সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: রাতের আকাশ পছন্দ করেন? তাহলে আপনার জন্য রইল দারুণ খবর। আগামী ৩ মার্চ ভোরবেলা দেখা যাবে ২০২৬ সালের প্রথম আর একমাত্র পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ (Lunar Eclipse)। আর এই সময় চাঁদ একেবারে রক্তিম আভায় ডুবে যাবে, যাকে সাধারণত বলা হচ্ছে ‘ব্লাড মুন’ (Blood Moon)। আর এই বিরল দৃশ্য মিস করলে আবার পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ দেখতে ২০২৮ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু কোথা থেকে দেখা যাবে এই চন্দ্রগ্রহণ? সময়সূচি কী রয়েছে? জানুন এই প্রতিবেদনে।
কখন ঘটবে এই চন্দ্রগ্রহণ?
ভারতীয় সময় অনুযায়ী, এই পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণটি ২ মার্চ রাত থেকে ৩ মার্চ ভোরবেলার মধ্যে ঘটবে বলে জানা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সময় অনুযায়ী, গ্রহণটি চলবে ভোর ৩:৪৪ মিনিট থেকে সকাল ৯:২২ মিনিট পর্যন্ত। তবে সবথেকে আকর্ষণীয় অংশ অর্থাৎ পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণের পর্যায়ে চলবে ৫৮ মিনিট ধরে। অর্থাৎ ভোর ৬:০৪ মিনিট থেকে ৭:০২ মিনিট পর্যন্ত। আর এই সময় চাঁদ পৃথিবীর ছায়ার গভীরতম অংশ প্রবেশ করবে ও লালচে-কমলা আভায় রঙিন হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পূর্ণগ্রাস গ্রহণ শুরু হওয়ার প্রায় ৭৫ মিনিট আগে থেকেই আকাশে নজর রাখলে আংশিক গ্রহণের ধাপগুলি দেখা যাবে, যখন পৃথিবীর ছায়া ধীরে ধীরে চাঁদের উপর পড়তে শুরু করবে।
কোথা থেকে দেখা যাবে এই গ্রহণ?
এই পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণটি সবথেকে ভালোভাবে দেখা যাবে উত্তর আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, পূর্ব এশিয়া আর প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে। এমনকি বিশ্বের প্রায় ৩১ শতাংশ মানুষ অর্থাৎ আনুমানিক ২৫০ কোটিরও বেশি মানুষ এই ‘ব্লাড মুন’ দেখতে পাবে। আর আবহাওয়া অনুকূল থাকলে উত্তর-পশ্চিম মেক্সিকো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশ এবং অস্ট্রেলিয়ার অন্তর্দেশীয় অঞ্চল থেকে পরিষ্কারভাবেই এই গ্রহণ দেখা যাবে। কিন্তু হ্যাঁ, ভারত থেকে এই গ্রহণ দৃশ্যমান হবে না।
আরও পড়ুন: নিয়ন্ত্রণহীন ট্রেলারের ধাক্কা, মৃত্যু ৫ পুলিশকর্মীর! গুরুতর আহত ৩ জন
‘ব্লাড মুন’ কেন লাল হয়?
আসলে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময় সূর্যের আলো সরাসরি চাঁদের উপর পড়তে পারে না। পৃথিবীর মাঝখানে এসেই সূর্যের আলোকে আড়াল করে রাখে। কিন্তু পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল সূর্যালোকের কিছু অংশ ভেঙে লাল তরঙ্গ দৈর্ঘ্যকে চাঁদের দিকে পাঠায়। সেই কারণেই চাঁদ লালচে আভা ধারণ করে, যা কিনা ‘ব্লাড মুন’ নামে পরিচিত। তবে এক্ষেত্রে উল্লেখ করার বিষয়, খারাপ আবহাওয়ার কারণে সরাসরি গ্রহণ নাও দেখা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহাকাশ ও জ্যোতির্বিজ্ঞান সংস্থা অনলাইনে সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা করবে বলে সূত্রের খবর।












