে, তার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যেই এই বিল আনা হয়েছে।

বাছায় করা খবর নিজের মোবাইলে পেতে Join Now

বিতর্কিত প্রশ্নের জবাবে রিজিজু

এই বিপুল তর্ক বিতর্কের মাঝেই বিরোধী দলের তরফে প্রশ্ন ওঠে যে নতুন আইনে কেন ওয়াকফ বোর্ডে অমুসলিম সদস্যদের অন্তর্ভুক্তির ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। সে প্রশ্নের জবাবে কিরেন রিজিজু স্পষ্ট বলেন, ‘‘ওয়াকফ বোর্ড একটি বিধিবদ্ধ সংস্থা। একটি বিধিবদ্ধ সংস্থায় শুধু মুসলিমরা থাকবেন, আর কেউ থাকতে পারবেন না, এটা কী ভাবে হবে?’’ এছাড়াও তিনি বলেন, ‘‘বিধিবদ্ধ সংস্থাকে ধর্মনিরপেক্ষ হতে হবে এবং সব ধর্মের প্রতিনিধিত্ব সেখানে থাকা উচিত। তাই ২২ সদস্যের বোর্ডে সর্বোচ্চ চারজন অমুসলিম সদস্য থাকতে পারবেন। ফলে বিল পাশ হয়ে তা আইনে পরিণত হলেও ওয়াকফ বোর্ডে মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠই থাকবেন।” এরপর রাত ১টা ১১ মিনিটে রিজিজুর জবাবি ভাষণ শেষ হওয়ার পরে উপরাষ্ট্রপতি বিল পাশের বিষয়টি বিবেচনার জন্য সভার সম্মতি চান।

আরও পড়ুনঃ ১০ মিলিসেকেন্ডে কাড়বে পাক জঙ্গির প্রাণ! অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে ভয়ানক অস্ত্র ভারতের

রাজ্যসভায় পাশ এই বিল

মধ্যরাতেই বিভিন্ন সংশোধনী প্রস্তাবের উপরে ভোটাভুটি শুরু হয়। বিরোধী বেঞ্চের দাবি মতো জগদীপ ধনখড় সেই সংশোধনীর উপরে ভোটাভুটি করান। ভোটাভুটি শেষে রাত ২টো ৩৪ মিনিটে ফল ঘোষিত হয়। তাতে দেখা যায় বিলের পক্ষে পড়েছে ১২৮টি ভোট। আর বিপক্ষে পড়েছে ৯৫টি ভোট। ৩৩ ভোটের ব্যবধানে ওয়াকফ বিল রাজ্যসভায় পাশ হয়ে যায়। লোকসভায় বিল পাশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংসদের উচ্চকক্ষেও তা পাশ হয়ে যাওয়াকে মোদি সরকারের এক বড় জয় হিসেবে দেখছে রাজনৈতীক বিশ্লেষকরা। এখন বিলটি আইনে পরিণত হওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সই করলেই বদলে যাবে ৭০ বছরের পুরনো আইন।

রাজ্য রাজনীতি, বিনোদন থেকে শুরু করে খেলা সংক্রান্ত নানা ধরনের খবরের লেটেস্ট আপডেট পেতে এখনই ফলো করুন আমাদের India Hood Bangla কে।

গুরুত্বপূর্ণ খবরের জন্যJoin Group
চাকরির খবরের জন্যJoin Hood Jobs
রাশিফলের জন্যJoin Hood Rashifal
খেলার খবরের জন্যJoin Whatsapp
সঙ্গে থাকুন ➥
X
Join Group