প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে ততই রাজ্যে SIR বিতর্ক তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। কোথাও শুনানিতে তথ্য বিভ্রান্তির অভিযোগ, তো কোথাও আবার BLO-দের নানা অত্যাচারের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। যদিও শুরু থেকেই এই নিয়ে কমিশনের প্রতি বিরূপ মনোভাব শাসকদলের। এমতাবস্থায় এসআইআর ঘিরে রাজ্য ও নির্বাচন কমিশনের টানাপড়েন আরও তীব্র হল। জানা গিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে রাজ্য সরকারের পাঠানো ৮,৫০৫ জন গ্রুপ ‘বি’ অফিসারের তালিকা নবান্নে ফিরিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন (Election Commission Of India)।
গ্রুপ বি অফিসারের তালিকা পাঠাল নবান্ন
উল্লেখ্য, গত ৪ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর মামলার শুনানিতে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। SIR প্রক্রিয়া নিয়ে একের পর এক অভিযোগ করে রাজ্যের আইনজীবীরা। যদিও সেদিন কমিশনের আইনজীবীরা অভিযোগ করেন যে রাজ্যের তরফে পর্যাপ্ত সংখ্যক গ্রুপ বি অফিসার দেওয়া হয়নি। এরপরেই সুপ্রিম কোর্ট রাজ্যকে গ্রুপ বি অফিসার দেওয়ার নির্দেশ দেয়। সেই মত রাজ্য সরকার ৭ ফেব্রুয়ারি ৮ হাজার ৫০৫ জনের তালিকা দেয়। কিন্তু অভিযোগ ওই তালিকায় বিস্তর অসঙ্গতি রয়েছে। আর সেই নিয়ে কমিশন এবং কেন্দ্রের মধ্যে সংঘাত তুঙ্গে।
তথ্যে অসঙ্গতির অভিযোগ তুলল কমিশন
গত ৯ ফেব্রুয়ারির SIR মামলার শুনানিতে রাজ্যের তরফে স্বীকার করা হয়, গ্রুপ বি অফিসারের সম্পূর্ণ তালিকা আগে কমিশনের কাছে পাঠানো হয়নি। কারণ হিসেবে জানানো হয়, কমিশনের সম্মতির অপেক্ষায় ছিল সরকার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আদালতেই তালিকা কমিশনের আইনজীবীর হাতে তুলে দেওয়া হয়। কিন্তু নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, তালিকাটি অসম্পূর্ণ। সুস্পষ্ট শ্রেণিবিভাগ বা গ্রেড উল্লেখ করা নেই। এছাড়াও পদমর্যাদা এবং দায়িত্বের স্পষ্ট উল্লেখ না করার ফলে কোন আধিকারিক কোন স্তরের, তা নির্ধারণ করা যাচ্ছে না। তাই সেই তালিকা গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: ৩০% জায়গা সংরক্ষণ, আলু চাষীদের বড় সুখবর শোনাল নবান্ন
কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, যেহেতু সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেই রাজ্য সরকার গ্রুপ বি অফিসারের তালিকা পাঠিয়েছিল, তাই অসঙ্গতির বিষয়টি যথাসময়ে আদালতের নজরে আনা হতে পারে। যদিও এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করছে নবান্ন। তাদের দাবি, গ্রুপ ‘বি’ অফিসারদের ডেটাবেস বিকৃতির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। নবান্নের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া তালিকা সম্পূর্ণভাবে অর্থ দফতরের ৬ অক্টোবর ২০২০-র স্মারকলিপি অনুযায়ী প্রস্তুত। তাই প্রক্রিয়ায় কোনও বিচ্যুতি হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে অনিয়ম বা হেরফেরের যে অভিযোগ সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।











