সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ২০২৬ সালে ভীম একাদশী কত তারিখে পড়ছে (Bhim Ekadashi 2026)? হিন্দু ধর্মে একাদশী তিথির এমনিতেই বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। আর বছরের ২৪টি একাদশীর মধ্যে সবথেকে কঠিন আর তাৎপর্যপূর্ণ উপবাস এই ভীম একাদশীকেই বলা হয়। অনেকে একে নির্জলা একাদশীও বলে থাকে। তবে ২০২৬ সালে এই গুরুত্বপূর্ণ ব্রতটি কবে পালন করা হবে? কীভাবে পূজা করতে হবে? সময়সূচি ও মাহাত্ম্য কী রয়েছে? বিস্তারিত জানুন এই প্রতিবেদনে।
কেন এর নাম হল ভীম একাদশী?
পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, এই একাদশীর নামকরণ হয়েছে কুন্তী পুত্র ভীম সেনের নামের আদলে। ভীম ছিলেন প্রবল ভোজনরসিক। এমনকি অল্প সময়ও তিনি না খেয়ে থাকতে পারতেন না। ফলত, নিয়মিত একাদশী ব্রত পালন করা তাঁর পক্ষে কঠিন ছিল। তখন মহর্ষী ব্যাসদেব ভীমকে উপদেশ দিয়েছিলেন নির্জলা একাদশী ব্রত পালন করলে একসঙ্গে বছরের ২৪টি একাদশীর পুণ্য লাভ করা যায়। ভীম সেই উপদেশ শুনে তাঁর পরিবারসহ এই কঠোর ব্রত পালন করেছিলেন। তারপর থেকেই এই একাদশী ভীম একাদশী নামে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
২০২৬ সালের ভীম একাদশীর দিনক্ষণ | Bhim Ekadashi 2026 Date |
বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ভীম একাদশী পড়ছে আগামী ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, বৃহস্পতিবার। তবে আমরা যদি বাংলা তারিখ নিয়ে কথা বলি, তাহলে এই দিনটি ১৫ মাঘ, ১৪৩২ সন।
২০২৬ সালের ভীম একাদশীর সময়সূচি | Bhim Ekadashi 2026 Time |
পঞ্জিকা বলছে, ২০২৬ সালে ভীম একাদশী শুরু হচ্ছে ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ বিকাল ৪ টা ৩৫ মিনিটে এবং একাদশী তিথি শেষ হচ্ছে আগামী ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে।
ভীম একাদশী ২০২৬ সংক্ষেপে
তিথির নাম | ভীম একাদশী ২০২৬ |
ইংরাজি তারিখ | ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ |
বাংলা তারিখ | ১৫ মাঘ, ১৪৩২ |
| তিথি শুরু | ২৮ জানুয়ারি, বিকাল ৪:৩৫ |
| তিথি শেষ | ২৯ জানুয়ারি, দুপুর ১:৫৫ |
| বিশেষ গুরুত্ব | নির্জলা উপবাস |
ভীম একাদশীর পূজার নিয়ম
ভীম একাদশী অত্যন্ত কঠোর হলেও এটিকে নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে হয়। তাহলে বিশেষ ফল পাওয়া যায় বলে বিশ্বাস করা হয়। যেমন—
- ব্রতের আগে রাতে নিরামিষ আহার গ্রহণ করতে হয়।
- ব্রতের দিন অবশ্যই সূর্যোদয়ের আগে উঠে স্নান করে নিতে হয়।
- ভগবান বিষ্ণুর সামনে দাঁড়িয়ে সংকল্প নিতে হয়।
- সারাদিন জল, ফল বা কোনওরকম আহার গ্রহণ করা চলে না।
- নিয়ম মেনে ভগবান বিষ্ণুর পূজা করতে হয়।
- বিষ্ণু সহস্রনাম বা শ্রীবিষ্ণু চালিশা পাঠ করতে হয়।
- “ওম নমো ভগবতে বাসুদেবায়” মন্ত্রটি জপ করতে হয়।
- জল ভর্তি কলস, বস্ত্র, খাদ্য বা অর্থ দান করতে হয়।
- দরিদ্র এবং তৃষ্ণার্ত মানুষকে জল দান করতে হয়।
- পরদিন সূর্যোদয়ের পর ব্রত ভাঙতে হয়।
- হালকা বা সাত্ত্বিক আহার গ্রহণ করতে হয়।
আরও পড়ুন: ২০২৬-এ একাদশী কোন কোন দিন? দেখুন দিনক্ষণ, সময়সূচি ও পালনের নিয়ম
ভীম একাদশীর মাহাত্ম্য
হিন্দু ধর্মে ভীম একাদশীর বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং পুণ্যময় একটি ব্রত, যেখানে জল বা খাদ্য গ্রহণ করা যায় না। আর এই ব্রত পালন করলে সমস্ত পাপ মোচন হয় বলে বিশ্বাস করা হয়। এই একাদশীর প্রধান মাহাত্ম্যগুলি হল—
- পাপ মোচন এবং শুদ্ধি: এই উপবাস ভক্তিভরে পালন করলে সমস্ত পাপ ধ্বংস হয়। যেমন সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূর হয়।
- বৈকুন্ঠ লাভ: ভক্তি সহকারে যদি ভীম একাদশী পালন করা হয়, তাহলে মৃত্যুর পর সরাসরি বৈকুন্ঠ ধাম লাভ হয়।
- অলৌকিক ফল: এই ব্রতকথা পাঠ বা শ্রবণ করলে অগ্নিষ্টোম যজ্ঞের ফল পাওয়া যায় বলে বিশ্বাস করা হয়।












