বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: বাংলার শিক্ষিত বেকারদের মাসিক অর্থসংস্থান করে দিতে বিশেষ প্রকল্প যুবসাথী (Banglar Yuva Sathi) চালু করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। শিবরাত্রির দিন অর্থাৎ রবিবার থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্র স্বনির্ভর বাংলা ক্যাম্প থেকেই আবেদনপত্র নিয়ে সেখানেই জমা করা যাচ্ছে। তাতে ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তবেই যুবসাথী প্রকল্পের আবেদন করতে পারছেন আবেদনকারীরা। তবে স্বনির্ভর বাংলা ক্যাম্পে গিয়ে মাসিক ভাতা প্রকল্পের ফর্ম ফিলাপ না করতে চাইলে অনলাইনেও করা যাবে আবেদন। তবে আবেদনকারীদের একটা বড় অংশের প্রশ্ন, কোন পদ্ধতিতে আবেদন জানানো ভাল?
কতদিন পর্যন্ত চলবে আবেদন প্রক্রিয়া?
সরকারি গাইডলাইন অনুযায়ী, গতকাল অর্থাৎ 15 ফেব্রুয়ারি থেকে আগামী 26 ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে যুবসাথী প্রকল্পের আবেদন প্রক্রিয়া। সরকারের তরফে আগেই স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, রাজ্যের 294টি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রতিটি কেন্দ্রে খোলা হচ্ছে একটি করে ক্যাম্প। যদিও অনেকেই মনে করছেন, আগামী দিনে নতুন বিবৃতি জারি করে যুবসাথী প্রকল্পে আবেদনের সময়সীমা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে সরকার। তবে পরবর্তী আপডেট না আসা পর্যন্ত আপাতত 26 ফেব্রুয়ারিই এই প্রকল্পে আবেদনের শেষ তারিখ।
অনলাইন না অফলাইন কোন পদ্ধতিতে আবেদন করা ভাল?
রবিবার সকাল থেকেই যুবসাথী প্রকল্পে আবেদনের জন্য নিকটবর্তী স্বনির্ভর বাংলা ক্যাম্পের সামনে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন আবেদনকারী। ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করার পর আধিকারিকদের কাছে নিজেদের প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও ফর্ম জমা দিয়ে ফিরছেন বাংলার শিক্ষিত বেকাররা। তবে অনেকেরই দাবি, যুবসাথী প্রকল্প থেকে মাসিক ভাতা নিয়ে রাজ্যের একটা বড় অংশের মানুষ আবেদন করছেন। যার ফলে ক্যাম্পের সামনে পড়ছে লম্বা লাইন। তাতে অনেককে বিকেল 5টা পর্যন্ত অপেক্ষা করে বাড়ি ফিরে আসতে হচ্ছে।
অবশ্যই পড়ুন: T20 বিশ্বকাপে ফের মুখোমুখি হবে ভারত-পাকিস্তান! কবে, কীভাবে? দেখুন
এদিকে আবেদনকারীদের সমস্যা কিছুটা কমাতে অনলাইনে আবেদন জমা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হলেও আবেদনকারীদের একাংশের দাবি অনলাইনে OTP জনিত সমস্যা দেখা দিচ্ছে। মোবাইল নম্বর দিয়ে ক্যাপচা দেওয়ার পরও নির্দিষ্ট নম্বরে OTP আসছে না। অনেকেই আবার কিছু যান্ত্রিক ত্রুটির সম্মুখীন হচ্ছেন। সবমিলিয়ে, সরকারের তরফে অনলাইনে যুবসাথীর আবেদন প্রক্রিয়া চালু করা হলেও তাতে অনেক ক্ষেত্রেই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে আবেদনকারীদের। এ প্রসঙ্গে ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, একটু কষ্ট হলেও অফলাইনে ক্যাম্পে গিয়েই আবেদনপত্র জমা দেওয়া উচিত। তাতে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তাছাড়াও আবেদনকারীরা নিজেরাও অনলাইনের তুলনায় অফলাইনে আবেদনপত্র পূরণ করে তা জমা দেওয়ার বিষয়ে বেশি আগ্রহী। কয়েকজন সরকারি আধিকারিকও মনে করছেন, অনলাইনে টেকনিক্যাল সমস্যা এড়াতে স্বশরীরে ক্যাম্পে গিয়ে আবেদন করাই ভালো।











