কয়লা পাচার কাণ্ডে বড় সাফল্য ED-র! বাজেয়াপ্ত আরও ১০০ কোটির সম্পত্তি

Published:

Coal Smuggling Case
Follow

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: সামনেই ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন, আর সেই নির্বাচনকে মাথায় রেখে সকলেই বেশ ব্যস্ত ভোট প্রচার নিয়ে। একদিকে শাসকদল অন্যদিকে বিরোধীদল, জনসংযোগ বৃদ্ধিতে কে এগিয়ে তাই নিয়ে চলছে ধাক্কাধাক্কি। এমতাবস্থায় কয়লা পাচার মামলায় (Coal Smuggling Case) ফের তৎপর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। জানা গিয়েছে ওই কয়লা পাচারকাণ্ডে মূল অভিযুক্ত লালা সিন্ডিকেটের ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করলেন তদন্তকারীরা।

১০০ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ED-র

রিপোর্ট মোতাবেক কয়লা পাচার-কাণ্ডে গত ৪ জানুয়ারি দিল্লি ও কলকাতায় একযোগে তল্লাশি অভিযান চালিয়েছিল ইডি। ওই অভিযানেই মূল অভিযুক্ত অনুপ মাঝি ওরফে লালা সিন্ডিকেটের তৈরি করা ১০০ কোটি ৪৪ লক্ষ টাকার এই সম্পত্তির খতিয়ান উদ্ধার করে তাঁরা। শুক্রবার সেই তথ্য প্রকাশ্যে আসে। যার জেরে এই মামলায় বাজেয়াপ্ত হওয়া মোট সম্পত্তির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২২ কোটি ৭১ লক্ষ টাকা। তদন্তকারীদের সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, কয়লা পাচারের টাকা দু’টি বেনামী সংস্থার জমি, মিউচুয়াল ফান্ডে বেনামে সরানো হয়েছিল। ভুয়ো চালানে ১০ বা ২০ টাকার নোট আটকে তার ছবি ব্যবহার করে চলত চক্র। তাই সেক্ষেত্রে অনুমান করা হচ্ছে লালা সিন্ডিকেটের মোট দুর্নীতির পরিমাণ ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার অধিক।

নজরে অনুপ মাঝি

২০২০ সালে কয়লাপাচার মামলার তদন্ত শুরু করে সিবিআই। রাজ্যে রেলের বিভিন্ন সাইডিং এলাকা থেকে কয়লা চুরির ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই প্রথমে আয়কর দফতর, পরে সিবিআই এই নিয়ে তদন্তে নামে। সেই সূত্র ধরেই বেরিয়ে আসে মূল অভিযুক্ত অনুপ মাঝি ওরফে লালার নাম। ইডি জানতে পেরেছে, লালার মাধ্যমে নিজেদের কয়লা-সাম্রাজ্য তৈরি করেছিল চিন্ময় মণ্ডল এবং কিরণ খাঁ। গত সপ্তাহেই কয়লা পাচার মামলার তদন্তে তাঁদের বাড়িতে তল্লাশি চালায় ইডি। সেখানে ২০২১ সালের পর থেকে বেআইনি কয়লা পাচারের বহু নথি উদ্ধার করা হয়। শুধু তাই নয়, উদ্ধার হয় টাকার পাহাড় এবং বিপুল গয়না।

আরও পড়ুন: ট্রেনের টিকিট না কাটায় হেনস্থা, জরিমানায় পরীক্ষা মিস! আত্মঘাতী বর্ধমানের কলেজছাত্রী

সম্প্রতি কয়লা পাচার করা নয়া মামলায় বুদবুদ থানার ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডলকে তলব করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার দুপুর আড়াইটে নাগাদও ফের একবার সশরীরে হাজিরা দিতে বলা হয় বুদবুদ থানার অভিযুক্তকে। কিন্তু তখনও গরহাজির ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডল। তাঁর পরিবর্তে এলেন দুই আইনজীবী শুভ্রাংশু পাল এবং দেবতনু দাস। তাঁদের থেকেই বুদবুদ থানার ওসি ও তাঁর বাবা-মায়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য নিয়েছেন তদন্তকারীরা। অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে কয়লা পাচার মামলার তদন্তের জল গড়িয়েছে অনেকটা। আর সেই চক্রের মূলে যাওয়ার চেষ্টায় রয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

গুরুত্বপূর্ণ খবর পড়তে জয়েন করুন Join Now