প্রীতি পোদ্দার, নয়া দিল্লি: আজ অর্থাৎ বুধবার, ২ এপ্রিল লোকসভায় পেশ হতে চলেছে ওয়াকফ (সংশোধনী) বিল (Waqf Bill) ২০২৫। এবং আগামীকাল রাজ্যসভায় পেশ হবে এই বিল। তাই ওই দু’দিন সংশ্লিষ্ট দুই কক্ষের দলের সব সাংসদদের হাজির থাকার জন্য গতকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার দুপুরে বিজেপি সংসদীয় দলের তরফে হুইপ জারি করা হয়েছে। আর এই উদ্যোগ দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে, যেভাবেই হোক নতুন বিল পাশ করাতে সক্রিয় হবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার। তাই বোঝাই যাচ্ছে যে আজ লোকসভায় কেন্দ্রীয় সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে শক্তি প্রদর্শনের ব্যাপক লড়াই হতে চলেছে। আর এই আবহে প্রশ্ন উঠছে ওয়াকফ বিল পাশ করাতে সংসদে কতগুলি ভোটের বা সমর্থনের দরকার পড়ে।
লোকসভায় কত ভোটের প্রয়োজন?
একটি সমীক্ষা সূত্রে জানা গিয়েছে লোকসভায় ওয়াকফ (সংশোধনী) বিলটি পাশ করাতে বিজেপির প্রয়োজন ২৭২টি ভোট। কিন্তু ৫৪২ জন সাংসদের মধ্যে ২৪০ জন বিজেপি, ১২ জন জেডিইউ, ১৬ জন টিডিপি, ৫ জন এলজেপি, ২ জন রাষ্ট্রীয় লোক দলের (আরএলডি) এবং ৭ জন শিবসেনার সাংসদ রয়েছেন। সেক্ষেত্রে এনডিএ জোটের সবাই যদি পক্ষে ভোট দেয় তাহলে লোকসভায় বিল পাশ হবে। তবে গেরুয়া শিবির এই বিল পাশ করানোর জন্য বেশ নির্ভরশীল রয়েছে জনতা দল (ইউনাইটেড), লোক জনশক্তি পার্টি (রাম বিলাস) এবং তেলুগু দেশম পার্টির (টিডিপি) মতো প্রধান শরিকদের সমর্থনের বিষয়ে। তাঁদের সমর্থন পেলে সংসদে পাশ হয়ে যেতে পারে বিতর্কিত ওয়াকফ (সংশোধনী) বিল।
এর আগে গত ৮ অগস্ট বিরোধীদের প্রবল আপত্তি থাকা সত্ত্বেও লোকসভায় ওয়াকফ সংশোধনী বিল পেশ করেছিলেন কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। বিলটি ‘অসাংবিধানিক এবং মুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপকারী’ বলে অভিযোগ তুলে বিরোধীরা একযোগে তা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। কংগ্রেস, তৃণমূল-সহ বিরোধীদের অভিযোগ ছিল যে, ৪৪টি সংশোধনী এনে ওয়াকফ বোর্ডের উপর সরকারি কর্তৃত্ব নিরঙ্কুশ করতে চাইছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। দীর্ঘ বিতর্কের শেষে ঐকমত্যের লক্ষ্যে শেষে বিলটি জেপিসির কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কেন্দ্র। এরপর চলতি বাজেট অধিবেশনের প্রথম পর্বে ওই বিলে বেশ কিছু পরিবর্তনের পরে তা ফের সংসদে জমা দেয় জেপিসি। ফলে নতুন করে বিলটি ইদের পরে সংসদে পেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
রাজ্যসভায় কত ভোটের প্রয়োজন?
অন্যদিকে রাজ্যসভায় বিলটি পাসের জন্য প্রয়োজন ১১৯ জন সাংসদের সমর্থন। সেখানে সদস্যের সংখ্যা রয়েছে ২৪৫ জন। এদিকে এনডিএ-র ১২৫ জন সাংসদ রয়েছেন – যার মধ্যে বিজেপির ৯৮ জন, জেডিইউ-র চারজন, টিডিপির দু’জন, জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টির তিনজন, শিবসেনার একজন এবং আরএলডির একজন। এনডিএ আত্মবিশ্বাসী যে তারা অসম গণ পরিষদ এবং তামিল মান্নিলা কংগ্রেসের মতো দলগুলির (তাদের একজ করে সাংসদ রাজ্যসভায়) পাশাপাশি ছয়জন মনোনীত সদস্যের সমর্থন পাবে। তাই রাজ্য সভাতে আশা করা যাচ্ছে সবুজ সংকেত মিলবে। কিন্তু এদিকে বিরোধী দলের মধ্যে জোট তৈরি হয়েছে অসমর্থনের।
গতকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার রাতে ওয়াকফ বিরোধী বৈঠক বসে বিরোধী দলের মধ্যে। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে, ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি -র সুপ্রিয়া সুলে, সমাজবাদী পার্টির নেতা রামগোপাল যাদব, তৃণমূল কংগ্রেসের কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আম আদমি পার্টির সঞ্জয় সিং। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ডিএমকে-র টি আর বালু, তিরুচি শিবা, কানিমোঝি, আরজেডির মনোজ কুমার ঝা, সিপিএমের জন ব্রিটাস, সিপিআইয়ের সন্তোষ কুমার পি প্রমুখ।
আরও পড়ুনঃ সোনার দামে ছ্যাকা, আগুন ঝরাচ্ছে রুপোও! দেখুন আজকের রেট
এদিকে এই ওয়াকফ সংশোধনী বিলটি বিলটি মুসলিমদের স্বার্থবিরোধী, এই যুক্তিতে ইতিমধ্যেই বিরোধিতায় এগিয়ে এসেছে মুসলিম পার্সোনাল ল’বোর্ড-সহ একাধিক সংগঠন। এবং ইদের দিন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হাতে কালো ব্যান্ড পরে ইদের নমাজে অংশ নেন মুসলিমেরা। যা অস্বস্তি বাড়িয়েছে বিজেপি নেতৃত্বের। তাই সংখ্যালঘু সমাজকে বোঝাতে মাঠে নেমেছে মোদি সরকারও। রিজিজুর দাবি করেছেন, ‘‘কিছু ব্যক্তি ও দল পরিকল্পিত ভাবে মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছেন। বিরোধীদের এ ভাবে মিথ্যা কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করা একদমই অনুচিত। বরং সংসদে আলোচনায় প্রকৃত সত্য তুলে ধরুন।”
গুরুত্বপূর্ণ খবরের জন্য | Join Group |
চাকরির খবরের জন্য | Join Hood Jobs |
রাশিফলের জন্য | Join Hood Rashifal |
খেলার খবরের জন্য | Join Whatsapp |