প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: অল্প বৃষ্টি হতেই কলকাতার আনাচে কানাচে রাস্তায় জমা জলের (Waterlogging In Kolkata) পরিমাণ এতটাই বেড়ে যায় যে মহাসমস্যার মুখে পড়েন বাসিন্দারা। প্রতি বছর এই একই চিত্র দেখে আসছে সকলে। ড্রেনেজ সিস্টেম এতটাই খারাপ যে দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহ ধরে সেই জল জমে থাকে রাস্তাঘাটে, যার ফলে এক অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হয়। তবে এবার সেই জমা জলের দুর্ভোগ কাটাতে বড় পদক্ষেপ নিল কলকাতা পুরসভা। ২০০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প শুরু করতে চলেছে এই পুরনিগম।
২০০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প কলকাতায়
রিপোর্ট মোতাবেক, কলকাতা পুরসভা সম্প্রতি ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট তৈরি করেছে। আর সেখানেই মধ্য ও উত্তর কলকাতার জলযন্ত্রণার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এই সমস্যা নিয়ে বিভিন্ন আলোচনার মধ্যেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে জলযন্ত্রণা কাটাতে ২০০ কোটি টাকার বেশি মূল্যের একটি মেগা প্রকল্প চালু করা হবে। আর এই প্রকল্পের আওতায় আর্মহাস্ট স্ট্রিটে একটি পাম্পিং স্টেশন তৈরি করা হবে। পাশাপাশি মৌলালি থেকে পালমার ব্রিজ পর্যন্ত ১৪৮ বছরের পুরনো নিকাশি লাইন নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এছাড়াও পালমার ব্রিজ পাম্পিং স্টেশনে দুটি পাম্প বসানো হবে।
উপকৃত হবে ১০ লাখ মানুষ
প্রতি বছর বৃষ্টি হলেই এমনিতেই মধ্য ও উত্তর কলকাতার বিস্তীর্ণ অংশে জল দাঁড়িয়ে যায়। কোথাও কোমরে পেরিয়ে যায় জল তো কোথাও আবার হাঁটু-সমান জল দাঁড়িয়ে যায়। তাই অতিরিক্ত জল বের করার জন্য আরও কয়েকটি উচ্চক্ষমতার পাম্প বসানোর কথা ভেবেছে পুরনিগম কর্তৃপক্ষ। তাঁদের আশা যদি সবকিছু ঠিকঠাক হয়, তাহলে মেগা প্রকল্পের ফলে আর্মহার্স্ট স্ট্রিট, ক্যামাক স্ট্রিট, চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ, লেনিন সরণি, রিপন স্ট্রিট, এপিসি রায় রোড, বিধান সরণি, এজেসি বোস রোড, পার্কস্ট্রিটের মতো বিভিন্ন এলাকার কমপক্ষে ১০ লাখ মানুষ উপকৃত হবেন।
আরও পড়ুন: ‘পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কর্মীদের বকেয়া DA দিতে বাধ্য হবে নবান্ন’ এল আশ্বাসবাণী
প্রসঙ্গত, গত বছর পুুজোর প্রায় ২ সপ্তাহ আগে কলকাতায় এক রাতে মেঘ ভাঙ্গা বৃষ্টির জেরে চারিদিকে ভয়াবহ অবস্থা হয়েছিল। কয়েকমাস ধরে বানানো প্যান্ডেল ভেঙে গিয়েছিল। সেই সময় এই দুরাবস্থার জন্য প্রশাসনের দিকে আঙুল উঠেছিল এবং প্রশ্ন উঠেছিল কলকাতার নিকাশি ব্যবস্থা নিয়ে। যদিও সেই সময় দিন রাত এক করে সেই সমস্যা মেটানো হয়েছিল। আর এই বিপদ যাতে পুনরায় না ঘটে তাই বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই মেগা প্রকল্প শুরু করার চিন্তাভাবনা করছে কলকাতা পুরনিগম কর্তৃপক্ষ।











