সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বাংলাদেশে বিয়ের (Bangladesh Marriage Case) পর অবৈধভাবে সেই মেয়েকে ভারতে নিয়ে আসে তাঁর পরিবার। সেই সূত্রে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হলেন বাংলাদেশি যুবক অরিজিৎ সরকার। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন সূত্রে খবর, বিয়ের পরপরই মেয়েটির পরিবার তাঁকে জোরপূর্বক পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে আসে। আর এখানেই তাঁকে আটকে রেখে দেয় এবং স্বামীর সঙ্গে কোনও রকম যোগাযোগ করতে দেয় না। কার্যত একটি মেসেজের জন্যই অপেক্ষা করে থাকে সেই যুবক। কিন্তু কোনও রকম যোগাযোগ করাও সম্ভব হয় না। জানুন সবটা।
জোরপূর্বক বাংলাদেশি মেয়েকে বাংলায় নিয়ে আসলো পরিবার
অরিজিৎ সরকার নামের ওই যুবকের বক্তব্য অনুযায়ী, গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে তাঁর সঙ্গে বিয়ে হয় ১৯ বছর বয়সী মৌমি সাহার। ঢাকাতে হিন্দু রীতি মেনে একটি মন্দিরেই তাঁদের বিয়ে হয়। কিন্তু এক মাস কাটতে না কাটতেই মেয়ের বাবা-মা কোনও এক অজুহাত দিয়ে তাঁকে জোরপূর্বক বাংলাদেশ থেকে সরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে আসেন। তাঁর দাবি, ঢাকা বিভাগের নরসিংদী নিকটবর্তী মধ্যকান্দা এলাকার প্রতিবেশী ছিলেন তাঁর স্ত্রী, এবং বিয়ের দু’বছর আগে ধরেই তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল।
অরিজিৎ এর বক্তব্য, অক্টোবর মাসের পরিবার তাঁকে অবৈধভাবে ভারতে নিয়ে এসে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বিরাটিতে এক আত্মীয়ের বাড়িতে আটকে রাখেন। এমনকি বাইরের জগতের সঙ্গে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। ঘরবন্দী থাকাকালীন কোনও উপায়ে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তাঁর স্ত্রী নিজের লোকেশন পাঠান। সেই সূত্রে ২০২৬-এর জানুয়ারি মাসে তিনি বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় আসেন। তারপরেই একাধিক টানাপড়েনের পর অবশেষে কলকাতা হাইকোর্টের দারস্থ হন তিনি। তাঁর দাবি, যেহেতু তাঁর কাছে কোনও রকম বৈধ নথিপত্র ছিল না, তাই বাংলাদেশ হাই কমিশনার বা স্থানীয় পুলিশের কাছে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলাম, যাতে তাঁরা আমাকে বাংলাদেশে ফিরে যেতে সহায়তা করে।
আরও পড়ুন: ভোটের আবহে বাড়ছে উদ্বেগ, বীরভূমে উদ্ধার অসংখ্য বিস্ফোরক, আতঙ্ক নলহাটিতে
এমনকি তিনি আরও বলেন যে, আমি প্রতিদিন তাঁর কাছ থেকে একটি মেসেজের অপেক্ষায় থাকি। কিন্তু কোনও খবরই আসে না। তাঁর সঙ্গে আমার কোনও যোগাযোগ করতে দেওয়া হয় না। বাধ্য হয়ে ব্যারাকপুর নিমতা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। এরপর ৭ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গ মহিলা কমিশনারের দ্বারস্থ হন। তারপর ৯ জানুয়ারি ইমেলের মাধ্যমে তাঁকে স্থানীয় থানায় এফআইআর দায়ের করার করতে বলা হয়। সেই সূত্রে গত তিনি ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। তবে সেখানেও কোনও রকম কাজের কাজ হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। যার ফলে গত ১০ মার্চ কলকাতা হাইকোর্টের দারস্থ হন অরিজিৎ। তাঁর বক্তব্য, চলতি সপ্তাহে এই মামলাটির শুনানি হতে পারে।












