বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: হাওড়া-মুম্বই লাইনে চাপ কমাতে এবার বিশেষ পদক্ষেপ কেন্দ্রীয় রেল মন্ত্রকের (Indian Railways)। হাওড়া-মুম্বই ট্রেন লাইনের যাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে ট্রেনে ভিড় কমানোর লক্ষ্যে নতুন প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কথায়, হাওড়া থেকে মুম্বই অংশে কাসারা এবং মানমাডের মধ্যে অন্তত 131 কিলোমিটার অংশে তৃতীয় এবং চতুর্থ রেললাইন তৈরি করার পরিকল্পনা ছিল। সেই প্রকল্পে অবশেষে মিলেছে অনুমোদন। যদিও পার্বত্য অঞ্চলের মধ্য দিয়ে নতুন রেললাইন স্থাপনের কাজটা যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং হবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
10 হাজার 154 কোটির প্রকল্প
মুম্বই থেকে উত্তর ভারত ও পূর্ব ভারতকে যুক্ত করে থাকে কাসারা-মানমাড সেকশন। ভারতীয় রেল সূত্রে খবর, এই শাখায় বেশিরভাগ এলাকাই পাহাড়ি। ফলে হঠাৎ করে মাঝপথে ট্রেনে কোনও সমস্যা দেখা দিলে প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে দিয়ে বাড়তি লোকোমোটিভ নিয়ে যাওয়াটা যথেষ্ট কঠিন কাজ। তাছাড়াও এই লাইনে যে কয়টি ট্রেন রয়েছে তাতে যাত্রীদের চাপ প্রচুর। মূলত সেসব কথা মাথায় রেখেই এবার কাসারা-মানমাডের মধ্যে 131 কিলোমিটার অংশে নতুন দুটি রেল লাইন স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় রেলওয়ে।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিশেষ রেললাইন নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে কেন্দ্রীয় সরকারের খরচ পড়বে কম করে 10 হাজার 154 কোটি টাকা। এ নিয়ে রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের অধীনে 131 কিলোমিটার অংশে 28 কিলোমিটার লাইন টানেলের মধ্যে দিয়ে যাবে। এই অংশে তৈরি করা হবে, একসাথে পাঁচটি টানেল। তাতে টানেলের মধ্যে দিয়েই ঘুরে যাবে লাইনগুলি। ফলে আলাদা করে লোকোমোটিভ নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন পড়বে না।
অবশ্যই পড়ুন: হোলিতে দীঘা যাওয়ার প্ল্যান? স্পেশাল ট্রেন নিয়ে বড় সুখবর দিল রেল
এখানেই শেষ নয়, তৃতীয় এবং চতুর্থ রেললাইন তৈরির যে বিরাট কর্মকাণ্ড ভারতীয় রেল নিয়েছে সেই বিশেষ প্রকল্পের অধীনে তৈরি করা হবে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজ। এছাড়াও 16টি মাঝারি ধাঁচের ব্রিজ এবং 218টি ছোট ব্রিজ তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে রেলের। এ প্রসঙ্গে রেলমন্ত্রীর যা দাবি, হাওড়া থেকে মুম্বাই সেকশনে কাসারা-মানমাড অংশে তৃতীয় এবং চতুর্থ লাইন তৈরি করা গেলে বর্তমানে হাওড়া থেকে মুম্বই পর্যন্ত যাতায়াতে যে সময় লাগে সেই সময় অনেকটাই কমে আসবে। রেল মন্ত্রকের তরফে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় রেলের এই বিশেষ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে 5 বছর বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে।











