প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বেশ কয়েকদিন ধরে জলের পাইপ লাইন বসানো নিয়ে একের পর এক ঝামেলা ঝঞ্ঝাট এর মুখোমুখি হতে হচ্ছে বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের। যানবাহন ব্যবস্থা থেকে শুরু করে যাতায়াত ব্যবস্থায় নানা অসুবিধার সৃষ্টি হচ্ছে। এই অবস্থায় আবার আর একটি বিভাগ রাস্তা সারাই করতে এসে জলের পাইপ লাইন ফাটিয়ে দিচ্ছে। আর সেগুলি মেরামত করতে এবার রাজ্য সরকারের খরচও বাড়ছে। তাই নিয়ে বেশ ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী।
কদিন আগে নবান্নে এক বৈঠকে এই বিষয়ে ধমকের সুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমস্ত সরকারি অফিসারদের বলেছিলেন যে সরকারি সম্পত্তিকে কেউ যেন নিজের জমিদারি না ভাবেন। এটা জনগণের অর্থ। তাই সময়ের কাজ সময়ে যেন করা হয়। এমনকি কাজে গাফিলতির অভিযোগে ১৫৫ জন ঠিকাদার, ১৯ জন ইঞ্জিনিয়রকে শোকজ করার নির্দেশও দিয়েছিলেন। আর এবার সমস্ত প্রশাসনিক কাজ নিয়ন্ত্রণে আনতে এক বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
দুর্নীতি কমাতে টানতে নয়া পদক্ষেপ রাজ্যের
জানা গিয়েছে, ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রশাসনিক ব্যবস্থায় বিপুল সংস্কার আনতে রাজ্য সরকার এবার এক সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চলেছেন। সূত্রের খবর এবার সরকারি অফিসারদের কাজের অগ্রগতি জানবার জন্য এবং প্রশাসনিক কাজে যাতে দুর্নীতির আঁচড় না লাগে তার জন্য এবার একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করেছে নবান্ন। গত ১০ ডিসেম্বর অর্থাৎ মঙ্গলবার অর্থ দফতরের অডিট ব্রাঞ্চ থেকে এই বিষয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।
নিয়ে আসা হল নতুন সরকারি অ্যাপ
বিজ্ঞপ্তি অনুসারে জানা গিয়েছে, সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার ও অপচয় বন্ধ করতে এবং দুর্নীতি ও লিকেজ বন্ধ করতে নিয়ে আসা হয়েছে এই নতুন সরকারি অ্যাপ। যার নাম ফিল্ড ইনস্পেকশন- মনিটরিং অ্যান্ড সুপারভিশন মোবাইল অ্যাপ। এর মাধ্যমে জেলা স্তর থেকে সরকারি হাসপাতাল, স্কুল, আইসিডিএস সেন্টার এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কাজ ও পরিকাঠামো নিয়মিত মনিটরিং এবং আপগ্রেডেশন করা সম্ভব হবে। জানা গিয়েছে এই মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে অফিসাররা ফিল্ড ইন্সপেকশন করে তথ্য সংগ্রহ করবেন। এতে সংস্থার নাম, অবস্থান, পরিদর্শনের তারিখ ও সময়, এবং প্রয়োজনীয় কাজের শ্রেণীবিন্যাস স্পষ্ট করে চিহ্নিত করা থাকবে।
ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ
প্রতিটি তথ্য জিও-ট্যাগিংয়ের মাধ্যমে সঠিক স্থানের তথ্য সরবরাহ করবে। জেলা ও মহকুমা পর্যায়ের মাসিক পর্যালোচনা সভায় সমস্যাগুলিকে ‘সবুজ’, ‘হলুদ’, এবং ‘লাল’ হিসাবে শ্রেণীবিন্যাস করা হবে। পরিদর্শনের সময় আধিকারিকদের ওই সরকারি সম্পত্তির ছবি আপলোড করতে হবে। প্রধান সচিব, অর্থ সচিব এবং বিভিন্ন বিভাগের প্রধানরা একটি লাইভ ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। আর এর ফলে রাজ্যের স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং অন্যান্য ক্ষেত্রের পরিষেবা আরও কার্যকর এবং স্বচ্ছ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অর্থাৎ সামাজিক প্রকল্পে সরকারি সমীক্ষার নামেও ফাঁকিবাজি করা যাবে না। ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসার কোনও প্রকল্পের জন্য তাঁর এলাকায় ঠিকমতো পরিদর্শনে যাচ্ছেন কিনা তারও জিপিএস ম্যাপিং হবে। অর্থাৎ কেউ দায় এড়াতে পারবেন না।
গুরুত্বপূর্ণ খবরের জন্য | Join Group |
চাকরির খবরের জন্য | Join Hood Jobs |
রাশিফলের জন্য | Join Hood Rashifal |
খেলার খবরের জন্য | Join Whatsapp |