বাড়ির দেওয়ালে বল লাগায় শিশুদের উপর গুলি বর্ষণ মুর্শিদাবাদের শিক্ষকের! আহত এক

Published:

School Teacher Firing At Children
Follow

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বাড়ির দেওয়ালে বল লাগায় শিশুদের উদ্দেশ্যে গুলি চালানোর অভিযোগে (School Teacher Firing At Children) গ্রেফতার প্রাথমিক শিক্ষক। আহত এক শিশু। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সেই শিশু। ঘটনাটি ঘটেছে রঘুনাথগঞ্জ থানার বানিপুর এলাকায়। অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে তার বাড়ি থেকে একটি বন্দুক উদ্ধার করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি এলাকা জুড়ে।

শিশুদের উদ্দেশ্যে গুলি চালান শিক্ষক

গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার, সন্ধ্যায়, মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জ থানার বাণীপুর এলাকায় ঘটে যায় এক ভয়ংকর মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। রিপোর্ট মোতাবেক, সেখানকার বাসিন্দা অভিযুক্ত ওমরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সমীরকুমার মণ্ডলের বাড়ির পাশেই একটি বড় মাঠ রয়েছে। প্রতিদিনের মতো গতকালও বিকেলেও ১০ থেকে ১২ জন শিশু ক্রিকেট ও ফুটবল খেলছিল। খেলা চলাকালীন আচমকা সমীরের বাড়ির দরজায় এবং দেওয়ালে কয়েকবার বল গিয়ে লাগে। যদিও এই বিষয়টি নিয়ে পূর্বেও আপত্তি জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তার পরেও শিশুরা মাঠে খেলতে থাকায় রেগে গিয়ে সমীর পাখি মারার বন্দুক দিয়ে শিশুদের উদ্দেশ্যে গুলি চালান। পাঁচ থেকে ছ’রাউন্ড চলে গুলি।

আহত ১ শিশু

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সমীর কুমার মণ্ডল গুলি চালাতেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে শিশুরা এবং ভয়ে ছুটে পালানোর চেষ্টা করে। আর সেই সময় এক শিশুর হাতে গুলি লাগে। বর্তমানে আহত শিশুটিকে জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় রঘুনাথগঞ্জ থানার পুলিশ। অভিযুক্ত শিক্ষককে তাঁর বাড়ি থেকে আটক করা হয়। আহত শিশুর বাবা বিশ্বজিৎ সাহা জানান, “প্রতিদিনের মতো ১০-১২ জন বাচ্চা খেলছিল। বল সমীর বাড়ির দরজায় লাগতেই তিনি বন্দুক নিয়ে বেরিয়ে এসে গুলি চালান। আমার ছেলের হাতে গুলি লাগে। সঙ্গে সঙ্গে আমরা জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাই।” অভিযুক্তের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি বন্দুকও। যা একটি আধুনিক ‘এয়ারগান’ বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ১৭০০ অতীত, রাজ্য সরকারের এই প্রকল্পে মহিলারা পাবেন ৫০০০ টাকা

ধৃত শিক্ষক সমীর কুমার মন্ডলের দাবি, “ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যেই গুলি চালিয়েছিলাম। কারও গায়ে লাগবে বুঝতে পারিনি।” ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। উদ্ধার করা বন্দুকটির বৈধ লাইসেন্স আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও অভিযুক্তের পরিবারের দাবি, প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেখিয়েই কলকাতা থেকে এই এয়ারগানটি কেনা হয়েছিল। ঘটনার পর এলাকায় শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ পুরো বিষয়টি তদন্ত করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

গুরুত্বপূর্ণ খবর পড়তে জয়েন করুন Join Now