১ ঘণ্টার পথ মাত্র ৫ মিনিটে! প্রকাশ্যে গঙ্গাসাগর সেতুর প্রথম নকশা, শুরু নির্মাণ কাজ

Published:

Gangasagar Bridge

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: অবশেষে রূপায়ণের পথে গঙ্গাসাগর সেতু (Gangasagar Bridge)! প্রকাশ্যে এল গঙ্গাসাগর সেতুর প্রস্তাবিত নকশা (Gangasagar Setu Design)। চলতি বছর গঙ্গাসাগরে মুড়িগঙ্গার উপর গঙ্গাসাগর সেতুর শিলান্যাস করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। জানা গিয়েছে, মুড়িগঙ্গার উপর দীর্ঘ ৪.৭৫ কিলোমিটার এই গঙ্গাসাগর সেতুতে থাকবে মোট ৪টি লেন। উভয়পাশে থাকবে ১.৫ মিটার চওড়া ফুটপাত। নতুন এই লুক ইতিমধ্যেই সাড়া ফেলেছে এলাকায়। নকশা প্রকাশ্যে আসার পরেই সেতু নির্মাণের প্রস্তুতির কাজ শুরু করল নির্মাণকারী সংস্থা।

গঙ্গাসাগর সেতু নির্মাণের বীজ পুঁতেছিলেন মমতা

কাকদ্বীপ থেকে কচুবেড়িয়া যাতায়াতের জন্য একমাত্র ভরসা পথ ছিল মুড়িগঙ্গা নদী। তাই স্বাভাবিকভাবেই স্টিমার, নৌকা এই সবের উপর নির্ভর করেই যাতায়াত করা হত। যেখানে সময় লাগত প্রায় এক ঘণ্টা! কিন্তু বর্ষার সময় কিংবা কোনও কারণে নদীর জল উপচে পড়লে সমস্যায় পড়তে হতো সকলকে। তাই এই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই প্রায় ছয় বছর আগে মুড়িগঙ্গার উপর একটি সেতু তৈরির স্বপ্ন দেখেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রের কাছে বারংবার সেতু তৈরির জন্য আর্থিক সাহায্য চেয়েছিল রাজ্য, কিন্তু মেলেনি কোনো ফল। তাই এবার কেন্দ্রের ভরসায় না থেকে মুখ্যমন্ত্রী নিজ দায়িত্বে বানাতে চলেছে স্বপ্নের গঙ্গাসাগর সেতু। এই সেতু নির্মাণ হয়ে গেলে এই ১ ঘণ্টার পথ মাত্র ৫ মিনিটেই অতিক্রম করা যাবে। জানা গিয়েছে, মুড়িগঙ্গা নদীর উপর গঙ্গাসাগর সেতু নির্মাণের প্রস্তুতির কাজ শুরু করে দিয়েছে নির্মাণকারী সংস্থা ‘লারসন অ্যান্ড টুবরো’ সংক্ষেপে এল অ্যান্ড টি।

সেতুর প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ শুরু হয়েছে

সূত্রের খবর, গত রবিবার সাগরে সেতু সংক্রান্ত একটি বৈঠক ডাকা হয়েছিল, সেখানে উপস্থিত ছিলেন সুন্দরবন উন্নয়নমন্ত্রী বঙ্কিম হাজরা, এল অ্যান্ড টি’র তিন প্রতিনিধি। তাঁরা সেই বৈঠকেই প্রস্তাবিত সেতুর কারিগরি নকশা দেখান। পাশাপাশি বৈঠকে ব্রিজের দৈর্ঘ্য, স্তম্ভের বিন্যাস এবং স্থায়িত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনাও হয়। ওইদিনই প্রশাসনিক কর্তা ও ইঞ্জিনিয়াররা নদী তীরবর্তী এলাকা পরিদর্শন করেন। আপাতত কাকদ্বীপ লট এইটের দিকে প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ শুরু করেছে এল অ্যান্ড টি। বৈঠকে সংস্থার পক্ষ থেকে মন্ত্রীকে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সেতু নির্মাণের কাজ শেষ হবে।

আরও পড়ুন: কবে, কত দফায় মিলবে বকেয়া DA? বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের

প্রসঙ্গত, সাগরের দিকে কিছু পরিমাণ জমি কিনেছে এল অ্যান্ড টি। এই ব্রিজের জন্য তাদের আরও ১০ বিঘা জমির প্রয়োজন রয়েছে। এছাড়াও সেতু তৈরির জন্য বড় আকারের যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সামগ্রী দরকার এবং যে সকল কর্মী এখানে দিনরাত কাজ করবে তাঁদের থাকারও বন্দোবস্ত করা হবে। তবে আশা করা যাচ্ছে এই সেতু নির্মাণ হলে সুন্দরবনের সঙ্গে একদিকে যেমন যোগাযোগ বৃদ্ধি পাবে ঠিক তেমনই পর্যটন বিপ্লবে ব্যাপক উন্নতি হবে। গঙ্গাসাগর মেলায় আসা পর্যটকদের যাতায়াতও আরও সহজ হবে।

🔮
মাত্র ২১ টাকায় নিজেরবাংলা কুষ্ঠি তৈরি করুন
দেখুন →
google button