সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ এ কোন চন্দননগর স্টেশন (Chandannagar Railway Station)! চন্দননগর রেলওয়ে স্টেশন হল হাওড়া-বর্ধমান মেইন লাইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কলকাতা শহরতলি রেলওয়ে স্টেশন, যা হুগলি জেলায় অবস্থিত এবং পূর্ব রেল (ER) জোনের অধীনে পড়ে। তবে এবার আমূল বদলে যেতে চলেছে সকলের প্রিয় চন্দননগর স্টেশন। এমন ভোলবদল হবে যে দেখলে মানুষ রীতিমতো হকচকিয়ে যাবেন। ইতিমধ্যে স্টেশনের একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেছে রেল। আর যা দেখে চোখ কপালে উঠেছে সকলের। জানা গিয়েছে, কয়েক কোটি টাকা খরচে বদলে যাবে এই স্টেশনটি।
আমূল বদলে যাচ্ছে চন্দননগর স্টেশন
জানা গিয়েছে, এখানে একাধিক প্ল্যাটফর্ম রয়েছে এবং এটি স্থানীয় ট্রেন ও দূরপাল্লার ট্রেনের জন্য একটি ব্যস্ত কেন্দ্র। এখন অমৃত ভারত প্রকল্পের অধীনে উন্নত করা হচ্ছে। আগামী দিনে থাকবে একদম উচ্চ মানের সুযোগ সুবিধা। এই বিষয়ে রেলের তরফে দাবি করা হয়েছে, ‘কাজ শেষ হলে চন্দননগর হবে একটি বিশ্বমানের স্টেশন – যা ফরাসি নান্দনিকতা এবং ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অনন্য সংমিশ্রণ হয়ে উঠবে। চন্দনগর স্টেশন কেবলমাত্র একটি স্টেশন থাকবে না, বরং এটি হবে এক উদীয়মান আধুনিক ভারতের প্রতীক, যা তার ইতিহাসকে সম্মান জানিয়ে ভবিষ্যতের দিকে দ্রুত এগিয়ে চলে।’
🇮🇳 From “Liberté” to Modern Mobility!
Under Amrit Bharat Station Scheme, historic Chandannagar Station is being redeveloped into a world-class city-centre hub.
💰 ₹9.48 Cr project by Eastern Railway
🏗️ New station building, modern circulating area & FOB
🧭 1,574 sqm platform… pic.twitter.com/vMaPoIuh72— DRM Howrah (@drmhowrah) February 18, 2026
কী কী সুযোগ সুবিধা থাকবে?
স্টেশনের মধ্যে আগামী দিনে কী কী সুযোগ সুবিধা থাকবে সে বিষয়ে একটি তালিকা দিয়েছে রেল। সেই তালিকা অনুযায়ী, স্টেশনটিকে আরও ভালো করতে পূর্ব রেলের খরচ হবে ৯.৪৮ কোটি টাকা। আধুনিক নতুন স্টেশন বিল্ডিং থাকবে, ১৫৭৪ স্কোয়ার মিটারের প্ল্যাটফর্ম শেড, ৩৫০০ স্কোয়ার মিটারের আধুনিক প্ল্যাটফর্ম, আধুনিক বিশ্রামাগার, লাউঞ্জ, এটিভিএম (অটোমেটিক টিকিট ভেন্ডিং মেশিন), হাই-স্পিড মোবাইল বা ল্যাপটপ চার্জার এবং পরিবেশ-সচেতন যাত্রীদের জন্য ইভি (বৈদ্যুতিন গাড়ি) চার্জিং স্টেশন থাকবে।
আরও পড়ুনঃ হাওড়া ডিভিশনে একধাক্কায় বাতিল ৩০টি লোকাল ট্রেন, তালিকা দিল পূর্ব রেল
এছাড়াও স্টেশনের দেওয়ালগুলো ক্যানভাস হিসেবে ব্যবহৃত হবে, যা স্থানীয় ঐতিহ্য এবং শহরের বিখ্যাত শিল্পকলাকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলবে। শারীরিকভাবে বিশেষ সক্ষমদের জন্য থাকবে র্যাম্প, সিসিটিভি, অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়াও ভবিষ্যতে সোলার পাওয়ার, বৃষ্টির জল সংগ্রহ এবং উন্নত ডিজিটাল ডিসপ্লে সহ ভিডিও ওয়াল ও সিজিডিবি থাকবে। রেলের দাবি, ফরাসি ঐতিহ্য এবং আধুনিক ভারতীয় প্রকৌশলের নিখুঁত মিশ্রণ—চন্দননগর কেবল একটি স্টেশন নয়, এটি নতুন ভারতের একটি প্রতীক হয়ে উঠতে চলেছে।












