প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ভোটের আবহে ফের খবরের শিরোনামে উঠে এল IPAC মামলা (IPAC ED Case)। আজ সুপ্রিম কোর্টে মামলার শুনানি শুরু হলে ফের বিতর্কের মুখে পড়ে রাজ্য। জানা গিয়েছে ইডির হলফনামার জবাব জমা দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত সময় চেয়েছে। আর তাই নিয়ে বিরোধিতা করল ED। ভোটের ঠিক আগেই আই-প্যাককে ঘিরে কেন্দ্র ও রাজ্যের টানাপোড়েন এখন চরমে। এমতাবস্থায় ED-র অভিযোগের উত্তর দিতে রাজ্য সরকারকে সময় দিল সর্বোচ্চ আদালত।
IPAC মামলার শুনানি সুপ্রিম কোর্টে
আজ বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং এন ভি আঞ্জারিয়া-র বেঞ্চে এই মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু এদিন শুনানির সময় পশ্চিমবঙ্গ সরকার ইডির হলফনামার জবাব জমা দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত সময় চেয়েছে। তবে সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা এই আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, এই মামলাকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্বিত করার চেষ্টা করছে রাজ্য। ইডি ইতিমধ্যেই দুই সপ্তাহ আগে তাদের প্রতিক্রিয়া আদালতে দাখিল করেছে। এদিন আইপ্যাক মামলা স্থগিত করার রাজ্যের সিদ্ধান্তকে খারিজ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। তবে ইডির অভিযোগের জবাব দিতে রাজ্যকে অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছে।
বিরোধিতা করল কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর
রিপোর্ট মোতাবেক আজ রাজ্যের তরফে ইডির মামলার যৌক্তিকতা নিয়েই প্রশ্ন তোলা হয়। আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী বলেন, “আমরা মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে শুনানি চাই।” এরপরই বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রর তরফে বলা হয়, “শুনানি শুরু করা হোক। আপনারা (রাজ্য) ইডির পাল্টা হলফনামা জমা দিতে চাইছেন। আবার মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন? আপনাদের মূল অবস্থান কী?” কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল সময় চাওয়ার আর্জির বিরোধিতা করে বলেন, “এটা অত্যন্ত আশ্চর্যজনক যে, একজন মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তে হস্তক্ষেপ করছেন। আর এখন আবার মামলার শুনানিতে দেরি করা হচ্ছে?” এরপরই দুই পক্ষের উদ্দেশেই বিচারপতি বলেন, “শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার লড়াই চলছে না। আপনারা সওয়াল শুরু করুন।”
আরও পড়ুন: ‘অবৈধভাবে পশ্চিমবঙ্গে আটক স্ত্রী’, উদ্ধারের দাবিতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ বাংলাদেশি নাগরিক
মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবীর অতিরিক্ত সময়ের আবেদনের প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র বলেন, “চার সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে। আপনারা এত দিনেও কেন পাল্টা জবাব দিলেন না?” যদিও পড়ে ইডির অভিযোগের জবাব দিতে রাজ্যকে অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছে। এদিকে ইডি ইতিমধ্যেই দুই সপ্তাহ আগে তাদের প্রতিক্রিয়া আদালতে দাখিল করেছে। যেখানে বলা হয়, নথি নেওয়ার আগে কোনও তদন্তকারী আধিকারিকের অনুমতি নেননি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যে নথিগুলি নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা তৃণমূলের নাকি কয়লাপাচারের সে সম্পর্কে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। এছাড়াও ED এও দাবি করেছিল যে ইডি র আধিকারিকদের কাজে বাধা দিয়ে মৌলিক অধিকার খর্ব করা হয়েছে।












