প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: দেশ স্বাধীনের জন্য যেমন একাধিক বিপ্লবী নিজেদের প্রাণ উৎসর্গ করেছিলেন ঠিক তেমনই দেশ স্বাধীনের পর দেশের সুরক্ষার্থে প্রাণ বিসর্জন দিচ্ছেন একের পর এক সেনাকর্মীরা। যেখানে উৎসবের দিনগুলিতে সাধারণ মানুষজন আনন্দে মেতে ওঠেন তখন এই সেনা জওয়ানরা দেশের সীমানায় থেকে শত্রুপক্ষের সঙ্গে ভয়ানক লড়াই করেন দেশবাসীর প্রতিরক্ষার কথা ভেবে। আর এভাবেই ২৪ বছর ধরে দেশের সেবা করে অবসর নিয়ে নিজের বাড়ি ফিরলেন আর্মি জুনিয়র কমিশন অফিসার রিয়াজ আনসারি। যিনি কিনা পৃথিবীর উচ্চতম রণক্ষেত্র সিয়াচেন গ্লেসিয়ারে অপারেশন মেঘদূতে শামিল হয়ে দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর নাম উজ্জ্বল করেছেন।
বাড়ি ফিরলেন বীর যোদ্ধা
গতকাল অর্থাৎ বুধবার, ঘড়ির কাঁটায় যখন সকাল ৯টা, তখন বলরামপুর স্টেশনে পুরী-নিউ দিল্লি পুরুষোত্তম এক্সপ্রেস থেকে নামল আর্মি জুনিয়র কমিশন অফিসার রিয়াজ আনসারি (Army Officer Riyaz Ansari)। সেই সময় স্টেশন জুড়ে তাঁর জন্য অপেক্ষা করে রয়েছে এলাকার মানুষজন। দেখা মিলতেই সকলে ছুটে এসে তাঁর গলায় মালা পরিয়ে বরণ করে নেন। এবং স্টেশন থেকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য বলরামপুরের একটি ক্লাবের তরফ থেকে দেশের জাতীয় পতাকা দিয়ে সাজানো গাড়িতে সমগ্র বলরামপুর বাজার পরিক্রমা করানো হয়। তাঁকে এক পলক দেখার জন্য ভিড় উপচে পড়ে ওই গাড়ির চারপাশে।
ভালোবাসা, শ্রদ্ধা এবং সম্মানে আপ্লুত রিয়াজ
এলাকায় যখন কোনো সেলিব্রেটি বা কোনো বড় রাজনৈতিক নেতা আসে, সেই সময় সকলেই ভিড় করে তাঁকে দেখার জন্য অপেক্ষা করে থাকে। কয়েকশো অটোগ্রাফ এবং সেলফি তো থাকেই তার সঙ্গে। আর সেই রকমই একই অভিজ্ঞতা হল কমিশন অফিসার রিয়াজ আনসারির সঙ্গে। তাঁর সঙ্গে করমর্দন, সেলফি তুলতে গিয়ে রীতিমত হুড়োহুড়ি অবস্থা হয়ে যায়। এত বড় কিছু যে তাঁর জন্য অপেক্ষা করছিল সেটা সে ঘুণাক্ষরেও জানতে পারেনি। এলাকার মানুষের এত ভালোবাসা, শ্রদ্ধা এবং সম্মান দেখে চোখে জল চলে এসেছিল অবসরপ্রাপ্ত এই সেনা কর্মীর। এই প্রসঙ্গে বলরামপুর মসজিদ পাড়ার বাসিন্দা রিয়াজ আনসারি জনাব, “এভাবে যে সংবর্ধনা পাব তা ভাবতেও পারিনি। ভীষণ ভালো লাগছে। মনে হচ্ছে জীবনে সত্যিই কিছু কাজ করে বাড়িতে এসেছি।”
প্রসঙ্গত, ২০০১ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। যোগদান করতেই এক বড় প্রজেক্টে যোগদান করেন তিনি। জানা গিয়েছিল ওই বছরের শেষ দিকে দিল্লির সংসদ ভবনে জঙ্গি হামলায় বুক চিতিয়ে লড়াই করেন। ২০০২ থেকে ২০০৩- প্রায় এক বছর প্যারেন্ট রেজিমেন্ট ইন্ডিয়ান আর্মি আর্টিলারি সেন্টার নাসিকের ময়দানি তোপখানায় কর্মরত ছিলেন।
আরও পড়ুনঃ গোয়াকে উড়িয়ে ফাইনালের পথ চওড়া করল সুনীলের বেঙ্গালুরু, বিপদ বাড়ল বাগানের?
তারপর জম্মু ও কাশ্মীরের লাইন অফ কন্ট্রোলের মতো এলাকায় নজরদারি চালাতে হয়েছে। কর্মজীবনে দু-দুবার কমান্ডো বাহিনীতে যোগদান করে দেশের সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছিলেন। এমনকি কমান্ডো বাহিনীতে থাকাকালীনও জম্মু-কাশ্মীরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাউন্টার ইনসারজেন্সি অপারেশনে অংশ নিয়েছিলেন। আর এই বীর ছেলের জন্য ভারতমাতা সত্যিই গর্ব বোধ করে।
গুরুত্বপূর্ণ খবরের জন্য | Join Group |
চাকরির খবরের জন্য | Join Hood Jobs |
রাশিফলের জন্য | Join Hood Rashifal |
খেলার খবরের জন্য | Join Whatsapp |