বর্ষার আগেই রূপনারায়ণে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ, কপাল খুলল মৎস্যজীবীদের

Published:

Huge Hilsa Catch In Rupnarayan

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: সবে চৈত্র মাসের আজ প্রথম দিন, এখনও গরম ঠিকঠাক পড়েনি, তাই বর্ষা আসতে এখনও ঢের দেরি আছে। কিন্তু তার আগেই মিলল ইলিশের দেখা।কপাল খুলে গিয়েছে কোলাঘাট রূপনারায়ণের (Huge Hilsa Catch In Rupnarayan) মৎস্যজীবীদের। কারণ বর্ষা আসার আগেই তাঁদের পাতা জালে ধরা দিয়েছে আট থেকে দশ কেজি ইলিশ। আনন্দে উচ্ছ্বসিত গোটা এলাকা। ড্রেজিংয়ের জেরেই নাকি সম্ভব হয়েছে এই কাজ।

রূপনারায়ণে দেখা মিলেছে একঝাঁক ইলিশের

স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, আজ থেকে ১৫-২০ বছর আগেও রূপনারায়ণে ভালো পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ত। তার স্বাদও ছিল অতুলনীয়। সেই ইলিশ বাগনান, কোলাঘাট, বাকসি, শ্যামপুর, বেলপুকুর, গাদিয়াড়া–সহ স্থানীয় বাজারগুলিতে বিক্রি হতো। কিন্তু রূপনারায়ণের নাব্যতা হারিয়ে যাওয়ায় কয়েক দশক ধরে সেই নদে আর ইলিশের দেখা মেলেনি। তাই এই নদের গুণ আবার ফিরিয়ে আনতে সম্প্রতি রূপনারায়ণে ড্রেজিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আর তাতেই লক্ষ্মীলাভ হয়েছে মৎস্যজীবীদের, কেজি কেজি ইলিশ জালে ধরা পড়েছে। বাজারে নাকি ইতিমধ্যে সেই ইলিশ বিক্রিও হচ্ছে কেজি প্রতি ১৫০০ থেকে ১৭০০ টাকায়।

ড্রেজিং-এর কারণে বাড়ছে ইলিশের সংখ্যা

লোকমুখে শোনা যায়, রূপনারায়নের ইলিশের স্বাদ নাকি পদ্মার ইলিশকেও হার মানাবে। দূর দূরান্ত থেকে ইলিশপ্রেমীরা মাছ কিনতে আসত। কিন্তু রূপনারায়ণের পাড়ে এখন অনেক বেশি কলকারখানা হয়েছে। ফলস্বরূপ কারখানার বর্জ্য নদীতে পড়ছে, কোনরকম সতর্কতা এবং নজরদারি না থাকায় ছোট মাছ ধরার প্রবণতা বেড়ে যায়, আর তাই রূপনারায়ণে ইলিশের স্বাদ আগের মতো নেই। কিন্তু বছর দুয়েক আগে কোলাঘাটের দেনানে কেন্দ্রীয় পরিবহণ মন্ত্রকের অধীন ভারতীয় অন্তর্দেশীয় জলপথ কর্তৃপক্ষ একটি জেটি তৈরির ব্যাপারে উদ্যোগী হন। এরপর কয়েক কিলোমিটার অংশ ড্রেজিং করা হয়। আর তাতেই রূপনারায়ণে ইলিশের দেখা মিলছে।

আরও পড়ুন: ৭০ কিমি বেগে ধেয়ে আসছে কালবৈশাখী, কিছুক্ষণেই তোলপাড় হবে দক্ষিণবঙ্গের ৬ জেলা

সম্প্রতি সেচ দপ্তরের উদ্যোগেও কোলাঘাটে রূপনারায়ণ নদ সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। আগে গেঁওখালি থেকে ঘাটাল পর্যন্ত ৮০ কিলোমিটার রূপনারায়ণ নদের অংশ ছিল ইলিশের পছন্দের জায়গা। কিন্তু কোলাঘাট বাজার এলাকায় রূপনারায়ণে ৫০০ মিটারের মধ্যে সড়ক ও রেল প্রকল্প হওয়ায় বেশ পলি জমেছে তবে ড্রেজিং করায় ইলিশের দেখা মিলেছে। শ্রীমন্ত দাস নামে এক ইলিশ ব্যবসায়ী বলছেন, ‘আমার নিজের নৌকো রয়েছে। প্রতি দিন গড়ে ১০ থেকে ১৫ কেজি ইলিশ ধরা পড়ছে। এক একটি ইলিশের ওজন এক কেজি থেকে ১২০০ গ্রাম ওজনের। বিক্রিও হচ্ছে বেশি।’ রূপনারায়ণ নদে মাছ পুনরায় ফিরে আসায় বেশ খুশির মহল তৈরি হয়েছে।

🔮
মাত্র ২১ টাকায় নিজেরবাংলা কুষ্ঠি তৈরি করুন
দেখুন →
google button