প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন এগিয়ে এলেও এখনও পর্যন্ত SIR বিতর্কের জট যেন কিছুতেই কাটছে না। এবার নির্বাচন কমিশনের তরফে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠছে প্রশাসনের বিরুদ্ধে। নির্বাচন কমিশনের (Election Commission Of India) নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও এখনও পর্যন্ত, বারুইপুর ও ময়নার ৪ আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়নি নবান্নের তরফে। তাই এবার মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে চরম হুঁশিয়ারি দিল কমিশন। বেঁধে দেওয়া হল রিপোর্ট জমা দেওয়ার সময়সীমা।
অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ
রিপোর্ট মোতাবেক, গত বছরের অগস্টে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পূর্ব এবং পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নার ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার বা ERO ও অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার বা AERO-কে সাসপেন্ড করা হলেও, তাঁদের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত এফআইআর দায়ের হয়নি। এর আগে বহুবার নবান্নকে কমিশনের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল কিন্তু প্রতিবারই নির্দেশ অমান্য করা হয়েছে। তাই এবার চরম পদক্ষেপ নিল কমিশন। মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হল আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার মধ্যে রাজ্যকে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট (ATR) জমা দিতে হবে।
বৈঠকে মুখ্যসচিবকে চরম হুঁশিয়ারি
জানা গিয়েছে, গত শুক্রবার রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে দিল্লিতে তলব করেছিল নির্বাচন কমিশন। সেখানে কমিশন এই বৈঠকে জানায়, এর আগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রুজু করার নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। তৎকালীন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে দু’বার চিঠি দিলেও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। এমনকি পাঁচ দফা নির্দেশ দেওয়া হলেও রাজ্য সরকার তা কার্যকর করেনি। সেক্ষেত্রে SIR প্রক্রিয়ায় বারবার আইনশৃঙ্খলার সমস্যা দেখা দিচ্ছে। তাই এই বৈঠকে কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, অভিযুক্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতেই হবে। নইলে কমিশন পরবর্তী কঠোর আইনি পথে হাঁটবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে।
আরও পড়ুন: তারেকের শপথগ্রহণে আমন্ত্রিত প্রধানমন্ত্রী মোদী, সম্পর্ক শুধরাবে ভারত-বাংলাদেশের?
রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে কমিশনের এই কড়া অবস্থান নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। যদিও এই বৈঠক নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করতে চাননি মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী। তবে গতকাল অর্থাৎ শনিবার সকালে জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি ‘স্বনির্ভর বাংলা’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা করেন। এই প্রসঙ্গে বঙ্গ বিজেপির দাবি, “রাজ্য সরকার যদি নির্দেশ না মানে, তবে কমিশনের উচিত সরাসরি হস্তক্ষেপ করে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া।” অন্যদিকে তৃণমূল শিবিরের দাবি, “প্রশাসনিক বিষয়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। যেটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”











