প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাজ্যে নির্বাচনের দামামা বেজে গিয়েছে, হাতে সময় খুব কম, তাই এখন থেকেই ভোট প্রচারের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে রাজ্য জুড়ে। যদিও এখনও দিনক্ষণ ঘোষণা করেনি নির্বাচন কমিশন। এই অবস্থায় ফের SIR নিয়ে শুরু হল চরম বিতর্ক। নাম জড়াল প্রাক্তন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থের (Manoj Pant Controversy)। জানা গিয়েছে এফআইআর দায়ের করে তাঁকে অবিলম্বে গ্রেফতার করার দাবিতে সরব হয়েছে বিজেপি। তবে চুপ থাকেনি রাজ্য সরকার। দিল এক মোক্ষম জবাব।
বিতর্কে জড়ালেন মনোজ পন্থ
চলতি বছরের শুরুতেই প্রশাসনিক দপ্তরে বড় পরিবর্তন এনেছে নবান্ন। মুখ্যসচিব পদে আনা হয়েছে নন্দিনী চক্রবর্তীকে। অন্যদিকে মুখ্যসচিব হিসেবে অবসর নেওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মনোজ পন্থ। আর এই নতুন পদ পাওয়ার পরেই বিতর্কে জড়ালেন মনোজ পন্থ। SIR আবহে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে FIR দায়ের ও গ্রেফতারের দাবিতে সরব হয়েছে বিজেপি। অভিযোগ, SIR সংক্রান্ত প্রশাসনিক বৈঠকে নির্দিষ্ট এক্তিয়ারের বাইরে গিয়ে মনোজ পন্থ কীভাবে উপস্থিত ছিলেন। এই নিয়ে বিতর্ক যখন চরম আকার নিল তখন সেই অভিযোগের যোগ্য জবাব দিল রাজ্য সরকার।
বিরোধীদের জবাব প্রশাসনের
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে রাজ্যে SIR প্রক্রিয়ায় জুডিশিয়াল অফিসারদের তত্ত্বাবধানে তথ্য যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে ইতিমধ্যেই। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের তত্ত্বাবধানে দফায় দফায় প্রশাসনিক বৈঠক হয়ে চলেছে। সেখানে মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, রাজ্য পুলিশের ডিজি, অ্যাডভোকেট জেনারেল এবং অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেলের উপস্থিতি দেখা যায়। কিন্তু সেই বৈঠকে মনোজ পন্থও উপস্থিত থাকায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার অধিকার এবং পদ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বাদ যাননি শুভেন্দু অধিকারী। তাঁকেও অভিযোগ করতে দেখা যায়। শেষে এই অভিযোগের উত্তর দিতে মুখ খোলে রাজ্য সরকার। স্পষ্ট জানানো হয় যে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির অনুমতি নিয়েই মনোজ পন্থ ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
Kolkata, West Bengal: On the meeting regarding SIR, LoP in the State Assembly, Suvendu Adhikari says, “First issue was Manoj Pant, he is the ex-chief secretary of the state government, he had participated in the meeting, action should be taken against him… The ranks of SDO… pic.twitter.com/mXTKP84rI2
— IANS (@ians_india) February 24, 2026
আরও পড়ুন: চূড়ান্ত তালিকার প্রকাশের আগেই বাংলায় ভোট ঘোষণা! কী বলছে নির্বাচন কমিশন?
প্রসঙ্গত, SIR বা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে শুরু থেকেই রাজনৈতিক তরজা হয়েই চলেছে বিজেপি এবং তৃণমূলের মধ্যে। প্রায় সময়ই মমতা এবং অভিষেকের মুখে বলতে শোনা যায় যে নির্বাচন কমিশন বিজেপির কথা মত রাজ্যে ভোটার তালিকা থেকে ইচ্ছে করে নাম বাদ দিচ্ছে। এখানেই শেষ নয় তাঁরা আরও অভিযোগ তোলেন যে চুপিসারে আড়ালে বিজেপির সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে যোগাযোগ রাখছে কমিশন। যদিও সেই সকল অভিযোগ বারংবার অস্বীকার করেছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হতে চলেছে। এখন দেখার ওই তালিকায় আর কতজনের নাম বাদ যেতে চলেছে।












