গ্যাস সিলিন্ডার ডেলিভারি করেই চলত পেট, রিঙ্কু সিংয়ের বাবার অতীত চোখ ভেজাবে!

Published:

Rinku Singh Father occupation-bkm
Follow

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: স্তব্ধ হলো নিঃশ্বাস। শুক্রবার সকালেই না ফেরার দেশে চলে গিয়েছেন ভারতীয় ক্রিকেটার রিঙ্কু সিংয়ের বাবা খানচন্দ্র সিং (Rinku Singh Father)। জানা যায়, লিভারে 4 স্টেজের ক্যান্সার ধরা পড়েছিল তাঁর। এর ফলে একটা দীর্ঘ সময় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়তে হয়েছিল নাইট তারকার বাবাকে। এদিকে বিশ্বকাপের মাঝে হঠাৎ পিতৃ বিয়োগ রিঙ্কুর জন্য যে কতটা ধাক্কার সেকথা আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না। কমবেশি সকলেরই জানা, এই রিঙ্কু সিংকে ক্রিকেটার বানানোর জন্য তাঁর বাবার অবদান ঠিক কতখানি।

কী কাজ করতেন রিঙ্কু সিংয়ের বাবা?

উত্তর প্রদেশের আলিগড়ের ছেলে রিঙ্কুকে ছেলেবেলায় যে একটা দীর্ঘ সময় অভাবের সাথে লড়াই করতে হয়েছিল সে কথা জানেন ভারতীয় ক্রিকেটারের ভক্তরা। বাবা খানচন্দ্র কাজ করতেন ভারতীয় তেল সরবরাহকারী সংস্থা ইন্ডেন এ। এই সংস্থার হয়েই উত্তরপ্রদেশে বাড়ি বাড় LPG বা রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ করতেন তিনি। ছেলেকে একজন বড় মাপের ক্রিকেটার করে তোলার স্বপ্ন প্রথম থেকেই ছিল খানচন্দ্রের। তাই তো নিজের কষ্টার্জিত অর্থ থেকে বেশিরভাগটা বাঁচিয়ে ছেলের ক্রিকেট ব্যাটসহ অন্যান্য ক্রীড়া সরঞ্জাম কিনতে তিনি।

উত্তরপ্রদেশের মাঠ থেকে ভারতীয় দলে রিঙ্কু সিংয়ের দীর্ঘ যাত্রা সহজ ছিল না মোটেই। তবে সেই রাস্তায় ছেলের গায়ে যাতে আঁচ না আসে সেই চেষ্টায় চিরকাল করে গেছেন ভারতীয় ক্রিকেটারের সদ্য প্রয়াত বাবা। রিঙ্কু যখন পুরোদমে, ভারতীয় টি-টোয়েন্টি দলে খেলছেন, এমনকি ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে কলকাতা নাইট রাইডার্স এর মতো চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য তিনি সেই পর্বেও উত্তরপ্রদেশের আলিগড়ের বাড়িতে বাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার বিলি করতেন খানচন্দ্র। সম্প্রতি সেই ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়াতে। শোনা যায়, ছেলে ক্রিকেটে নজর কাড়লেও নিজের জীবন যাপনে পরিবর্তন আনতে পছন্দ করতেন না রিঙ্কুর বাবা। তাই শেষ জীবনেও বাড়ি বাড়ি LPG সিলিন্ডার দিয়ে বেরিয়েছেন তিনি।

অবশ্যই পড়ুন: ইডেনে ভারত বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচ, অধিক রাতেও চলবে মেট্রো, দেখুন সময়সূচি

একবার খানচন্দ্রের কাহিক পরিশ্রম নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল ছেলে রিঙ্কু সিংকে। উত্তরে ভারতীয় টি-টোয়েন্টি দলের দক্ষ ফিনিশার জানিয়েছিলেন, “বাবাকে অনেকবার বলেছি তুমি বিশ্রাম নাও। সব ব্যবস্থা হয়ে যাবে। আমাদের অবস্থা এখন অনেক ভাল। ভারী ভারী সিলিন্ডার এখন আর তোমার বিলি করার দরকার নেই। কিন্তু বাবা কিছুতেই কাজ বন্ধ করতে চাইতেন না। নিজের কাজের প্রতি বাবার অগাধ ভালবাসা ছিল। তাই যতদিন পারবেন এই কাজ করবেন তিনি।”