প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর নির্বাচন (West Bengal Election 2026) নিয়ে রাজ্য জুড়ে যেন উত্তাপের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। হাতে আর ১ মাসেরও বেশি সময় নেই, তাই রোদ ঝড় জল ভুলে দিন রাত এক করে ভোট প্রচার করে চলেছে শাসকদল থেকে শুরু করে বিরোধীরা। এমতাবস্থায় ফের খবরের শিরোনামে উঠে এলো অনুপ্রবেশের প্রসঙ্গ। নকল নথি-সহ জলপাইগুড়িতে এক্সপ্রেস ট্রেনে থেকে গ্রেপ্তার হল ১৪ বাংলাদেশি (Bangladeshi Arrested From Jalpaiguri)।
গ্রেপ্তার ১৪ জন বাংলাদেশি নাগরিক
রিপোর্ট মোতাবেক, বুধবার রাতে জলপাইগুড়ি রোড স্টেশনে কামাক্ষ্যা থেকে দিল্লিগামী নর্থ ইস্ট এক্সপ্রেস ট্রেনে নাকা তল্লাশি চালিয়ে ১৪ জন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করে আরপিএফ। ধৃতদের মধ্যে চারজন শিশু রয়েছে। রেল পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত পুরুষ ও মহিলাদের কাছ থেকে নকল আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ভারতীয় সিম, একাধিক মোবাইল ফোন এবং মালয়েশিয়ার মুদ্রা উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের জেরার মাধ্যমে জানা গিয়েছে জাল নথি ব্যবহার করে অসম সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ করে দিল্লি যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল বাংলাদেশি ধৃতদের। কিন্তু কীভাবে, কোন পথে, কী উদ্দেশে তাদের ভারতে প্রবেশ তা নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
ধৃতদের সঙ্গে ছিল জাল পরিচয়পত্র
তদন্তকারীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে জানা গিয়েছে, ধৃতরা সকলেই বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলার ফকিরবাড়ি এলাকার বাসিন্দা। শেষ আপডেট অনুযায়ী ধৃতদের মধ্যে মহঃ কামাল হোসেন ও মহঃ কালাম শেখ নামে দুই ব্যক্তির নাম জানা গিয়েছে, বাকিদের নাম এখনও জানা যায়নি। নির্বাচনের আবহে এতজন বিদেশি নাগরিক কীভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢুকল এবং কারাই বা তাঁদের জাল পরিচয়পত্র তৈরিতে সাহায্য করল, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়েছে গভীর উদ্বেগ। এদিকে এই গোটা ঘটনা জুড়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে বেঁধেছে জোর কলহ।
বিজেপির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
এইমুহুর্তে ছাব্বিশের ভোটের লড়াইয়ে যেখানে বিজেপি এবং তৃণমূল মরিয়া হয়ে উঠেছে, সেখানে অনুপ্রবেশ একটা বড় ইস্যু দু’পক্ষের কাছে। বরাবর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, এই সীমান্তে অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে মমতাকে বারবার আক্রমণ করেছিলেন। বিজেপির অভিযোগ ছিল, এ রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের মদতে বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশকারীরা ঢুকে অবৈধভাবে নিজেদের ভোটার কার্ড, আধার কার্ড তৈরি করে ভোটদানের অধিকার পাচ্ছে। এরা আসলে অবৈধ ভোটার। কিন্তু এইসব অভিযোগ মানতে নারাজ শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস।
আরও পড়ুন: শুরু সৌরভের বায়োপিকের শুটিং, দাদার ভূমিকায় রাজকুমার, ছবির নামও ঘোষণা
অনুপ্রবেশের ইস্যুতে বিজেপির মন্তব্যের বিরুদ্ধে তৃণমূলের পাল্টা দাবি, সীমান্ত সুরক্ষার দায়িত্ব রয়েছে কেন্দ্রের হাতে। বিএসএফ ঠিকমতো সীমান্তে পাহারা দিচ্ছে না বলেই অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটছে। অর্থাৎ সব মিলিয়ে ভোটের প্রচার হিসেবে অনুপ্রবেশ বিষয়টি দু’পক্ষের কাছে এক মোক্ষম এবং শক্তিশালী হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। এমতাবস্থায় জলপাইগুড়ি থেকে একসঙ্গে ১৪ জন বাংলাদেশি ধরা পড়ার ঘটনা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন দেখার তদন্তকারীদের মাধ্যমে কি কি তথ্য উঠে আসে।












