সৌভিক মুখার্জী, বীরভূম: এত বছর ধরে যানজটের যন্ত্রণা সহ্য করে এসেছে বীরভূমের (Birbhum) দুবরাজপুরের বাসিন্দারা। ১৪ নম্বর জাতীয় সড়ক শহরের মাঝখান দিয়ে যাওয়ার কারণে প্রতিদিন ভারী পণ্যবাহী লরির চাপ বাড়ত। যার ফলে সকাল থেকে রাত যান চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হত সাধারণ মানুষের। অবশেষে সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে। বিরাট স্বস্তি পেতে চলেছে স্থানীয় বাসিন্দারা। দুবরাজপুর শহরকে এড়িয়ে তৈরি করা হচ্ছে নতুন চার লেনের আধুনিক বাইপাস।
নতুন বাইপাস সংক্রান্ত কিছু তথ্য
জানিয়ে রাখি, এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটির কয়েকটি উল্লেখযোগ্য দিক রয়েছে। প্রথমত, এই বাইপাসটির দৈর্ঘ্য হবে ৬ কিলোমিটার এবং এটি চার লেনের প্রশস্ত একটি আধুনিক রাস্তা। এই প্রকল্পের জন্য মোট ২৩২ কোটি ৩৭ লক্ষ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। আর সমবায় হিমঘর এলাকা থেকে শুরু করে সাতকেন্দুরির কাছে মূল সড়কের সংযুক্ত হবে এই বাইপাসটি। এমনকি এটি চালু হলে শহরের ভেতর দিয়ে ভারী যানবাহনের প্রবেশ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে।
বলে দিই, ইতিমধ্যেই তৎপরতার সঙ্গে শুরু হয়েছে কাজ। জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নির্ধারিত নকশা অনুযায়ী এলাকায় বড় বড় স্থাপনা ভাঙার কাজে চলছে। আর ভারী যন্ত্রপাতি এবং নির্মাণকারীরাও মাঠে নেমে পড়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, বহুদিনের দাবি অবশেষে পূরণ হতে চলেছে। অনেকেই মনে করছেন যে, এটি শুধুমাত্র রাস্তা নয়, বরং দুবরাজপুরের ভবিষ্যতের সংযোগ।
আরও পড়ুন: বুথের ভিতরে-বাইরে সিসিটিভি বাধ্যতামূলক! ভোট প্রস্তুতিতে কড়া নির্দেশ কমিশনের
এদিকে এ বিষয়ে এলাকার বিধায়ক অনুপ সাহা জানিয়েছেন, এই ফোর লেন বাইপাস দুবরাজপুরের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। তিনি বলেছেন, শহরের ভিতর দিয়ে জাতীয় সড়ক যাওয়ার কারণে প্রতিনিয়ত সমস্যার মুখে পড়তে হত সাধারণ মানুষকে। সেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতেই প্রশাসনের তরফ থেকে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন মন্ত্রকের অনুমোদন পাওয়ার পরেই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পথের দিকে এগিয়েছে। আর এই প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন মন্ত্রী নীতি গড়করির দফতরের সহযোগিতার কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন।












