প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের আবহে বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে একের পর এক বিতর্ক তৈরি হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। SIR নিয়ে ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধর্মতলায় মেট্রো চ্যানেলে ধরনায় বসেছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তুলে ধরছেন একের পর এক অভিযোগ। আর এই অবস্থায় গর্জে উঠল সরকারি কর্মীরা। DA না দিয়ে যুবসাথীর টাকা ঘোষণা করায় কাটমানির প্রসঙ্গ তুললেন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ। ভোটে মমতাকে (Mamata Banerjee) দেখে নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিলেন।
কাটমানির প্রসঙ্গ তুললেন ভাস্কর
কনফেডারেশন এবং সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ রাজ্য সরকারের যুবসাথী প্রকল্প নিয়ে ক্ষুব্ধতা প্রকাশ করেন। গত ৭ মার্চ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধর্মতলার ধরনা মঞ্চ থেকে ঘোষণা করেছিলেন যে ১ এপ্রিল থেকে নয়, যুবসাথীর টাকা ৭ মার্চ থেকে দেওয়া হবে। আর সেই ঘোষণা নিয়ে বিরোধী পক্ষ থেকে উঠে আসে একাধিক কটাক্ষ। কীসের জন্য এই তাড়াহুড়ো তাই নিয়ে ওঠে প্রশ্ন, এবার সেই নিয়ে এক সাক্ষাৎকার পর্বে ভাস্কর ঘোষ কাটমানির প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেন, “ অনেকেই জানেন না যে রাজ্যের উচ্চপদস্থ আমলাকারীদের মধ্যে কতজনকে যুবসাথী দেওয়া হচ্ছে, এমনকি RTI করেও সেই তথ্য মিলবে না, কারণ এই সরকার যদি ৭০ লক্ষ বেকারদের মাসে ১৫০০ করে দেয় তাহলে রেকর্ডে এন্ট্রি হবে ১ কোটি উপোভোক্তাদের দেওয়া হচ্ছে। বাকি ৩০ লক্ষকে ভুতুড়ে সাজিয়ে টাকা পার্টি ফান্ডে ঢোকাবে। এইভাবেই চলবে কাটমানি।”
DA নিয়ে খোঁচা সরকারকে
গত শুক্রবার, সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা (Dearness allowance) মামলার রায় কার্যকর করার সময়সীমা বাড়ানোর জন্য নতুন করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জমা দিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। জানানো হয়েছিল, ডিএ বকেয়া পরিশোধ সংক্রান্ত নির্দেশ বাস্তবায়নে একাধিক প্রশাসনিক, প্রযুক্তিগত এবং আর্থিক জটিলতার মুখে পড়তে হচ্ছে। সেই কারণেই অন্তত ২৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ এবং প্রথম কিস্তির অর্থ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হোক। যদিও এখনও এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের তরফে কিছুই জানানো হয়নি। এই নিয়েও ভাস্কর ঘোষ বলেন, “এটি আসলে সুপ্রিম কোর্টকে বিভ্রান্ত করে সময় নষ্ট করা ছাড়া কিছুই নয়। তাঁরা নিজেরাই জানেন আজ নয়ত কাল DA মেটাতে হবে সকলকে। আমরাও আপনাকে ভোটের ময়দানে ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে বুঝে নেব। ”
আরও পড়ুন: রাজ্যে জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষার দিন ঘোষণা, দেখুন সূচি
সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ বলেন, “মমতা সরকারকে বুঝিয়ে দেব কর্মচারীদের প্রতি যদি এরূপ দৃষ্টিভঙ্গি তিনি চালিয়ে যান তাহলে মে মাসের পরে এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর নাম মমতা ব্যানার্জি হবে না। রাজ্যবাসী তখন বুঝবে সরকার আসলে সরকারি কর্মীরা চালায় কোন কালীঘাটের লোকজন এই সরকার চালায় না। ” প্রসঙ্গত, আগামী ১৩ মার্চ রাজ্য জুড়ে সরকারি অফিস অচল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সরকারি কর্মচারী সংগঠনের নেতারা। যদিও যে কোনও ধর্মঘটের ক্ষেত্রে বরাবর কড়া অবস্থান নিয়ে এসেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এবার সেই সরকার আদৌ কর্মীদের সঙ্গে সংঘাতে যাবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।












