৭৪.৫% মানুষ নিচ্ছে স্বাস্থ্যসাথীর সুবিধা, তবুও বেসরকারি হাসপাতালে বাড়ছে চিকিৎসার খরচ

Published:

Swasthya Sathi Scheme
Follow

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফ থেকে চালু করা স্বাস্থ্য বীমা প্রকল্পগুলির মধ্যে সবথেকে উল্লেখযোগ্য হল স্বাস্থ্যসাথী (Swasthya Sathi Scheme)। সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা এক রিপোর্ট অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ৭৪.৫% বাসিন্দা এই সরকারি স্বাস্থ্য বীমা কভারেজের আওতায় পড়ছে, যা নাকি দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে একইসঙ্গে রিপোর্টে উঠে এসেছে আরও এক উদ্বেগের দিক। স্বাস্থ্যসাথী কার্ড ব্যবহার করে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করল নাকি রোগীদের নিজেদের পকেট থেকে খরচ করতে হচ্ছে, যা সরকারি হাসপাতালে তুলনায় প্রায় চারগুণ বেশি।

কী বলছে রিপোর্ট?

সম্প্রতি কলকাতার সল্টলেকে অবস্থিত অমর্ত্য সেন রিসার্চ সেন্টারে অনুষ্ঠিত এক কর্মশালায় এই রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। কর্মশালার আয়োজক ছিল গবেষণার সংস্থা Pratichi। গবেষণাটি ছিল আন্তর্জাতিক যৌথ প্রকল্প Health Financing Fragmentation and Universal Health Coverage এর অন্তর্গত। যেখানে অংশ নিয়েছিল ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন এবং ওপি জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি। রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে রাজ্যের চার জেলায় সমীক্ষা চালানো হয়। সেগুলি হল মুর্শিদাবাদ, পশ্চিম বর্ধমান, জলপাইগুড়ি এবং উত্তর ২৪ পরগনা। মোট ২৫২৫টি পরিবার এবং ১০,২৩৫ জন ব্যক্তি এই সমীক্ষার আয়তায় ছিলেন।

সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, মাত্র ১৬.৬% মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সময় স্বাস্থ্যসাথী কার্ড ব্যবহার করছে। আর সরকারি হাসপাতালে গড়ে ৪০০০ টাকা খরচ পড়ছে এবং বেসরকারি হাসপাতালে সেই খরচ দাড়াচ্ছে গড়ে ১৬,০০০ টাকা করে। অর্থাৎ, প্রকল্প থাকা সত্ত্বেও বেসরকারি ক্ষেত্রে রোগীদের খরচের চাপ অনেকটাই বেশি পড়ছে। সবথেকে বড় কথা, ওষুধের জন্য গড়ে খরচ হচ্ছে ৬৭০০ টাকা এবং ডায়াগনস্টিক টেস্টে খরচ হচ্ছে ৬৮০০ টাকা।

তবে স্বাস্থ্যসাথী ব্যবহারকারীদের মধ্যে ৭০% চিকিৎসা বেসরকারি হাসপাতালেই পাওয়া গিয়েছে। আর ৩০% মানুষ চিকিৎসা নিয়েছে সরকারি হাসপাতাল থেকে। রিপোর্টে জানানো হয়েছে, যারা এই প্রকল্প ব্যবহার করেননি, তারা যে ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে গেছে এমনটা নয়। কারণ, এই প্রকল্পের মূল সমস্যাগুলি হল হাসপাতালগুলি পরিষেবা দিতে অস্বীকার করছে, এমপ্যানেলড থাকছে না, সমস্ত চিকিৎসা কভার হচ্ছে না এবং দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করতে হয়।

আরও পড়ুন: ‘ভাতার টাকায় যদি স্যালারি দেয়…’ যুবসাথীর লাইনে দাঁড়িয়ে MA, BSC

তবে যদি এই প্রকল্প অর্থাৎ স্বাস্থ্যসাথী কার্ড ব্যবহার না করা হয়, তাহলে বেসরকারি হাসপাতালে গড় খরচ পড়ছে প্রায় ২.০৯ লক্ষ টাকা, আর সরকারি হাসপাতালে প্রায় ৩৪০০ টাকা। অর্থাৎ, স্বাস্থ্যসাথী কার্ড না থাকলে বেসরকারি চিকিৎসা সাধারণ মানুষের যে নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে প্রায় ১৩.২% মানুষ এখনও পর্যন্ত এই প্রকল্পের বাইরে রয়েছে। আর তাদের ক্ষেত্রে সরকারি হাসপাতালে গড় খরচ পড়ছে ৩০০০ টাকা এবং বেসরকারি হাসপাতালে ৩.১ লক্ষ টাকা।

গুরুত্বপূর্ণ খবর পড়তে জয়েন করুন Join Now