খাস কলকাতায় মুহুর্মুহু ফায়ারিং, বোমাবাজি! ঢাকুরিয়া কাণ্ডে অভিযুক্ত তৃণমূল ঘনিষ্ঠ সোনা পাপ্পু

Published:

Chaos In Dhakuria

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে যেখানে জনসংযোগ বৃদ্ধি করতে তৎপর শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস সেখানে দাঁড়িয়ে একের পর এক গুরুতর অভিযোগের সম্মুখীন হচ্ছে তাঁদের। আর এই অবস্থায় গুলশন কলোনির ছায়া দেখা গেল ঢাকুরিয়ায়। এলাকা দখলকে কেন্দ্র করে রবিবার রাতে উত্তপ্ত (Chaos In Dhakuria) হয়ে উঠল ঢাকুরিয়ার কাঁকুলিয়া রোড। এমনকি গুলিও চালানো হয় বলে অভিযোগ। গোটা ঘটনায় সোনা পাপ্পু নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগ তৃণমূলের সঙ্গে নাকি ঘনিষ্ঠতা রয়েছে এই অভিযুক্তের। কিন্তু কে এই সোনা পাপ্পু?

উত্তপ্ত ঢাকুরিয়া

রিপোর্ট অনুযায়ী, গতকাল অর্থাৎ রবিবার রাতে আচমকাই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল ঢাকুরিয়ার কাঁকুলিয়া রোড। এদিন রাতে আচমকা ৩৫-৪০ জন এলাকায় হামলা চালায়। বোমাবাজির পাশাপাশি চলে এলোপাথাড়ি গুলি। এমনকি চপার নিয়েও হামলা চালানো হয়। বোমাবাজিতে বেশ কয়েকজন জখম হন। পুলিশের গাড়ি এবং স্থানীয়দের বাইক ভাঙচুর করা হয়। রাস্তায় ছোড়া ইট, গুলির খোল এবং বোমার সুতলি উদ্ধার করা হয়েছে। জায়গায় জায়গায় রক্তের দাগও পাওয়া গিয়েছে। আহত দু’জনকে এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে আসেন ডিসি ভোলানাথ পাণ্ডে। তিনি বলেন, “এই ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের প্রত্যেক বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে।”

শাসকদলের সঙ্গেও নাকি যোগসূত্র রয়েছে পাপ্পুর

রবিবার রাতে ঢাকুরিয়ায় এই ভয়ংকর কাণ্ডের জেরে ঘটনাস্থলে যান স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর চৈতালি চট্টোপাধ্যায় ও পাশের ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়। তাঁদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। এমনকি রেহাই পায়নি পুলিশ বাহিনীও। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই ঘটনায় একমাত্র দায়ী সোনা পাপ্পু নামে এক যুবক। গতকাল রাতে নাকি তাঁর অনুগামীরাই এলাকা দখলের লড়াইয়ে এই হামলা চালিয়েছিল। অভিযোগ শাসকদলের সঙ্গেও নাকি যোগসূত্র রয়েছে এই পাপ্পুর। পৌরনিগমের ভোট হোক বা অন্যান্য নির্বাচন, বিরোধীদের ঘর-বন্দি করে রাখতে শাসকদলের অস্ত্র এই কুখ্যাত দুষ্কৃতী।

জানা গিয়েছে, কসবা বিধানসভার এই এলাকাজুড়ে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ প্রায়ই ওঠে। সেক্ষেত্রে প্রতিটি বেআইনি নির্মাণের পিছনে সোনা পাপ্পু রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। তাঁদের মধ্যে বেআইনি নির্মাণ নিয়ে শাসকদলের দু’টি থেকে তিনটি গোষ্ঠী এখন এলাকা নিয়ন্ত্রণে ব্যস্ত। আর সেই নিয়ে ঝামেলার সূত্রপাত। ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সোনা পাপ্পুর সঙ্গে শাসকদলের একাধিক নেতার ছবি সামনে এসেছে। কখনও কসবার বিধায়ক জাভেদ খানের সঙ্গে তো কখনও আবার বিধায়ক তথা তৃণমূলের দক্ষিণ কলকাতার জেলা সভাপতি দেবাশিস কুমারের একাধিক কর্মসূচিতে দেখা গিয়েছে অভিযুক্তকে।

আরও পড়ুন: শিশুশিল্পীকে যৌন হেনস্থার অভিযোগ সায়কের বিরুদ্ধে! বিস্ফোরক লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের ছেলে

গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূলকে আক্রমণ করেছেন বিজেপি নেতা সজল ঘোষ। তিনি বলেন, “সোনা পাপ্পু তৃণমূল কাউন্সিলরের যেন আপন ভাই। তাইতো কোনো ঘটনকর ঘটনা ঘটলেও সে ছাড়া পেয়ে যাবে।” যদিও এই প্রসঙ্গে তৃণমূল বিধায়ক দেবাশিস কুমার বলেন, “যে এটা করেছে, তাকে গ্রেফতার করা উচিত। আমার সঙ্গে থাকলেই যে তার শাস্তি হবে না, এমনটা নয়। যে মঞ্চেই থাকুক, অন্যায় যে করবে, তার শাস্তি হওয়া উচিত।” অন্যদিকে ৯১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় বলেন, “এলাকা দখলের কোনও ব্যাপার নেই। এটা তৃণমূলের আমল। প্রশাসন পুরো বিষয়টি দেখছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।”

google button