প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: দীর্ঘদিনের যানজট নিয়ে ক্রমেই অসুবিধায় পড়ছে এলাকাবাসী, বারাকপুরের লাইফ লাইন বলে পরিচিত বারাকপুর-বারাসত রোড (Barrackpore Barasat Four Lane Project) সম্প্রসারণ করা নিয়ে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হয়েছিল। অবশেষে সেই আবেদনে সাড়া দিল পূর্তদপ্তর। ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে এবার ওই দু’লেনের রাস্তা চার লেন করা হতে চলেছে। জানা গিয়েছে, খুব শীঘ্রই শুরু হতে চলেছে এই রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ।
যানজটের সমস্যা বারাকপুর-বারাসত রোডে
উল্লেখ্য, বারাকপুরের ১৫ নম্বর রেলগেটের উপর থাকা উড়ালপুল থেকে ওয়্যারলেস মোড় পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা চওড়া করার দাবি তুলেছিল স্থানীয়রা। কারণ নোনা চন্দনপুকুর বাজারের সামনে রাস্তার ধারেই রয়েছে স্কুল, বিভিন্ন অফিস, ক্লাব, সুইমিং পুল। কিন্তু রাস্তাটি খুবই সরু হওয়ায় ফলস্বরূপ অফিস টাইমে যাতায়াত করা খুবই কষ্টকর হয়ে ওঠে। এদিকে এই সমস্যা শুধুই নোনা চন্দনপুকুর নয়, মসজিদ মোড়, মাঠপাড়া, জাফরপুর মোড় এই জায়গাগুলিতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। তাই ওই রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য স্থানীয় বিধায়ক রাজ চক্রবর্তী পূর্তমন্ত্রী পুলক রায়ের কাছে আবেদন করেন এবং সেই আবেদনে পরে সবুজ সংকেত দেয় পূর্তদপ্তর।
বরাদ্দ হতে চলেছে ২০ কোটি টাকা
রিপোর্ট মোতাবেক, বারাসত বারাকপুরের এই রাস্তা চার লেনের জন্য ২০ কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। এর মধ্যে বিদ্যুতের খুঁটি সহ বিভিন্ন ইউটিলিটি সার্ভিস সরানোর জন্য ছ’কোটি টাকা বরাদ্দ ধরা হয়েছে। কয়েকদিন আগেই পূর্ত দফতর, কেএমডিএ, বিদ্যুৎ দফতর এবং পুরসভার ইঞ্জিনিয়াররা রাস্তাটি পরিদর্শন করে হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে রাস্তার দু’ধারে নর্দমা নির্মাণ করা হবে। আর তখনই বিদ্যুতের খুঁটি ও মাটির নীচে থাকা পাইপলাইন সরানোর কাজও চলবে। এই কাজের জন্য প্রায় আট কোটি টাকা বরাদ্দ ধরা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে আগামী এক বছরের মধ্যেই চার লেনের কাজ সম্পূর্ণ হবে। এই প্রসঙ্গে বিধায়ক রাজ চক্রবর্তী জানান, এই রাস্তাটির সম্প্রসারণ অত্যন্ত জরুরি ছিল।
আরও পড়ুন: দোলে ৩৩০ জনকে গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশ, বাজেয়াপ্ত ২৫ লিটার মদ
রাজ্য সরকারের এই প্রকল্প অনুমোদন হওয়ায় খুব খুশি এলাকার মানুষজন। নোনা চন্দনপুকুর বাজারের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এই রাস্তা সম্প্রসারিত হলে সাধারণ মানুষের খুবই উপকার হবে। বাজারের সময় এত ভিড় হয় এই রাস্তায় যান চলাচল থমকে যায়। সরকার অত্যন্ত ভালো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। প্রশাসনের দাবি, এই সম্প্রসারণের ফলে যানজট অনেকটাই কমবে এবং বারাকপুর ও বারাসত সংযোগ আরও মসৃণ হবে।












