বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গোটা গ্রুপ পর্বে দাপিয়ে খেলেলেও সুপার এইটের প্রথম ম্যাচেই দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে (India Vs South Africa) তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল ভারত। 2024 সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে যে দলটাকে গুটিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল টিম ইন্ডিয়া, সেই দলই রবিবার রাতে ভারতকে পরাস্ত করে বুঝিয়ে দিল, মাঝের একটা বছর টি-টোয়েন্টিতে হাত পাকা করেছে তারা। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে বর্তমানে এক নম্বর দল ভারত, যে এভাবে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে যাবে সেটা বোধহয় স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারেননি ভক্তরা।
ভারতকে হেলায় হারালো দক্ষিণ আফ্রিকা
রবিবার, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে শুরুটা টস জয় দিয়ে করেছিল ভারত। এদিন ভাগ্যের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতেই প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় টিম ইন্ডিয়া। এই সূত্রেই ব্যাট হাতে প্রথম ইনিংস খেলতে নামা দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং অর্ডার কার্যত নাড়িয়ে দিয়েছিল টিম ইন্ডিয়ার খতরনাক বোলিং বিভাগ। এদিন ভারতীয় বোলারদের সামনে শুরুতেই ঝড়ের গতিতে উইকেট যায় অধিনায়ক এইডেন মার্করাম, কুইন্টন ডিককদের।
ম্যাচের শুরুটা দেখে মনে হয়েছিল এদিন হয়তো শেষ হাসি হাসবে ভারত। যদিও দলের ধ্বংসস্তূপের উপর দাঁড়িয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলে দিয়ে গিয়েছিলেন ডেভিড মিলার, ব্রেভিসরা। এদিন মিলাদের ব্যাট থেকে 63 রানের যোগদান পেয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ব্রেভিস করেছিলেন 45। এছাড়াও অপরাজিত থেকে 44 রান করে ট্রিস্টান স্টাবস। সেই সূত্রেই ভারতকে 188 রানের লক্ষ্য দেয় দক্ষিণ আফ্রিকা।
টি-টোয়েন্টিতে ভারতের যা ব্যাটিং বিভাগ তাতে এই লক্ষ্য কিছুই নয়, এমনটাই ধরে নিয়েছিলেন ভক্তরা। তবে টিম ইন্ডিয়ার ইনিংস শুরু হতেই ধরা পড়ল ভিন্ন চিত্র। দাপুটে ওপেনার ইশান কিষাণ শুরুতেই আউট হলেন শূন্য রানে। কিছুক্ষণ লড়াই করলেও 15 রান নিয়ে ফিরতে হল অভিষেক শর্মাকেও। 1 রান করে সাজঘরে ফেরেন তিলক বর্মাও। কঠিন সময়ে দলের ভরসা ছিলেন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। এদিন তিনিও 18 রান করতেই হাত তুলে দেন। 11 বলে 11 রান করে মাঠ ছাড়েন ওয়াশিংটন সুন্দরও। ম্যাচ দেখে মনে হচ্ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে কিছুতেই পেরে উঠছে না টিম ইন্ডিয়ার ব্যাটসম্যানরা।
অবশ্যই পড়ুন: ভারতে বিশ্বকাপের ম্যাচের জন্য হাত পাতছে জিম্বাবুয়ে!
ম্যাচ যখন 70 রানে 5 উইকেট, ভারতকে জেতার আপ্রাণ চেষ্টা করছিলেন হার্দিক পান্ডিয়া, শিবম দুবেরা। দুই ভারতীয় ক্রিকেটারের কাঁধে চেপে ধীরে ধীরে এগোচ্ছিল ম্যাচ। যদিও ততক্ষণে জেতার আশা একেবারে ছেড়েই দিয়েছিলেন ভক্তরা। বুঝে গিয়েছিলেন, এখান থেকে আর ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব নয়। 46 বলে 111 রান করাটা যে মুখের কথা নয় সেটা জানতেন টিম ইন্ডিয়ার প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরও। তবে ক্রিকেটে অসম্ভবটাই সম্ভব হয় বারবার। কিন্তু আজ বোধহয় দিনটা ভারতের জন্য ছিল না। তাই লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত মান রক্ষা করতে পারল না টিম ইন্ডিয়া। দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে ক্রমাগত উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত পরাজয় স্বীকার করলেন সূর্যরা। এদিকে, বিশ্বকাপে হারের বদলা সুপার এইটেই তুলে নিল প্রোটিয়ারা।












