বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: 1965 সালে তৈরি হওয়া আরামবাগের (Arambagh) বৃদ্ধ রামকৃষ্ণ সেতুটি (Ramkrishna Setu) রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে আগের তুলনায় অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। যার জেরে গত বছরের 10 আগস্ট রামকৃষ্ণ সেতুটির একাংশ ভেঙে পড়ে। যার ফলে দীর্ঘদিন ওই সেতুটিতে বাস এবং লড়ির মতো ভারী গাড়ির চলাচল পুরোপুরি বন্ধ ছিল। মাঝে তা শুরু হলেও ব্রিজটি নড়বড়ে হয়ে যাওয়ার কারণে পণ্যবাহী ভারী গাড়ির চলাচলে পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। মূলত সে কারণেই এবার ওই পুরনো সেতুটির পাশেই নতুন করে দ্বিতীয় রামকৃষ্ণ সেতু তৈরি করতে চলেছে বিজেপি সরকার। সেই মর্মে, ইতিমধ্যেই সবুজ সংকেত দিয়ে দিয়েছে নবান্ন।
395 কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হবে দ্বিতীয় রামকৃষ্ণ সেতু
আরামবাগের মুণ্ডেশ্বরী নদীর উপর থেকে যাওয়া পুরনো সেতুটির পাশেই তৈরি হবে নতুন দ্বিতীয় রামকৃষ্ণ সেতু। আগেই এই সেতু তৈরির জন্য 395 কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল রাজ্য সরকার। সম্প্রতি সেই সেতু নির্মাণে সবুজ সংকেত দিয়ে দিয়েছে নবান্ন। রাজ্যের পূর্ত দপ্তর সূত্রে খবর, পুরনো রামকৃষ্ণ সেতুর সমান্তরাল যে নতুন রামকৃষ্ণ সেতুটি তৈরি করা হবে সেটি হবে মূলত চার লেনের। সেতুটি লম্বায় 384 মিটার এবং চওড়ায় 27 মিটার হতে চলেছে।
যদিও পুরনো রামকৃষ্ণ সেতুটির দৈর্ঘ্য মাত্র 325 মিটার। শুধু তাই নয়, নতুন সেতু চারলেন বিশিষ্ট হলেও আগের সেতুটিতে মাত্র দুটি লেন রয়েছে। এর ফলে আগের তুলনায় নতুন সেতু দিয়ে অনেক বেশি পরিমাণ গাড়ি যাতায়াত করতে পারবে। যেতে পারবে ভারী লড়িও। এ নিয়ে আরামবাগ পূর্ত দপ্তরের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার জানিয়েছেন, নতুন সেতুটি তৈরি করার জন্য 395 কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। ইতিমধ্যেই এই অর্থ বরাদ্দ করে দিয়েছে সরকার।
অবশ্যই পড়ুন: ক্রমাগত ব্যর্থ, শেষমেশ বৈভব সূর্যবংশীকে নিয়ে মুখ খুললেন ধোনি
জানা যাচ্ছে, বর্ষাকাল শেষ হলেই সম্ভবত পুজোর পরই শুরু হবে সেতু তৈরির কাজ। বর্তমানে সেতুর মাপঝোক শুরু হয়ে গিয়েছে। নির্ধারিত সময় কাজ শেষ হলে আগামী 4 থেকে 5 বছরের মধ্যেই উদ্বোধন করা যাবে নতুন রামকৃষ্ণ সেতুটি। এও জানা যাচ্ছে, নতুন সেতু তৈরির জন্য কিছু জায়গায় জমি অধিগ্রহণ করা হতে পারে। এর জন্য কিছু বাড়িঘর ভাঙতেও হতে পারে। সেই সব দিকে নজর রয়েছে সরকারের। সেতু তৈরিতে কারও ক্ষতি হলে সেই ক্ষতিপূরণও মেটাবে সরকার। আপাতত যা খবর, খুব শীঘ্রই সেতু নির্মাণের জন্য টেন্ডার ডাকা হবে।










