শিক্ষা থেকে স্বাস্থ্য, চা শ্রমিকদের জন্য ৩১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ, বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

Published:

Suvendu Adhikari

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: উত্তরবঙ্গ থেকে শুরু করে দক্ষিণবঙ্গ, সবেতেই কল্পতরু রাজ্য সরকার (Government of West Bengal)। এবার চা শ্রমিকদের জন্যই বড় ঘোষণা করে বসলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এমনিতেই ক্ষমতার পালাবদলের পরেই একের পর এক পদক্ষেপ নিচ্ছেন তিনি। উত্তরবঙ্গের চা শ্রমিকদের জন্য ঠিক কী কী পরিকল্পনা হতে পারে তা নিয়েই আজ সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এমনকি ‘প্রধানমন্ত্রী চা শ্রম উৎসাহ প্রকল্প’ বাস্তবায়নের রূপরেখা তুলে ধরেছেন তিনি। আর এর জন্য মোট ৩১৩ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলেও খবর।

চা শ্রমিকদের জন্য বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

এদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, “উত্তরবঙ্গের পরিশ্রমী চা বাগান শ্রমিকদের সার্বিক কল্যাণ, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য উন্নয়নের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আমাদের রাজ্যস্তর কমিটি ‘প্রধানমন্ত্রী চা শ্রম উৎসাহ প্রকল্প’ বাস্তবায়নের রূপরেখা ইতিমধ্যে চূড়ান্ত করেছে। আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, ৩১৩ কোটি ৩০ লক্ষ টাকার মোট আর্থিক বরাদ্দের মাধ্যমে চা শ্রমিকদের জীবনে এবার ঐতিহাসিক পরিবর্তন আনতে চলেছি আমরা।” তবে মুখ্যমন্ত্রীর কথা অনুযায়ী, এই উদ্যোগের পেছনে বেশ কিছু লক্ষ্য রয়েছে। প্রথমত, চা শ্রমিকদের শিশুদের শিক্ষার মান উন্নয়নে এবং শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ১৭৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

দ্বিতীয়ত, চা শ্রমিকদের উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা দিতে এবং চা বাগান এলাকায় স্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নত করতে মোট ৭২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছে। তৃতীয়ত, ৩২১টি রেস্টহাউস বা বিশ্রাম শেড নির্মাণ করা হবে। এর জন্য মোট ৬৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। তবে এর মধ্যে পাহাড়ে হবে ৮৮টি এবং সমতল এলাকায় হবে ২৩৩টি রেস্ট হাউস। আর এই বিশ্রাম ঘরগুলিতে সৌরশক্তি থেকে শুরু করে বিশুদ্ধ পানীয় জল, আরামদায়ক আসন এবং পরিষ্কার টয়লেট সহ আধুনিক সমস্ত সুযোগ-সুবিধা উপভোগ করতে পারবে চা বাগানের শ্রমিকরা।

আরও পড়ুন: সব মামলার তদন্ত করবে SIT, এবার দেবরাজ ঘনিষ্ঠদের তলব

এছাড়া মুখ্যমন্ত্রীর কথা অনুযায়ী, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন বিভাগ একটি বাস্তবায়ন সংস্থা হিসেবে এই প্রচেষ্টাকে নেতৃত্ব দেবে। সেক্ষেত্রে স্বাস্থ্য বিভাগ, পশ্চিমবঙ্গ হলিস্টিক এডুকেশন মিশন এবং জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রকল্পটিকে চালানো হবে। এই সমস্ত দফতরের সঙ্গে প্রশাসন সমন্বয় রেখে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগের ফলে যে চা বাগানের শ্রমিকদের জীবনে আমূল পরিবর্তন আসবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।