প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের আবহে রাজ্য জুড়ে যেখানে উত্তাল পরিস্থিতি, সেখানে I PAC কর্তা প্রতীক জৈনের বাড়িতে এবার হানা দিল ইডি। দিল্লির একটি আর্থিক প্রতারণা মামলায় এই তদন্ত বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু এই তল্লাশির মাঝেই প্রতীক জৈনের বাড়িতে গিয়ে হাজির হলেন সিপি মনোজ ভর্মা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তল্লাশির মাঝেই মমতা প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলেন সবুজ ফাইল হাতে নিয়ে। সঙ্গে ছিল মোবাইল ফোন এবং হার্ডডিক্স। আর এবার তদন্তে (I-PAC ED Raid Case) বাধার অভিযোগে হাইকোর্টে মামলা করল ED!
সবুজ ফাইল হাতে নিয়ে বেরিয়ে এলেন মমতা
তৃণমূলের নির্বাচনী কৌশল রচনাকারী সংস্থা আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈন ও সংস্থার দফতরে তল্লাশি ঘিরে সকাল থেকে নাটকীয় পরিস্থিতি চলছে। ED তল্লাশির সময় সরাসরি প্রতীক জৈনর বাড়িতে ঢুকে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকে একটা ফাইল, মোবাইল ফোন এবং হার্ডডিক্স সংগ্রহ করে বেরিয়ে আসেন তিনি। সংবাদমাধ্যমের সামনে অভিযোগ করেন, তৃণমূলের সংগঠনের খুঁটিনাটি, প্রার্থী তালিকা, SIR সংক্রান্ত কাজের খুঁটিনাটি হাতিয়ে নিতেই এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট-কে দিয়ে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার এই তল্লাশি চালাচ্ছে। তলাশীর মধ্যেই এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিয়ে আশায় প্রশ্ন উঠছে তদন্তে নিরাপত্তা নিয়ে। এবার আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিল ED।
হাইকোর্টে মামলা দায়ের ED-র
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ খারিজ করে পাল্টা বিবৃতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ED। তাদের দাবি, “সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তি অবৈধভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ফাইল ছিনিয়ে নিয়েছেন। নির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। কোনও রাজনৈতিক দলের কার্যালয়কে টার্গেট করা হয়নি। কয়লা পাচার মামলায় পশ্চিমবঙ্গ ও দিল্লির ১০ জায়গায় তল্লাশি চলছে। কলকাতার ছয় জায়গায় এবং দিল্লির চার জায়গায় তল্লাশি অভিযান চলছে। এই তল্লাশি অভিযানের সঙ্গে ভোটের কোনও সম্পর্ক নেই।” এই বিবৃতি সামনে আসার পরপরই আইপ্যাকের তল্লাশিতে ‘বাধা’ দেওয়ার অভিযোগ তুলে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে ED। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এই মামলা দায়ের হয়েছে। আগামী কাল শুনানির সম্ভবনা রয়েছে।
আরও পড়ুন: প্রশান্ত কিশোরের সংস্থার ডিরেক্টর, সাতসকালে হানা দেয় ED! কে এই প্রতীক জৈন?
মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ শুভেন্দুর
প্রসঙ্গত, মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপে ED-র পাশাপাশি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী যা করলেন, তা সাংবিধানিক কাজে হস্তক্ষেপ এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়া। আমি এই কাজের নিন্দা জানাই। তিনি শুধু রাজনৈতিক নেত্রী নন, প্রশাসনিক কর্ত্রীও। ইডির উচিত তাদের ক্ষমতা অনুযায়ী মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া। তারা আইনের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেবেন বলেই আমি আশা করি।”












