হুগলি নদী থেকে সাত সমুদ্র! নবরত্ন মর্যাদা পেয়ে আরও শক্তিশালী গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স

Published:

Garden Reach Shipbuilders & Engineers
Follow

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: কলকাতা ভিত্তিক রাষ্ট্রায়ত্ত জাহাজ নির্মাণ সংস্থা গার্ডেনরিচ শিপ বিল্ডার্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড (Garden Reach Shipbuilders & Engineers) এবার বিরাট মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে। কেন্দ্রের ডিপার্টমেন্ট অফ পাবলিক এন্টারপ্রাইজেস সংস্থাটিকে নবরত্ন দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে বলে খবর। হ্যাঁ, চূড়ান্ত ছাড়পত্র মিললেই এই সংস্থা ২৭টি নবরত্ন সিপিএসি তালিকায় যোগ দেবে। এমনকি নবরত্ন মর্যাদা পেলে সংস্থাগুলির আর্থিক আর প্রশাসনিক ক্ষেত্রে বাড়তি সহযোগিতা পাবে। আর বড় বিনিয়োগ, যৌথ উদ্যোগ গঠন, সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে নয়া মাত্রায় পৌঁছবে। পাশাপাশি কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে।

প্রায় এক শতাব্দীর পথচলা…

বলে রাখি, GRSE এর শিকড় সেই ১৯ শতকে। ১৮৮৪ সালের হুগলি নদীর তীরে একটি ছোট্ট কর্মশালা হিসেবে এই যাত্রা শুরু করে তারা। মূলত নদীপথে চলাচলকারী জাহাজের মেরামত ছিল তাদের প্রধান কাজ। সময়ের সঙ্গে সেই কর্মশালা বড় হয়ে ওঠে কৌশলগত জাহাজ নির্মাণ কেন্দ্রে। ১৯৬০ সালে ভারত সরকার এই সংস্থার দায়িত্ব নিয়েছিল। এরপর থেকে যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের রাস্তায় এই সংস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে।

এদিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বিপুল সংখ্যক নৌ এবং বাণিজ্যিক জাহাজ মেরামতের মাধ্যমে শিল্প-সক্ষমতা প্রমাণ করেছিল এই সংস্থা। স্বাধীনতার পর ভারতীয় নৌবাহিনীর স্বনির্ভরতার পথে ১৯৬১ সালে নির্মিত ‘আইনএস অজয়’ ছিল বিরাট পদক্ষেপ, যা দেশে তৈরি প্রথম যুদ্ধজাহাজ হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে। তারপর থেকেই ধাপে ধাপে জটিল আর আধুনিক প্ল্যাটফর্ম নির্মাণের দক্ষতা বাড়িয়েছে সংস্থাটি। আর আজ এটি ভারতের অন্যতম প্রধান প্রতিরক্ষা জাহাজ নির্মাতা সংস্থা।

এখনও পর্যন্ত ৮০০-এর বেশি প্ল্যাটফর্ম নির্মাণ করেছে GRSE। এর মধ্যে ১১৫ টির বেশি যুদ্ধজাহাজ ভারতীয় নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড এবং বন্ধুত্বপূর্ণ বিদেশী দেশগুলিকে সরবরাহ করা হয়েছে। আর ফ্রিগেট থেকে শুরু করে করভেট, অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল, ল্যান্ডিং ক্রাফট, সার্ভে ভেসেল খাতে বিস্তৃত পরিসরে কাজ করছে এই সংস্থা। এমনকি ২০১৫ সালে মরিশাসের জন্য নির্মিত একটি যুদ্ধজাহাজ রফতানির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারেও বিরাট সাফল্য পেয়েছিল GRSE। শুধু জাহাজ নির্মাণ নয়, প্রিফ্যাব্রিকেটেড স্টিল ব্রিজ, ডেক মেশিনারি, মেরিন ডিজেল ইঞ্জিন ওভারহল এবং ৩০ মিলিমিটার নৌ-গান তৈরিতেও তারা সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। বর্তমানে চারটি পৃথক শিপইয়ার্ডে একইসঙ্গে ২৮টি জাহাজ নির্মাণের সক্ষমতা রয়েছে এই সংস্থার।

আর্থিক পারফরমেন্সে গতি

উল্লেখ্য, অপারেশনাল সম্প্রসারণের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই সংস্থার আর্থিক ফলাফলও বেশ শক্তিশালী। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে সংস্থাটির মোট আয় ৩৯ শতাংশ বেড়ে ৫৪১১ কোটি টাকায় পৌঁছয়। আর চলতি অর্থবছরের ডিসেম্বর মাসের আয় প্রায় ৪৬ শতাংশ বেড়েছে। এমনকি ২২ হাজার থেকে ২৩ হাজার কোটি টাকার শক্তিশালী অর্ডার বুক ভবিষ্যতে আয়ের স্পষ্টতাও দিচ্ছে। প্রতিরক্ষা খাতে বাড়তি মূলধনী ব্যয় থেকে শুরু করে নৌবাহিনীর দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এই সংস্থাটির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকেই মূলত জোরদার করছে। আর শেয়ারবাজারে তাদের প্রতিফলন থেকেও স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে যে সংস্থার ভবিষ্যৎ যথেষ্ট শক্তিশালী।

আরও পড়ুন: ‘ভাতা সবাই দেয়, আগে চাই চাকরি’ ভোটমুখে চাঞ্চল্যকর মন্তব্য পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের

সবথেকে বড় ব্যাপার, ভারতীয় নৌবাহিনীর ২০৩৫ সালের মধ্যেই ২০০টি জাহাজের লক্ষ্যমাত্রা, আত্মনির্ভর ভারতের উদ্যোগ আর প্রতিরক্ষা খাতে জোর, সব মিলিয়ে GRSE এর সামনে হতে চলেছে বিরাট সুযোগ। আর নবরত্ন মর্যাদা মিললে নতুন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ, আন্তর্জাতিক অংশদারিত্ব এবং উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে আরও দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারবে সংস্থাটি, এমনটাই মত ওয়াকিবহাল মহলের।

গুরুত্বপূর্ণ খবর পড়তে জয়েন করুন Join Now