প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: দুর্গাপুজো হোক কিংবা অন্য কোনো উৎসব, সব কিছুতেই কলকাতা শহর ঢেকে যায় বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের হোর্ডিং-এ। আর তাতেই ক্রমশ বাড়তে থাকে দৃশ্যদূষণ। আর তাইতো শহরে হোর্ডিং-দৌরাত্ম্য রুখতে নয়া নীতি চালু করেছিল কলকাতা পুরসভা। সব পক্ষের কথা মাথায় রেখেই আনা হয়েছিল নতুন এই হোর্ডিং নীতি। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল নতুন বিজ্ঞাপন নীতি (KMC New Advertisement Policy) বাস্তবায়নের পর তার ফলও মিলল দ্রুত। জানা গিয়েছে একটি ছোট্ট বিজ্ঞাপন জোন নিলাম করেই সরকারি কোষাগারে ঢুকেছে বিপুল অর্থ।
নতুন নীতিতেই উপচে পড়ছে লাভের কোষাগার
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, শেক্সপিয়ার সরণী, ক্যামক স্ট্রিট, পার্ক স্ট্রিট এই জোন বিজ্ঞাপনের জন্য টেন্ডার ডাকতো। এবং এত দিন কোষাগারে এসেছিল 5 কোটি। কিন্তু গত বছর এই জোনটিকে ই-নিলাম করে দেওয়া হয়েছিল ভিন রাজ্যের একটি বিজ্ঞাপন সংস্থাকে। নিলাম শেষে চুক্তিও হয়েছে ভিন রাজ্যের সেই সংস্থার সঙ্গে যে কোম্পানিটি তাদের সুবিধা মতো হোর্ডিং কাঠামো রাখবে, প্রয়োজনে স্থান পরিবর্তন বা খুলে ফেলতে পারবে। এবার তাতেই লাভের অঙ্ক যেন দ্বিগুণেরও অধিক হল। রিপোর্ট বলছে ওই জোন থেকে এক বছরে কলকাতা কর্পোরেশনের কোষাগারে এসেছে 16 কোটি টাকার বেশি। আর তাতেই অবাক সকলে। আর সবচেয়ে নজরকাড়া বিষয় হল সেই জোনও ধীরে ধীরে দৃশ্য দূষণও মুক্ত হচ্ছে।
কমবে দৃশ্যদূষণ
বিশেষ উদ্যোগের মাধ্যমে এত বড় সাফল্য নিয়ে কলকাতা কর্পোরেশনের এক আধিকারিক জানান, “দীর্ঘ চেষ্টা এবং নানা সিদ্ধান্ত আলোচনার পর আমরা একটা সুন্দর বিজ্ঞাপন নীতি তৈরি করেছি যেটা অত্যন্ত সময়োপযোগী। এর ফলে কোষাগার পূর্ণ হবে এবং শহরের দূষণ কমবে। কাঠামোর বদলে বাড়বে এলইডি বোর্ড। আরও সুন্দর হবে শহরের রাস্তা। যে সংস্থার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে তারা এতদিন কলকাতা বিমান বন্দর ও দিল্লি মুম্বই শহরে কাজ করে থাকে। তবে এবার তাঁরা কলকাতা শহরের কাজে ঢুকতে চলেছে। যা আমাদের কাছে অত্যন্ত গর্বের বিষয়।”
আরও পড়ুন: ৪ রাউন্ড গুলি, ঝাঁঝরা হল প্রোমোটার! ভয়ঙ্কর শ্যুটআউটে আতঙ্ক হাওড়ায়
প্রসঙ্গত, কলকাতা কর্পোরেশন সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের বিভিন্ন বিজ্ঞাপন জোনগুলির মধ্যে সব থেকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন এই জোন। এইমুহুর্তে 33-35 হাজার বর্গফুটের হোর্ডিং থাকলেও সেটিও ভবিষ্যতে কমতে চলেছে। ধাপে ধাপে কমে সেটা 15-18 হাজার বর্গ ফুট হবে। প্রায় অর্ধেক জায়গা উন্মুক্ত হবে। শুধু তাই নয়, নিয়ম মতো প্রতি তিন বছর বাদে বাদে 5 শতাংশ দর বৃদ্ধি পাবে। তবে সংস্থা মনে করলে আরও এলইডি প্যানেল বসাতে পারে। কিন্তু সেক্ষেত্রে কলকাতা কর্পোরেশনকে অতিরিক্ত টাকা দিতে হবে।












