সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: প্রকৃতির রুদ্ররূপ নিয়ে বিরাট দুঃসংবাদ দিলেন গবেষকরা। আগামী ২০২৭ সালে নাকি শক্তিশালী সুপার এল নিনো (Super El Niño) গোটা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসলীলা চালাতে পারে। এমনটাই আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এই আসন্ন প্রাকৃতিক বিপর্যয় নাকি ১৮৭৭-৭৮ সালের সেই ভয়াবহ এল নিনো-কেও ছাপিয়ে যেতে পারে, যা একসময় বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪ শতাংশ মানুষকেই মুছে দিয়েছিল। কী প্রভাব পড়তে পারে এই এল নিনোর?
ইতিহাস কী বলছে?
আমরা একটু পুরনো কাসুন্দি ঘাঁটলে জানতে পারব—আজ থেকে প্রায় দেড়শ বছর আগে অর্থাৎ ১৮৭৭-৭৮ সালে এল নিনোর প্রভাবে গোটা বিশ্বে ভয়াবহ খরা ও দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। অসহ্য গরম আর ফসলের অভাবে সেই সময় কোটি কোটি মানুষের মৃত্যু হয়। ইতিহাসের পাতায় ভয়ংকর জলবায়ু বিপর্যয় হিসেবেই গণ্য করা হয় ওই বছরটিকে। বর্তমান আবহাওয়ার মডেলগুলি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ২০২৭ সালে আমরা ঠিক একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারি।
কী এই এল নিনো?
যারা জানেন না তাদেরকে বলে রাখি—এল নিনো হল প্রশান্ত মহাসাগরের একটি বিশেষ আবহাওয়া চক্র। যখন মধ্য পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের উপরিভাগের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যায়, ঠিক তখনই বায়ুমণ্ডলের স্বাভাবিক গতিবিধি বদলে যায়। যার ফলে মৌসুমী বায়ু দুর্বল হয়ে পড়ে এবং গোটা বিশ্বজুড়ে বৃষ্টিপাতের ভারসাম্য বিগড়ে যায়।
প্রশান্ত মহাসাগরের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বিজ্ঞানীরা বলছেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা এখন দ্রুত গতিতে বাড়ছে। এমনকি জলবায়ুর পরিবর্তনের সঙ্গে এল নিনো মিলেমিশে ২০২৭ সালে গোটা বিশ্বকে তাপমাত্রার রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে। আর বিশ্ব উষ্ণায়নও চরমে পৌঁছবে। এর প্রভাবে বিশ্বের বড় অংশে খরা, দাবানল এবং তীব্র খাদ্য সংকট তৈরি হতে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ট্রেড লাইসেন্স নবীকরণ নিয়ে বড় পদক্ষেপ কলকাতা পুরসভার
ভারতে কী প্রভাব পড়বে?
আসলে এই মেগা এল নিনোর প্রভাব হবে বিশ্বব্যাপী। বিশেষ করে উত্তর মধ্য পূর্ব ভারতে দীর্ঘমেয়াদী এবং মারাত্মক তাপপ্রবাহ চলতে পারে। আর মৌসুমী বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের থেকে অনেক কম হওয়ার কারণে কৃষিকাজে ব্যাপক ক্ষতির মুখোমুখি হতে হবে। এছাড়া আমাজন অববাহিকা এবং দক্ষিণ ও মধ্য আফ্রিকায় খরা ও ভয়াবহ দাবানলের আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাশাপাশি উত্তর আমেরিকায় মাত্রাতিরিক্ত গরম এবং দক্ষিণ অংশে রেকর্ড ভাঙা বৃষ্টি ও বন্যার সম্ভাবনাও রয়েছে।
তবে ভারত যেহেতু মূলত মৌসুমী বৃষ্টির উপর নির্ভরশীল, সেই কারণে এল নিনার প্রভাবে বৃষ্টি কমলে ফসলের ফলন কমবে আর খাদ্যদ্রব্যের দামও আকাশছোঁয়া হতে পারে বলেই বলছেন বিজ্ঞানীরা। তাই আগে থেকেই জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভারতের গড় তাপমাত্রা বাড়ছে। আর তার উপর এই সুপার এল নিনোর যোগ এ দেশে দুর্ভিক্ষের মধ্যে পরিস্থিতি তৈরি করবে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।










