প্রীতি পোদ্দার, নয়া দিল্লি: ঘড়ির কাঁটায় তখন ১২ টা বেজে গেছে। খাতায় কলমে তখন ক্যালেন্ডার অনুযায়ী তারিখ তখন ৩ এপ্রিল। এদিকে মধ্যরাত পার হয়ে গেলেও লোকসভায় তখনও ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলেছে ডিবেট বা তর্ক বিতর্ক। সবশেষে রাত ২ টোয় বিরোধীদের হাজার ঝঞ্ঝাট, তর্ক বিতর্ক কাটিয়ে অবশেষে লোকসভায় পাশ হল ওয়াকফ সংশোধনী বিল। তবে এখনও রাজ্যসভায় এই বিল পাশ করানো বাকি। জানা গিয়েছে আজ অর্থাৎ ৩ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার, রাজ্যসভায় এই বিল নিয়ে আলোচনা হবে।
গভীর রাতে বিল পাশ
গতকাল লোকসভায় ওয়াকফ সংশোধনী বিল (Waqf Bill) নিয়ে বিরোধীরা ১২ ঘণ্টা আলোচনার দাবি করেছিল। কিন্তু সরকার সেই আলোচনার জন্য ৮ ঘণ্টায় সম্মতি দিয়েছে। এরপর ওয়াকফ নিয়ে আলোচনা এতটাই দীর্ঘ হতে শুরু করেছে যে শেষ পর্যন্ত আরও ২ ঘণ্টা সময় বাড়ানো হল। আলোচনা চলবে রাত ১০টা পর্যন্ত। তারপরে আরও ২ ঘণ্টা বাড়িয়ে মোট ১২ ঘণ্টা চলে ওয়াকফ নিয়ে আলোচনা। শাসকদল থেকে শুরু করে বিরোধী সব পক্ষই এই বিল নিয়ে তাদের মতামত পেশ করে। রাত প্রায় ১২টার পর শুরু হয় ভোটাভুটি। রাত ২টো নাগাদ অধিক ভোট পেয়ে বিল পাশ হয় লোকসভায়।
বিল প্রসঙ্গে কী বললেন অমিত শাহ?
জানা গিয়েছে ওয়াকফ সংশোধনী বিলের পক্ষে ভোট পড়েছে ২৮৮টি এবং বিলের বিপক্ষে ভোট পড়েছে ২৩২টি। প্রথমে, লোকসভায় কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু ‘ওয়াকফ (সংশোধনী) বিল, ২০২৫’ বিল পেশ করেন। তারপর থেকেই শুরু হয় ডিবেট। পরমুহুর্তে বিল পেশের পরই তৃণমূলের সৌগত রায় দাবি করেন, বিরোধী সাংসদদের দেওয়া নোট উপেক্ষিত হয়েছে বিলে। পাল্টা রিজিজু দাবি করেন, যখন ইতিবাচক সংস্কার আনা হচ্ছে, ‘তখন কেন প্রশ্ন তোলা হচ্ছে?’। এদিকে ডিবেটে অংশ নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানান, “দেশের সমস্ত মুসলমান ভাই ও বোনকে এই হাউস থেকে বলছি আপনাদের ওয়াকফে একজনও নন মুসলিম আসবেন না। আসলে ওয়াকফ বোর্ড ও ওয়াকফ পরিষদ এর মাধ্যমে ওয়াকফ সম্পত্তি যা দিয়ে সংখ্যালঘুদের উন্নয়ন করা দরকার, সেই টাকা বিক্রি করে যারা খাচ্ছে তাদেরকে তাড়ানো হবে।”
নিজের দাবিতে অনড় কল্যাণ
কিন্তু এই দাবি মানতে চায়নি শ্রীরামপুরের সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, “ওয়াকফ বিল এর ক্ষেত্রে আমার কোনো সমর্থন নেই। এটি হল সরকারি মাধ্যম দিয়ে ওয়াকফ সম্পত্তি দখলের একটি প্রচেষ্টা। অর্থাৎ ওয়াকফ সংশোধনী বিলের আড়ালে কেন্দ্রীয় সরকার বিভিন্ন সম্প্রদায়কে ভাগ করতে চাইছে।” তাতে পাল্টা জবাবে অমিত শাহ বলেন, “দাদাদের টেনশনটা বুঝতে পারছি। যেহেতু এই কথোপকথন বাংলার মুসলিমরাও শুনছে। তাই টেনশন হওয়াই স্বাভাবিক। কারণ বিরোধীরা শুধু তোষণের জন্য বিরোধিতা করছেন। কিন্তু তাতে কোনও লাভ নেই।” সব শেষে প্রশ্ন, জবাব পাল্টা জবাবের মাধ্যমে লোকসভায় পাশ হয়েছে ওয়াকফ সংশোধনী বিল। এবার দেখার পালা রাজ্যসভায় কতটা সাফল্য লাভ করে ওয়াকফ সংশোধনী বিল।
আরও পড়ুনঃ আরও বড় হচ্ছে কলকাতা এয়ারপোর্ট, চলছে বিরাট কাজ! মিলবে প্রচুর সুবিধাও
রাজ্য রাজনীতি, বিনোদন থেকে শুরু করে খেলা সংক্রান্ত নানা ধরনের খবরের লেটেস্ট আপডেট পেতে এখনই ফলো করুন আমাদের India Hood Bangla কে।
গুরুত্বপূর্ণ খবরের জন্য | Join Group |
চাকরির খবরের জন্য | Join Hood Jobs |
রাশিফলের জন্য | Join Hood Rashifal |
খেলার খবরের জন্য | Join Whatsapp |