প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: দেখতে দেখতে প্রায় চলেই এল উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা (HS Exam 2025)। আগামী ৩ মার্চ থেকে শুরু হতে চলেছে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা। যা শেষ হবে আগামী ১৮ মার্চ। প্রশ্নপত্রের মাইক্রোপ্যাকেজিং, বারকোড এবং কিউআর কোডের নিরাপত্তা সহ মেটাল ডিটেক্টর ইত্যাদি নিয়ে তৈরি সমস্ত পরীক্ষাকেন্দ্র। চলতি বছরেই শেষ হবে পুরোনো সিলেবাসের পরীক্ষা। পরের শিক্ষাবর্ষ থেকেই শুরু হচ্ছে সেমেস্টার পদ্ধতি। এদিকে রিপোর্ট সূত্রে জানা যাচ্ছে এই বছর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদের সংখ্যা গত বছরে তুলনায় প্রায় আড়াই লক্ষ কম। যা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। আর এর সঙ্গেই জুড়ছে আবার ট্যাবের প্রসঙ্গ।
তরুণের স্বপ্ন প্রকল্পে ট্যাব পাওয়ার পরেও কমল পরীক্ষার্থীর সংখ্যা!
বিগত কয়েক বছরের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের রেকর্ড দেখলে জানা যাবে ২০২৩ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাশ করেছিল ৫ লক্ষ ৬৫ হাজার ৪২৮ জন । যদিও একাদশ শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশন করেছিল প্রায় ৫ লক্ষ ৬৪ হাজার জন । সেখান থেকে পরে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৫ লক্ষ ৮ হাজার ৪১৩ জন ৷ এই বছরেও সেই একই চিত্র দেখা গেল। যদিও এই বছর পরীক্ষায় ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীর সংখ্যা ৪৭ হাজার ৫৭১ জন বেশি । এবার ছাত্রের সংখ্যা ২ লক্ষ ৩০ হাজার ৪২১ জন৷ ছাত্রীর সংখ্যা ২ লক্ষ ৭৭ হাজার ৯৯২ জন । ২৩ টা জেলাতেই এগিয়ে রয়েছে ছাত্রীরা। লক্ষ্য করা গিয়েছে ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার স্বার্থে ট্যাব প্রদান করেও কোনো লাভ হচ্ছে না।
রাজ্য সরকার একাদশ এবং দ্বাদশ এই দু’টি শ্রেণিতে ছাত্রছাত্রীরা তাদের পড়াশোনার জন্য যাতে মোবাইল ফোন বা ট্যাব ব্যবহার করতে পারে, তার জন্যই ‘তরুণের স্বপ্ন’ প্রকল্প নিয়ে এসেছিল। এই প্রকল্পে দ্বাদশের পরিবর্তে একাদশ থেকেই মোবাইল কেনার ১০ হাজার টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় নবান্ন। তবে তার অসৎ সুযোগ নিতে শুরু করেছে এক শ্রেণির ছাত্রছাত্রী। ট্যাব কেনার টাকা পাওয়ার পরেই পড়াশোনা ছেড়ে দিচ্ছে তাঁরা। চলতি বছর প্রায় ৫৫ হাজার ছাত্রছাত্রীর উচ্চ মাধ্যমিকে নাম নথিভুক্ত না করার ঘটনা দেখা গিয়েছে।
কী বললেন উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি?
এদিকে এত বেশি পড়ুয়ার পরীক্ষা না দেওয়ার পিছনে আসল কারণ হিসাবে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য জানিয়েছেন যে, “মাধ্যমিক পরীক্ষার পর বহু পড়ুয়াই একাদশ শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশন করে নেয় অনেকে। কিন্তু পরে অন্য কোর্সে চলে যায়। অনেকেই আবার ডিপ্লোমা করে। অনেকে বিভিন্ন চাকরিতে যোগ দেয়৷ তাই সেই ক্ষেত্রে এবার উচ্চমাধ্যমিকে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে।” এছাড়াও তিনি আরও জানিয়েছেন যে, “ চলতি বছরে মাত্র ১০ শতাংশ মতো পরীক্ষার্থী ‘ড্রপ আউট’ করেছে। যদিও এটাকে ‘ড্রপ আউট’ বলা ঠিক না ৷ কারণ অনেকে অন্যদিকে পড়তে চলে যায় ৷ আবার অনেকে একবছর ড্রপ করে পরের বছর ভালো করে প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষা দেয়৷ তবে সেই সংখ্যাটা খুবই সামান্য ৷”
আর পড়ুনঃ ১০ হাজার টাকা বোনাস, এক সপ্তাহের ছুটি! পুলিশ কর্মীদের জন্য ঘোষণা রাজ্য সরকারের
প্রসঙ্গত, এই বছর মোট উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা কেন্দ্রের সংখ্যা ২০৮৯ টি । তার মধ্যে স্পর্শকাতর কেন্দ্র হল ১৩৬। এই বছর সমস্ত পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের আগে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে চেক করা হবে পড়ুয়াদের । তার সঙ্গে প্রত্যেকটা পরীক্ষা কেন্দ্রের কম করেও দু’জন পর্যবেক্ষক থাকবেন। তার সঙ্গে প্রত্যেকটা পরীক্ষা কেন্দ্রে কম করে দুটো সিসিটিভি ক্যামেরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এবার প্রশ্নপত্রে থাকবে ডিজিটাল সিরিয়াল নম্বর। এছাড়াও থাকবে ইউনিক সিরিয়াল নম্বর। যা লিখতে হবে উত্তরপত্রে। তার পাশাপাশি কিউআর কোড এবং বারকোড থাকবে প্রত্যেকটি প্রশ্নপত্রে।
গুরুত্বপূর্ণ খবরের জন্য | Join Group |
চাকরির খবরের জন্য | Join Hood Jobs |
রাশিফলের জন্য | Join Hood Rashifal |
খেলার খবরের জন্য | Join Whatsapp |