বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: চিরকালই বাঙালির পছন্দের পর্যটন কেন্দ্র দীঘা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে মেদিনীপুরের এই সমুদ্র নগরীতে জগন্নাথ ধাম গড়ে ওঠার পর সেখানে দর্শনার্থীদের ঢল যেন উপচে পড়ছে। দীঘায় পর্যটকদের সংখ্যা প্রতিদিন যেন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। আর সেসব কথা মাথায় রেখেই যাত্রীদের সুবিধার্থে বড় সিদ্ধান্ত নিল দক্ষিণ পূর্ব রেল (Digha Special Train)। জানা যাচ্ছে, গরমের সময় বিশেষ করে হোলির আগে পর্যটকদের যাতে সুবিধা হয় সেজন্যেই আরও 90 দিন বাড়ান হল দীঘা-পাঁশকুড়া স্পেশাল ট্রেনের সময়সীমা। যাত্রী সুবিধার্থে দীঘা-পাঁশকুড়া স্পেশাল ট্রেনটি আগামী মে মাস পর্যন্ত চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল। তাতে বেজায় খুশি যাত্রীরা।
হোলির সময়টাকেই গুরুত্ব দিচ্ছে রেল
গত বছর এপ্রিলে দীঘার জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধন হওয়ার পরই দর্শনার্থীদের জন্য দীঘা-পাঁশকুড়া স্পেশাল ট্রেনটি চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল দক্ষিণ পূর্ব রেলওয়ে। পূর্ব নির্ধারিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই ট্রেনের সময়সীমা শেষ হত শীঘ্রই। কিন্তু তার আগেই যাত্রীদের সুবিধার্থে বিশেষ করে দোলযাত্রা বা হোলির সময়টাকে গুরুত্ব দিয়ে দীঘাগামী এই বিশেষ ট্রেনটি একটানা আরও 90 দিন চালানোর কথা জানাল রেল। রেলের তরফে এমন সিদ্ধান্ত জানা মাত্রই স্বস্তি অনুভব করছেন স্থানীয় যাত্রীরা।
কোন কোন স্টেশনে দাঁড়ায় এই স্পেশাল ট্রেন?
প্রথমে বলে রাখি, দীঘা-পাঁশকুড়া 08117 আপ স্পেশাল ট্রেনটি প্রত্যেকদিন সকাল 7টায় পাঁশকুড়া স্টেশন থেকে ছেড়ে দীঘায় পৌঁছয় 9টা 20 মিনিটে। সেক্ষেত্রে বলাই যায় সকালের দিকে যেসব যাত্রীরা ভ্রমণ করেন তাদের জন্য এই ট্রেনটি সবচেয়ে আদর্শ। অন্যদিকে ডাউন স্পেশাল 08118 ট্রেনটি প্রত্যেকদিন সকাল সাড়ে 9টায় দীঘা স্টেশন থেকে ছেড়ে পাঁশকুড়া পৌঁছয় 11টা 50 মিনিটে। বিগত দিনগুলিতে এই দুই ট্রেনের চাহিদা ক্রমশ বেড়েছে যাত্রীদের মধ্যে। ফলে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ভিড়ও। তাই যাত্রী সুবিধার্থে স্পেশাল ট্রেনের সময়সূচি আরও বাড়িয়ে দিল রেল।
অবশ্যই পড়ুন: পারেননি ধোনিও, ভারতের প্রথম উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান হিসেবে বড় কীর্তি ইশান কিষাণের
বলে রাখা প্রয়োজন, দীঘা-পাঁশকুড়া স্পেশাল ট্রেনটি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে স্টপেজ দেয়। সেই তালিকায় রয়েছে তমলুক, নন্দকুমার, নাচিন্দা, কাঁথি এবং রামনগর। এর ফলে দীঘা এবং দীঘার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের স্থানীয় বাসিন্দারাও এই ট্রেনের সুবিধা ভোগ করেন। সবচেয়ে বড় কথা তাজপুর এবং মন্দারমনির মতো উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলির পর্যটকদের মধ্যেও এই ট্রেনের জনপ্রিয়তা বেড়েছে।











