প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ফের খবরের শিরোনামে উঠে এল রাজ্যের এসআইআর প্রক্রিয়া! প্রকাশ্যে এল কমিশনের (Election Commission Of India) আরও এক নতুন পরিসংখ্যান। জানা গিয়েছে এখনও নাকি প্রায় ৬০ লক্ষ অভিযোগের নিষ্পত্তি বাকি রয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের তত্ত্বাবধানে গঠিত বিচারপতিদের কমিটির কাছে। যার মধ্যে শীর্ষে রয়েছে মুর্শিদাবাদ ও তারপরেই দুই ২৪ পরগনা। যেখানে তুলনামূলক অভিযোগের সংখ্যা বেশি। তবে কি এবারেও ২৮ ফেব্রুয়ারি তালিকা প্রকাশ হবে না? স্পষ্ট জানালেন কমিশন।
বাকি এখনও ৬০ লক্ষ ভোটারের আবেদনের নিষ্পত্তি!
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে, গতকাল অর্থাৎ সোমবার থেকে কাজ শুরু করেছেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি নিযুক্ত জুডিশিয়াল অফিসাররা। বিকেলে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসেন হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল। কমিশনের সঙ্গে এদিন প্রায় ১ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বৈঠক হয়েছে। রাতে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের আবেদনের নিষ্পত্তি করতে হবে। এক্ষেত্রে ২০০ জন জুডিশিয়াল অফিসার সেই কাজ করবেন। আবেদনের সংখ্যার নিরিখে শীর্ষে রয়েছে মুর্শিদাবাদ। তারপরই রয়েছে উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা। সবথেকে কম আবেদন জমা পড়েছে ঝাড়গ্রাম থেকে। যদিও আগেই জানানো হয়েছে, কাজের পরিস্থিতির উপর প্রয়োজনে জুডিশিয়াল অফিসারের সংখ্যা বাড়ানো হবে।
জুডিশিয়াল অফিসারদের সুরক্ষার দায়িত্ব রাজ্যের
নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, ট্রেনিং সব হয়ে গিয়েছে জুডিশিয়াল অফিসারদের। যেহেতু ২৮ তারিখে তালিকা প্রকাশ হবে। তাই এখন থেকেই ২০০ জন জুডিশিয়াল বিচারক কাজ করতে পারবেন। ইতিমধ্যেই পোর্টাল সচল ভাবে চলছে। যদিও কমিশনের প্রয়োজন ছিল ২৯৪ জন জুডিশিয়াল বিচারক কিন্তু রাজ্যের তরফে এখনও পর্যন্ত ২০০ জন জুডিশিয়াল অফিসারের নাম পাঠানো হয়েছে। পর্যাপ্ত আধিকারিক না থাকলে অভিযোগ নিষ্পত্তির গতি শ্লথ হওয়ার আশঙ্কা থাকছে। এদিকে জানা গিয়েছে প্রায় ১ কোটি ৫২ লক্ষকে নোটিস দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে আনম্যাপড রয়েছেন ৩২ লাখ ও লজিক্যাল ডেসক্রিপেন্সি রয়েছে ১ কোটি ২০ লাখ। সব মিলিয়ে প্রায় ৬০ লক্ষ অভিযোগের নিষ্পত্তি করতে হবে জুডিশিয়াল অফিসারদের। অন্যদিকে জুডিশিয়াল অফিসারদের সুরক্ষা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে রাজ্য সরকার।
কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে তৎপর CEO
এবার বিধানসভা ভোট ঘোষণার আগেই রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করল নির্বাচন কমিশন। দু’দফায় ওই বাহিনী মোতায়েন করা হবে। সোমবার কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন নিয়েও CEO দফতরে হয় বৈঠক। সূত্রের দাবি, সোমবারের বৈঠকে CEO জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে বসিয়ে রাখা যাবে না। এদের আনাই হচ্ছে কাজ করানোর জন্যে। আর এই কেন্দ্রীয় বাহিনীর কাজের উপর নজর রাখবেন অবজার্ভার এবং DGP। কোথায় কত বাহিনী, তা নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট পেশ করতে হবে এবং কী কাজ করবে কেন্দ্রীয় বাহিনী, তা নজরে রাখবেন অবজার্ভাররা। অন্যদিকে সেন্ট্রাল মনিটরিং সিস্টেমে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপর নজর রাখবেন DGP-ও।
আরও পড়ুন: দিল্লি যাওয়ার পথে মাঝআকাশে ভেঙে পড়ল এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স! মৃত রোগী, ডাক্তার সহ ৭
প্রসঙ্গত, আসন্ন নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিভিন্ন জেলার প্রস্তুতি, অতীত ভোটের অভিজ্ঞতা এই সব বিষয় নিয়েই বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পুলিশ প্রধান পীযুষ পাণ্ডে, মহানগর পুলিশ কমিশনার, রাজ্যের পুলিশ নোডাল আধিকারিক এবং কেন্দ্রীয় রিজার্ভ বাহিনীর শীর্ষ কর্তারাও। সব মিলিয়ে এসআইআর ঘিরে প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। বিপুল সংখ্যক অভিযোগ নিষ্পত্তির চ্যালেঞ্জ সামলে স্বচ্ছতা বজায় রাখাই এখন মূল লক্ষ্য।












