বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: এ বাংলায় রয়েছে কম-বেশি প্রায় সাড়ে 700 রেল স্টেশন (Indian Railways)। যেগুলির প্রত্যেকটি একে অপরের থেকে আলাদা। পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal) এমন একাধিক স্টেশন রয়েছে যেখানে সারা দিনে একটি ট্রেনও চলে না। আবার এমন স্টেশনও রয়েছে যে স্টেশন থেকে প্রতিদিন যাতায়াত করেন লক্ষাধিক মানুষ। ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য থেকে শুরু করে গঠন সবদিক থেকেই একে অপরের থেকে আলাদা স্টেশনগুলি। তবে অনেকেই হয়তো জানেন না, বাংলার বুকেই রয়েছে এক এবং অদ্বিতীয় দোতলা স্টেশন। কিন্তু কোথায় সেটি?
বাংলার একমাত্র দোতলা স্টেশন কোথায় রয়েছে?
সালটা 1885। সে বছরই তৈরি হয়েছিল হাওড়া-তারকেশ্বর রুট। ভারতীয় রেলের হাত ধরে এই রুট নির্মাণের পাশাপাশি তৈরি হয় কামারকুন্ডু স্টেশনও। পরবর্তীতে 1917 সালে নির্মাণ করা হয় হাওড়া-বর্ধমান কর্ড লাইন। যা এই স্টেশনের উপর থেকেই গিয়েছে। না বললেই নয়, বাংলার একমাত্র দোতলা স্টেশন কামারকুন্ডু দিয়ে মেইন এবং কর্ড উভয় লাইনেরই ট্রেন যাতায়াত করে।
সব ঠিক থাকলে, এই কামারকুন্ডু স্টেশনটি হয়ে উঠতে পারতো জংশন। তবে স্টেশনটিকে জংশন তৈরি না করে হাওড়া তারকেশ্বর এবং হাওড়া বর্ধমান দুই লাইনকে আলাদাভাবে নিয়ে যাওয়া হয় এই স্টেশনের উপর দিয়ে। ফলে তৈরি করতে হয় আলাদা আলাদা দুটি স্টেশন। যদিও প্রথম স্টেশন অর্থাৎ হাওড়া থেকে বর্ধমান লাইনের স্টেশনে চারটি প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। এই স্টেশন থেকে 100 মিটার দূরে রয়েছে হাওড়া-শেওড়াফুলি বা তারকেশ্বর লাইনের দ্বিতীয় স্টেশনটি।
দ্বিতীয় স্টেশনটিতে রয়েছে মূলত আপ এবং ডাউন দুটি প্ল্যাটফর্ম। দুটি স্টেশনই কামারকুন্ডু স্টেশন হলেও দ্বিতীয় স্টেশনটি আপাতদৃষ্টিতে 4 প্ল্যাটফর্মের মেইন লাইনের স্টেশনের তুলনায় অনেকটাই উঁচুতে। প্রথম স্টেশনটির টিকিট কাউন্টারের পাশ থেকে RPF অফিস হয়ে সিঁড়ি দিয়ে উঠতে হয় দ্বিতীয় দোতলা স্টেশনটিতে। আসলে যেসব যাত্রীরা হাওড়া শেওড়াফুলি বা হাওড়া তারকেশ্বর রুটের ট্রেন ধরতে চান তাদের আসতে হয় এই স্টেশনে।
অবশ্যই পড়ুন: ৫০ কিমি বেগে হাওয়া, বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টি দক্ষিণবঙ্গের ৫ জেলায়! আজকের আবহাওয়া
সব মিলিয়ে, মেন লাইনের স্টেশনটির তুলনায় অনেকটাই উঁচুতে থাকায় কামার কুন্ডু স্টেশনটিকে বাংলার একমাত্র দোতলা স্টেশন বলা হয়ে থাকে। বলে রাখা প্রয়োজন, হাওড়া বর্ধমান লাইনে বন্দে ভারত থেকে শুরু করে রাজধানীর মতো গুরুত্বপূর্ণ একাধিক মেল বা সুপার ফাস্ট এক্সপ্রেস ট্রেন এই কামারকুন্ডু স্টেশনের উপর দিয়েই যায়।












