প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহে মাথায় হাত পড়েছে গোটা বিশ্বের। ভারতেও ব্যাপক প্রভাব পড়েছে, শহর থেকে জেলা, রান্নার গ্যাসে কমবেশি আকাল দেখা দিয়েছে প্রায় সব জায়গাতেই। দামবৃদ্ধির পাশাপাশি বাণিজ্যিক গ্যাসের সংকটে বন্ধ হতে চলেছে একাধিক হোটেল এবং রেস্তোরাঁ। আর এবার গ্যাসের দামবৃদ্ধির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে অটো পরিষেবায়। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অটোচালকেরাও পেট্রোল পাম্প থেকে CNG পাওয়া নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন। আর তাতেই বাড়ল ভাড়া, (Kolkata Auto Fare Increased) পকেটে টান মধ্যবিত্তের।
একাধিক রুটে বাড়ছে অটোভাড়া
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাবে সাধারণ মানুষের রান্নার খরচের পাশাপাশি পরিবহণের খরচ বেশ বেড়েই চলেছে কলকাতায়। কারণ হিসেবে জানা গিয়েছে CNG-র জোগান কমছে তাতেই বাড়ল অটোর গ্যাসের দাম। মঙ্গলবার রাতে গ্যাসের দাম ছিল ৫৭ টারা ৬৮ পয়সা। কিন্তু রাতারাতি সেই দাম একলাফে ৫ টাকা দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন গ্যাসের দাম বেড়ে হয়েছে ৬২ টাকা ৬৮ পয়সা। তাই বাড়তি খরচ সামাল দিতে একাধিক রুটের অটোভাড়া বাড়ানো হয়েছে। সরকারিভাবে অটোভাড়া না বাড়লেও যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ উঠছে বিভিন্ন রুটে। শুধুই যে দাম তাই নয়, অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পরেও গ্যাস পাচ্ছেন না অনেকে। বাড়ছে ক্ষোভ।
৫-১০ টাকা বাড়ছে ভাড়া
চিংড়িহাটা থেকে এসডিএফগামী এক যাত্রীর দাবি, এই রুটে অটো ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ টাকা। যা আগে নিত ১৫ টাকা। একধাক্কায় তিন টাকা ভাড়া বেড়ে গিয়েছে। আবার গড়িয়া-বারুইপুর, সোনারপুর-গড়িয়া রুটেও ভাড়া কিছুটা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অটোচালকদের বক্তব্য, সম্প্রতি গ্যাসের দাম বেড়েছে। পাশাপাশি পাম্পে গিয়ে পর্যাপ্ত গ্যাসও পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে বিভিন্ন জায়গা থেকে, বিশেষ করে কাটা গ্যাসের দোকান থেকে বেশি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে তাদের। অটোচালক সংগঠন সূত্রে খবর, প্রতিটি রুটে আগামী দিনে ৫-১০ টাকা করে বাড়তে পারে ভাড়া। নইলে অটো পরিষেবা বন্ধ করে দিতে হবে।
আরও পড়ুন: সাতসকালে দুর্গাপুরে ED-র হানা, কয়লা কাণ্ডে পুলিশ আধিকারিকের বাড়িতে তল্লাশি
প্রসঙ্গত বিশ্বজুড়ে জ্বালানি পরিষেবায় অসংগতি দেখা দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদির গতকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার উচ্চপর্যায়ে বৈঠক করেন। সেখানে গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো এবং বুকিং পদ্ধতিতে কিছু পরিবর্তন আনার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের রান্নার গ্যাসের জোগান যাতে ব্যাহত না হয়, সে দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এদিকে অটোর ক্ষেত্রে বাড়তি ভাড়া দেওয়া নিয়ে নিত্য যাত্রীদের সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে। এখন প্রশ্ন এই পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে।












